যে ৪ ভুল আপনার কোরবানি অর্থহীন করে দিতে পারে

দিন বদল বাংলাদেশ ডেস্ক || দিন বদল বাংলাদেশ

প্রকাশিতঃ সকাল ১১:২১, শুক্রবার, ৮ জুলাই, ২০২২, ২৪ আষাঢ় ১৪২৯

কোরবানি ইসলামের একটি মহান নিদর্শন। তবে এই মহান ইবাদত সম্পাদন করতে গিয়ে মারাত্মক কিছু ভুল হয়ে যায় অনেকের। যে ভুলগুলো কোরবানিকে অর্থহীন করে দিতে পারে। এ সম্পর্কিত অন্যতম ৪টি ভুল নিয়ে আলোচনা করা হলো।

উদ্দেশ্য সঠিক না হওয়া: অনেকে ভুল বা অশুদ্ধ নিয়তে কোরবানি করেন। যেমন প্রতি বছর কোরবানি করে থাকি, এ বছর না করলে বাচ্চা-কাচ্চার মন ছোট হবে অথবা আত্মীয়-স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশীর কাছে ছোট হয়ে যাব। আবার অনেকে চিন্তা করেন, গোশত তো এমনিতেই কিনতে হয়, তার চেয়ে কোরবানি করলে ফ্রেশ গোশত পাওয়া যাবে। এসব উদ্দেশ্য থাকলে কোরবানি করা আর না করা সমান। বরং সেটি শিরকে আসগরে পরিণত হতে পারে।

কসাইকে গোশত দেওয়া: আরেকটি বড় ভুল হলো—কসাইকে আমরা অনেক সময় কোরবানির গোশত দিয়ে থাকি। অনেক অঞ্চলে দেখা যায়, জবাইকারীকে পশুর মাথা বা কিছু অংশ দিয়ে দেওয়া হয়। এটি সম্পূর্ণ নাজায়েজ একটি কাজ। নবী কারিম (স.) এ ভুল থেকে পরিষ্কারভাবে নিষেধ করেছেন। কসাইকে কোরবানির গোশত দেওয়া মানে পারিশ্রমিক দেওয়া।

ভুল নিয়মে জবাই: জবাইয়ের সময় পশুর চারটি রগের তিনটি কাটা নিশ্চিত করতে হবে। অনেক সময় জবাইকারী একটুখানি ছুরি চালানোর পর ছোট ছুরি দিয়ে পশুর গলায় জোরে আঘাত করেন, যা সম্পূর্ণ নাজায়েজ ও গর্হিত কাজ। এতে পশু জবাই হলো না বরং আঘাতে হত্যা করা হলো। চিকিৎসা বিজ্ঞানের আলোকে পশু জবাইয়ের যে স্থানে তীক্ষ্ণ ছুরি দিয়ে আঘাত করা হয়, সেটি মূলত- ‘মেরুরজ্জু বা স্পাইনাল কর্ড’ এর অংশ। ছুড়ির আঘাতে পশুর স্পাইনাল কর্ড বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলেই পশুর দেহ থেকে মস্তিষ্কের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ফলে পশুটি হার্ট অ্যাটাক করে এবং মারা যায়। তখন এটি জবাই সাব্যস্ত না হয়ে হত্যায় পরিগণিত হয়।

আরো বড় বিপদ হচ্ছে, স্পাইনাল কর্ডের সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে সব রক্ত পশুর দেহ থেকে বের হতে পারে না। পশুর দেহের মাংশপেশিতেই রক্ত জমাট বেঁধে যায়। শিরা উপসিরা থেকে পুরোপুরি রক্ত বের হতে না পারলে গোশত দূষিত হয়ে যায়। কোরবানি করা পশুর এ দূষিত গোশত খেলে অনেক সময় ক্যান্সার, এইচবিএএসসহ অন্তত ১৮ ধরনের জটিল রোগের সৃষ্টি হওয়ার প্রবল আশঙ্কা থাকে। তাই সঠিক পদ্ধতিতে কোরবানি ও স্বাভাবিক জবাই সম্পন্ন করা জরুরি। এজন্য প্রাণীর চারটি রগের মধ্যে কমপক্ষে তিনটি রগ কাটা নিশ্চিত করতে হবে। চারটি রগ হলো- শ্বাসনালী, খাদ্যনালী ও দুটি রক্তনালী বা শাহরগ।

বর্জ্য যত্রতত্র ফেলে রাখা: এই ভুলটা প্রায় সবাই করে থাকেন। কোরবানির পর পশুর রক্ত, বর্জ্য, বিভিন্ন খণ্ডিত অংশ যত্রতত্র ফেলে দেওয়া কঠিন গুনাহের কাজ। এতে মানুষকে কষ্ট দেওয়া হয়। আর মহান আল্লাহ মানুষকে কষ্ট দেওয়া খুবই অপছন্দ করেন। মনে রাখতে হবে, বর্জ্যের কারণে পচা দুর্গন্ধ সৃষ্টি হয়, নালা নর্দমায় ফেলে দিলেও সমান কষ্ট।

এতে মশা ও রোগজীবাণু বিস্তারলাভ করে। বৃষ্টিপাত বা বন্যা হলে তো ওই বর্জ্যের কারণে মানুষের কষ্টের শেষ থাকে না। তাই বর্জ্য অপসারণে নিজের দায়িত্ব সম্পূর্ণভাবে পালন করতে হবে। যারা শহরে বাস করেন, তারা সিটি করপোরেশনের নির্দেশনা মেনে চলবেন এবং গ্রামাঞ্চলের মানুষ পরিত্যক্ত স্থানে মাটির নিচে বর্জ্য ভালোভাবে চাপা দেবেন, যাতে বাইরে কোনোভাবেই গন্ধ বা রক্তের কোনো চিহ্ন প্রকাশিত না হয়। মনে রাখতে হবে, রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরিয়ে দেওয়া ঈমানের দাবি। 

দিনবদলবিডি/এমআর

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়