ঢাকা, বৃহস্পতিবার   ০২ জুলাই ২০২০,   আষাঢ় ১৭ ১৪২৭,   ১১ জ্বিলকদ ১৪৪১

DinBodolBD
সর্বশেষ:
বৃষ্টির কারণে ত্রিদেশীয় টি-টোয়েন্টি সিরিজের উদ্বোধণী ম্যাচ শুরু হবে সন্ধ্যা ৬.৩০ মিনিটে

বাংলাদেশ থেকে ভারতের যা শেখার আছে

প্রকাশিত: ১৯:৪৮, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯  

ভারতের অর্থনীতি নিয়ে একের পর এক যেসব দুঃসংবাদ আসছে, সে বিষয়ে খোঁজখবর করতে গিয়ে জানলাম, বিশ্বের পোশাক রপ্তানিকারক দেশের তালিকায় বাংলাদেশ দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, যেসব কোম্পানি চীনা শ্রমিকদের দিয়ে পোশাক তৈরি করাকে বেশি খরচসাপেক্ষ মনে করছে, তারা এখন চীন ছেড়ে বাংলাদেশ ও ভিয়েতনামের দিকে চলে আসছে। এর মধ্য দিয়ে আরও একবার দেখা যাচ্ছে স্বল্প খরচে পণ্য উৎপাদন খাতে শ্রমভিত্তিক শিল্প প্রতিষ্ঠায় ভারত অনেকটাই পিছিয়ে আছে।

স্বাধীন দেশ হিসেবে বাংলাদেশের ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যাবে, রপ্তানি খাতে দেশটির সাফল্য উল্লেখ করার মতো। অনেকের মতে, এই সাফল্য অলৌকিক ঘটনার মতো। অনেক খাতেই দেশটির অনেক অর্জন ভারতকে ছাড়িয়ে গেছে। বাংলাদেশে সফলভাবে পরিবার পরিকল্পনাবিষয়ক একটি কার্যক্রম চলছে। লিঙ্গসমতার দিক থেকেও ভারতের চেয়ে বাংলাদেশ এগিয়ে আছে।

সত্তরের দশকে আমি নিয়মিত বাংলাদেশে যেতাম। পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ও বাংলাদেশের মুক্তিবাহিনীর রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের সময় নদীমাতৃক দেশটির অধিকাংশ সেতু ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। পারাপারে ব্যবহার্য বেশির ভাগ নৌযান ডুবিয়ে দেওয়া হয়েছিল। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি একেবারে ভেঙে পড়েছিল। তরুণ মুক্তিযোদ্ধারা তাঁদের শোষক রাষ্ট্রব্যবস্থার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিলেন। সেনাসদস্যদের মধ্যে যাঁরা পূর্ব পাকিস্তানে ছিলেন, তাঁরা মুক্তিবাহিনীর সঙ্গে যোগ দেন এবং যাঁরা পশ্চিম পাকিস্তানে ছিলেন, তাঁরা সেখানে আটকা পড়েন। যুদ্ধের কারণে বাংলাদেশের অর্থনীতি একেবারে ভেঙে পড়েছিল এবং এর ধারাবাহিকতায় ১৯৭৪ সালে দেশটি দুর্ভিক্ষের কবলে পড়ে। ওই দুর্ভিক্ষে সরকারি হিসাবে ২৭ হাজার মানুষ না খেয়ে মারা যায়। বেসরকারি হিসাবে এই সংখ্যা প্রায় ১৮ লাখ। এরপর ১৯৭৫ সালে শেখ মুজিবুর রহমান পরিবারের প্রায় সব সদস্যসহ নিহত হওয়ার পর দেশটিতে পরপর অভ্যুত্থান-পাল্টা অভ্যুত্থান হয় এবং দেশটি রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে পড়ে যায়।