নাইকো দুর্নীতি

খালেদার বিরুদ্ধে সাক্ষীর অনুমতি পেলেন এফবিআই ও কানাডিয়ান পুলিশ সদস্য

দিন বদল বাংলাদেশ ডেস্ক || দিন বদল বাংলাদেশ

প্রকাশিতঃ দুপুর ০১:৩৫, রবিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৩, ২ আশ্বিন ১৪৩০
ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

বিএনপি চেয়ারপারসন খালোদা জিয়ার বিরুদ্ধে হওয়া নাইকো দুর্নীতি মামলায় সাক্ষ্য দেয়ার জন্য এফবিআইয়ের একজন এবং কানাডিয়ান রয়েল মাউন্ডেড পুলিশের দুই জনকে অনুমতি দিয়েছেন আদালত।

নাইকো দুর্নীতি মামলায় সাক্ষ্য দেয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থার (এফবিআই) এফবিআইয়ের একজন ও কানাডিয়ান রয়েল মাউনটেড পুলিশের ২ জনের পূর্ণাঙ্গ ঠিকানা আদালতে জমা দেয় দুর্নীতি দমন কমশিন (দুদক)। এদিকে বিদেশি সাক্ষী আনার বিষয়ে আপত্তি জানায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা।

১৭ সেপ্টেম্বর, দুপক্ষই আদালতে এ আবেদন জমা দেয়। শুনানি শেষে বিদেশি তিন সাক্ষীকে সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আসার অনুমতি দেন আদালত।

গত ১২ সেপ্টেম্বর এ মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসনসহ আটজনের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণের নির্ধারিত দিন ছিল। ওইদিন কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারে অবস্থিত ঢাকার ৯ নম্বর (অস্থায়ী) বিশেষ জজ আদালতের বিচারক শেখ হাফিজুর রহমান এ আদেশ দিয়েছিলেন।

মামলার বাদী দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তৎকালীন সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ মাহবুবুল আলম দ্বিতীয় দিনের মতো সাক্ষ্য দেন। এরপর তাকে জেরা করেন আসামি পক্ষের আইনজীবীরা। তবে জেরা শেষ না হওয়ায় অবশিষ্ট জেরা ও সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য ১৭ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করেন আদালত।

এর আগে সাক্ষ্যগ্রহণ মুলতবি চেয়ে আবেদন করেন খালেদা জিয়ার আইনজীবী। এর বিরোধিতা করে দুদক। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে মুলতবির আবেদন নামঞ্জুর করে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরুর আদেশ দেন আদালত।

চলতি বছরের ১৯ মার্চ খালেদা জিয়াসহ ৮ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে এ মামলার বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত।
 

২০০৭ সালের ৯ ডিসেম্বর দুদকের তৎকালীন সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ মাহবুবুল আলম তেজগাঁও থানায় খালেদা জিয়াসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। কানাডিয়ান প্রতিষ্ঠান নাইকোর সঙ্গে অস্বচ্ছ চুক্তির মাধ্যমে রাষ্ট্রের আর্থিক ক্ষতিসাধন ও দুর্নীতির অভিযোগে এ মামলা করা হয়।

২০০৮ সালের ৫ মে খালেদা জিয়াসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে দুদক। এতে তাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের প্রায় ১৩ হাজার ৭৭৭ কোটি টাকা আর্থিক ক্ষতিসাধনের অভিযোগ আনা হয়।

খালেদা জিয়া ছাড়া মামলার অন্য সাত আসামি হলেন: তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সচিব খন্দকার শহীদুল ইসলাম, সাবেক সিনিয়র সহকারী সচিব সি এম ইউছুফ হোসাইন, বাপেক্সের সাবেক মহাব্যবস্থাপক মীর ময়নুল হক, ব্যবসায়ী গিয়াস উদ্দিন আল মামুন, ইন্টারন্যাশনাল ট্রাভেল করপোরেশনের চেয়ারম্যান সেলিম ভূঁইয়া ও নাইকোর দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট কাশেম শরীফ।

এ ছাড়া বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, সাবেক জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী এ কে এম মোশাররফ হোসেন ও বাপেক্সের সাবেক সচিব মো. শফিউর রহমান মারা যাওয়ায় মামলার দায় থেকে তাদের অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।

দুদকের অভিযোগপত্রে বলা হয়, ২০০১ থেকে ২০০৬ সালে ক্ষমতায় থাকাকালে খালেদা জিয়াসহ বেশ কয়েকজন ব্যক্তি ক্ষমতার অপব্যবহার করে কানাডার কোম্পানিটিকে অবৈধভাবে গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনের সুবিধা পাইয়ে দেন। অভিযোগপত্রে আসামিদের বিরুদ্ধে প্রায় ১৩ হাজার ৭৭৭ কোটি টাকার রাষ্ট্রীয় আর্থিক ক্ষতির অভিযোগ আনা হয়।

দিনবদলবিডি/এমআর

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়