কূটনৈতিক শিষ্টাচার লঙ্ঘন: নজিরবিহীন প্ৰতিক্রিয়া বাংলাদেশের!

নিউজ ডেস্ক || দিন বদল বাংলাদেশ

প্রকাশিতঃ বিকাল ০৩:৫৪, শনিবার, ২২ জুলাই, ২০২৩, ৭ শ্রাবণ ১৪৩০
ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

বাংলাদেশের বিভিন্ন বিষয়ে বক্তব্য-বিবৃতি দিয়ে আসছেন রাষ্ট্রদূতরা। আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রধানরাও নাক গলাতে শুরু করেন। বিদেশিদের এমন কর্মকাণ্ড স্বাধীন দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের শামিল হিসেবে দেখছে সরকার। এ নিয়ে ক্ষোভ জানিয়েছেন একাধিক মন্ত্রী।

দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের বাকি হাতেগোনা আর কয়েক মাস। ভোট ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গন সরগরম থাকলেও আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দু কূটনীতি। ভোটের উসিলায় বেড়েই চলেছে বিদেশিদের কূটনৈতিক তৎপরতা। তারা মাথা ঘামাচ্ছেন অভ্যন্তরীণ ছোটখাটো বিষয় নিয়েও। কিন্তু ঢাকায় কর্মরত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতদের এমন ‘আস্ফালন’ ভালো নজরে দেখছে না সচেতন মহল। এ নিয়ে শাসক দলকেও ভাবাচ্ছে নতুন করে। তবে এরই মধ্যে কূটনীতিকদের লাগামহীন শিষ্টাচার লঙ্ঘনে পদক্ষেপ নেয়ার কড়া বার্তা দিয়েছে সরকার।

জানা যায়, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের আয়োজনে বাংলাদেশের বিভিন্ন বিষয়ে লাগাতার বক্তব্য-বিবৃতি দিয়ে আসছেন এখানকার রাষ্ট্রদূতরা। ‘পান থেকে চুন খসলে’ আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রধানরাও নাক গলাতে শুরু করেন। বিদেশিদের এমন কর্মকাণ্ড স্বাধীন দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের শামিল হিসেবে দেখছে সরকার। এ নিয়ে ক্ষোভ জানিয়েছেন একাধিক মন্ত্রী। তবে সম্প্রতি বাংলাদেশ নিয়ে মন্তব্যকারীদের বয়কট করতে গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, বাংলাদেশে কিছু হলেই আগ বাড়িয়ে কথা বলেন কূটনীতিকরা। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশ নিয়ে এসব মোড়লের মাথাব্যথা নেই। এমনকি পশ্চিমবঙ্গে পঞ্চায়েত নির্বাচনে ৪০ জন প্রাণ হারালেও কথা বলেনি পৃথিবীর কোনো দেশ। আসলে দক্ষিণ এশিয়ার এই দেশটির অভ্যন্তরীণ বিষয়ে কথা বলতে মজা পান বিদেশিরা। মনে হয় বাংলাদেশকে ‘মগের মুল্লুক’ পেয়েছেন তারা। এছাড়া তারা ভিয়েনা কনভেনশনও মানছেন না। তবে এমন শিষ্টাচার চলতে থাকলে অবশ্যই কূটনীতিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সূত্রমতে, এর আগেও  রাষ্ট্রদূতদের স্বেচ্ছাচারিতা নিয়ে ক্ষোভ জানিয়েছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। কিন্তু এবারের মতো কড়া ভাষায় প্রতিক্রিয়া আর কখনও জানাননি। এমনকি হিরো আলমকে নিয়ে টুইট করায় ঢাকায় জাতিসংঘের ভারপ্রাপ্ত আবাসিক সমন্বয়কারী শেলডন ইয়েটকে তলব করে অসন্তোষ জানানো হয়। এছাড়া একই বিষয়ে জোট হয়ে কয়েকটি দেশের বিবৃতিকে আচরণবিধি লঙ্ঘনের শামিল বলে জানান দেন সরকারের আরেক মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। এমন আচরণের কড়া প্রতিবাদ জানিয়ে রাষ্ট্রদূতদের ‘বিরোধী রাজনৈতিক নেতা’ হিসেবেও আখ্যা দিয়েছেন তিনি।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিদেশি কূটনীতিকদের অনধিকার চর্চা আর সহ্য করতে চায় না ক্ষমতাসীন দল। এজন্য ভিয়েনা কনভেনশন অনুযায়ী রাষ্ট্রদূতদের কাছে কৈফিয়ত চাওয়া হবে। প্রয়োজনে বহিষ্কারের মতো সিদ্ধান্তও নেয়া হতে পারে বলে জানিয়েছে সূত্রটি।

বিশ্লেষকরা বলছেন, বাংলাদেশের বিভিন্ন ইস্যুতে বিদেশিরা প্রায়ই কথা বলেন। তবে আগামী নির্বাচন নিয়ে কূটনীতিকদের আচরণ একেবারেই বাড়াবাড়ি। কিছু রাজনৈতিক দলের ইশারায় স্বাধীন দেশ নিয়ে নাক গলানোর সুযোগ পান বহিরাগতরা। আর এমন নজির বিশ্বের কোনো দেশেই নেই। এছাড়া কূটনৈতিক শিষ্টাচার লঙ্ঘনে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর জবাবেও যৌক্তিকতা রয়েছে। কেননা জেনেভা কনভেনশন অনুযায়ী কূটনীতিকদের সব ধরনের দাফতরিক কাজ গ্রাহক দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওপরই ন্যস্ত হবে। এখানে কোনো অনিয়ম হলে অবশ্য ব্যবস্থা নিতে পারবে যেকোনো দেশের সরকার।
 

দিনবদলবিডি/Rakib

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়