ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ০২ জুলাই ২০২০,   আষাঢ় ১৮ ১৪২৭,   ১১ জ্বিলকদ ১৪৪১

DinBodolBD
সর্বশেষ:
বৃষ্টির কারণে ত্রিদেশীয় টি-টোয়েন্টি সিরিজের উদ্বোধণী ম্যাচ শুরু হবে সন্ধ্যা ৬.৩০ মিনিটে

পাখির জন্য ভালোবাসা

প্রকাশিত: ১৮:০৪, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯   আপডেট: ১৮:০৪, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার তালুককানুপুর ইউপির উত্তরপাড়া গ্রামের আহম্মদ উল্ল্যাহ। বুনো পাখি ও পরিবেশ সংরক্ষণে ভালোবাসার এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তিনি।

পাখিদের প্রেমে পড়ে গড়ে তোলেন প্রকৃতি ও পরিবেশ সংরক্ষণ সংস্থা (ন্যাচার অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট প্রিজারভেশন অর্গানাইজেশন- নিপো)। এ সংগঠনের উদ্যোগে ২০০১ সাল থেকে গোবিন্দগঞ্জের দরবস্ত, তালুককানুপুর, কোচাশহর ইউপিসহ বিভিন্ন এলাকায় পাখি, প্রকৃতি ও পরিবেশ সংরক্ষণে কাজ শুরু করেন ৩৫ তরুণ।
তাদের উল্লেখিত কাজের মধ্যে রয়েছে, দুটি বিরল প্রজাতির আহত হুতুম ছানাকে সুস্থ করে তোলা। তালুককানুপুর ইউপির রাঘবপুর গ্রামে বাঁশের সাঁকো নির্মাণ, ঝড়ের মধ্যে মাটিতে পড়ে যাওয়া বিরল প্রজাতির চিল ছানাকে ছোট থেকে বড় করে অবমুক্ত করা, স্কুল-কলেজ, মাদরাসা শিক্ষার্থীদের মাঝে প্রকৃতি ও পরিবেশ সংরক্ষণে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য কুইজ প্রতিযোগিতা, ধানের জমিতে পাখি দিয়ে পোকামাকড় দমনের জন্য কঞ্চি পোতা অভিযান, স্বাস্থ্যসেবাসহ অন্যান্য সচেতনতামূলক কাজ।

শুরুতেই তালুককানুপুর ইউপি ও পার্শ্ববর্তী সমসপাড়া, ফকিরপাড়া, কবিরাজপাড়া, কাপাসিয়া, ছোট নাগবাড়ি গ্রামে তারা তাদের কার্যক্রম শুরু করে। এভাবে ২০১০ সাল পর্যন্ত নিজ খরচে এসব গ্রামে দুই হাজার কলস স্থাপন করা হয়। বিশেষ করে অবাধ বৃক্ষ নিধনের কারণে পাখিরা এখন বাসা বানিয়ে প্রজনন করার মতো নিরাপদ গাছ পাচ্ছে না। পাখি শিকার বন্ধ না হওয়ায় নানা প্রজাতির দেশীয় পাখি এরইমধ্যে হারিয়ে গেছে।
আহম্মদ উল্লাহ জানান, গোবিন্দগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় গাছে হাঁড়ি, কলস স্থাপন ও গাছের শাখায় কৃত্রিম গর্ত করে ছোট ছোট মাটির পাতিল বসানো হয়েছে। ফলে প্রায় পাঁচ হাজার পাখির নিরাপদ আশ্রয়স্থল হয়েছে।

তাদের পাখি ও পরিবেশ সংরক্ষণ কার্যক্রম দেখার জন্য দেশের বিভিন্ন স্থানের মানুষ গোবিন্দগঞ্জে আসেন। এরইমধ্যে নিপো তাদের কার্যক্রম বগুড়া, কুষ্টিয়া, ময়মনসিংহ, জয়পুরহাট, গাজীপুর ও রংপুরে সম্প্রসারিত করেছে।

এ ধরনের উল্লেখযোগ্য কাজের জন্য সংস্থাটি ও এর উদ্যোক্তা আহম্মদ উল্লাহ রাজশাহী বিভাগীয় পরিবেশক পদক, জাতীয় পরিবেশ সংরক্ষণ সনদপত্র, জাতীয় পরিবেশ স্বর্ণপদক ও জয় বাংলা ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ডসহ একাধিক পদক পেয়েছেন।

উপজেলার উত্তরপাড়া গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আলাউদ্দিন মিয়ার ছেলে আহম্মদ উল্লাহ এ কাজের জন্য নিজ গ্রামেই নয়, গোটা গোবিন্দগঞ্জ উপজেলাতেই এখন অতি পরিচিত একটি নাম।