পেনশনের টাকা তুলতে এসে মৃত্যু হলো বৃদ্ধার

কুষ্টিয়া সংবাদাতা || দিন বদল বাংলাদেশ

প্রকাশিতঃ সকাল ১০:১৩, মঙ্গলবার, ২৬ জুলাই, ২০২২, ১১ শ্রাবণ ১৪২৯
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে পেনশনের টাকা তুলতে এসে গণেশ বাঁশফোড় (৮০) নামে এক বৃদ্ধের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

সোমবার (২৫ জুলাই) কুমারখালী সোনালী ব্যাংক লিমিটেড উপজেলা শাখায় এ ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে সুরতহাল করেন এবং কোনো অভিযোগ না থাকায় মরদেহটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

নিহত ব্যক্তি পৌরসভার শেরকান্দির সুইপার পট্টি এলাকার বাসিন্দা। তিনি একজন অবসরপ্রাপ্ত পরিচ্ছন্নকর্মী ছিলেন।

পুলিশ, ব্যাংক, পরিবার ও সিসিটিভি ফুটেজ সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সকাল ১১টা ১০ মিনিটের দিকে সোনালী ব্যাংক লিমিটেড উপজেলায় পেনশনের টাকা তুলতে গিয়েছিল অবসরপ্রাপ্ত পরিচ্ছন্নকর্মী গণেশ বাঁশফোড়। এ সময় একটি চক্র তার পিছু নেয়। এরপর ২৫ হাজার টাকা উত্তোলন করে ব্যাংকের গলি দিয়ে বের হচ্ছিলেন।

এ সময় চক্রের একজন তার কাছে যায় এবং পিঠে কিছু একটা লাগিয়ে দেয়। এরপর তিনি ব্যাংকের প্রধান প্রবেশ পথের সামনে থাকা টিউবওয়েলের কাছে যান। তার পিছু পিছু প্রতারকচক্রের একজন সেখানে যান। এরপর প্রায় ৫ মিনিট পর গণেশ খালি গায়ে টিউবওয়েলের কাছ থেকে বের হয়ে পুনরায় ব্যাংকের দিকে ফিরে আসেন। আর প্রতারকচক্রের ৬ জন দ্রুত চলে যান।

গণেশ ব্যাংকের ব্যবস্থাপকের কাছে যান এবং তার ২৫ হাজার টাকা ছিনতাইয়ের কথা বলতে বলতে অসুস্থ হয়ে ফ্লোরে পড়ে যান। এরপর ব্যাংকের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে দ্বিতীয় তলায় পাঠায়। দ্বিতীয় তলার সিঁড়িতেই তিনি মারা যান।

এ বিষয়ে নিহতের বড় ছেলে তুলশী বাঁশফোড় বলেন, বাবা ব্যাংক থেকে পেনশনের টাকা তুলে ফেরার সময়ে ব্যাংকের নিচে প্রতারকচক্রের শিকার হন। প্রতারকচক্র তার ২৫ হাজার টাকা ছিনতাই করে নিয়ে যায়। টাকার শোকে হয়তো স্ট্রোক করে মারা গেছেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সহকারী সার্জন ডা. মো. মশিউল আরেফিন বলেন, ব্যাংক থেকে ঘটনাটি ঘটেছে। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে দ্বিতীয় তলায় উঠতে সিঁড়িতে তিনি মারা যান। ময়নাতদন্ত করা হলে প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

সোনালী ব্যাংক লিমিটেড উপজেলা শাখার জ্যৈষ্ঠ ব্যবস্থাপক প্রসাদ বিশ্বাস বলেন, টাকা ছিনতাইয়ের পর বিষয়টি আমাকে জানাতে এসেছিল। এ কথা বলতে বলতেই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে হাসপাতালে পাঠানো হয় এবং কিছু সময় পর তিনি মারা যান।

কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুজ্জামান তালুকদার বলেন, টাকা ছিনতাইয়ের কারণে স্ট্রোক করে মারা যেতে পারেন। তবে কোনো অভিযোগ না থাকায় মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

দিনবদলবিডি/আরএজে

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়