সন্তানকে হত্যা করে মরদেহ ব্যাগে নিয়ে ঘুরছিলেন নারী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক || দিন বদল বাংলাদেশ

প্রকাশিতঃ সন্ধ্যা ০৭:১৪, মঙ্গলবার, ৯ জানুয়ারি, ২০২৪, ২৫ পৌষ ১৪৩০
ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশের কাছে কিছুই বলছিলেন না সুচনা। পরে তার ব্যাগ তল্লাশি করা হয়। ব্যাগ খুলতেই এর ভেতর তার চার বছরের ছেলের রক্তাক্ত মরদেহ দেখা যায়।

নিজের চার বছরের ছেলেকে হত্যার অভিযোগে সুচনা শেঠ নামের এক নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের গোয়ায়। পুলিশের ধারণা ছেলেকে গোয়ায় খুন করে ৩৯ বছরের ওই নারী ট্যাক্সিতে বেঙ্গালুরুতে ফিরছিলেন। এরই মধ্যে ঘটনার কথা জানাজানি হয়ে যায়।

পুলিশ ওই নারীর ট্যাক্সি চালকের সঙ্গে যোগাযোগ করে। তিনিই কর্নাটকের চিত্রদুর্গা জেলার একটি থানায় নিয়ে যান ট্যাক্সি। পুলিশের তল্লাশিতে তার ব্যাগ থেকে উদ্ধার হয় ছেলের মরদেহ। পরে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।

৮ জানুয়ারি উত্তর গোয়ার ক্যান্ডোলিমের একটি হোটেলের অন্তর্গত সার্ভিস অ্যাপার্টমেন্ট থেকে চেকআউট করেন সূচনা। হোটেল থেকেই ঠিক করে দেয়া স্থানীয় একটি ট্যাক্সিতে চড়ে তিনি বেঙ্গালুরু রওনা দেন। কিন্তু তিনি বেরিয়ে যাওয়ার পর তার রুম পরিষ্কার করতে গিয়ে মেঝেতে রক্তের দাগ দেখতে পান হোটেলের কর্মীরা। বিষয়টি তারা পুলিশকে জানান।

ঘটনাস্থলে আসার পর হোটেল কর্তৃপক্ষ পুলিশকে জানায়, সূচনা সকালেই বেঙ্গালুরু ফেরার কথা জানান। হোটেল থেকে তাকে বিমানের টিকিট করে দেওয়ার কথা বলা হয়। কিন্তু হোটেলের ম্যানেজারের দাবি, সূচনা ট্যাক্সি করেই বেঙ্গালুরু ফিরতে চান। পরে তাকে একটি ট্যাক্সি ডেকে দেওয়া হয়। ব্যাগপত্র নিয়ে বেঙ্গালুরুর উদ্দেশ্যে রওনা দেন সুচনা।    

পুরো ঘটনা শোনার পর তদন্তে নামে পুলিশ। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, সূচনা যখন হোটেল ছাড়ছিলেন তখন সঙ্গে তার ছেলে ছিল না। এরপর পুলিশ সুচনাকে ফোন করে ছেলের কথা জানতে চাইলে সুচনা  জানান, ফতোরদায় তার এক বন্ধুর বাড়িতে ছেলেকে রেখে তিনি জরুরি কাজে বেঙ্গালুরু ফিরছেন। বন্ধুর নাম, ঠিকানাও পুলিশকে দেন। কিন্তু সেখানে গিয়ে দেখা যায়, পুরোটাই ভুয়া। সেখানে ওই নামে কেউ থাকেনই না।  

এরপর পুলিশ যোগাযোগ করে সুচনার ট্যাক্সির চালকের সঙ্গে। তাকে পুরো ঘটনা পুলিশ জানায়। স্থানীয় কোঙ্কনি ভাষায় চালক পুলিশকে জানান, তিনি কর্নাটকের চিত্রদূর্গা জেলায় প্রবেশ করেছেন। নিকটবর্তী থানায় যেন গোয়া পুলিশ কথা বলে রাখে, তিনি সুচনাকে নিয়ে সেখানেই আসছেন। সুচনাকে টের পেতে না দিয়ে চালক সোজা আইমঙ্গলা থানায় গাড়ি নিয়ে চলে যান।      

সেখানে যাওয়ার পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশের কাছে কিছুই বলছিলেন না সুচনা। পরে তার ব্যাগ তল্লাশি করা হয়। ব্যাগ খুলতেই এর ভেতর তার চার বছরের ছেলের রক্তাক্ত মরদেহ দেখা যায়।

সুচনা বেঙ্গালুরুর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক স্টার্ট-আপ মাইন্ডফুল এআই ল্যাবের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা। কী কারণে তিনি ছেলেকে হত্যা করলেন তা এখনো স্পষ্ট নয়। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম নিউজ-১৮ বলছে,  ধারণা করা হচ্ছে এর সঙ্গে সুচনার সম্ভাব্য বিবাহ বিচ্ছেদের সম্পর্ক আছে। সুচনার স্বামী ভেঙ্কট রমন বর্তমানে ইন্দোনেশিয়ায় আছেন, খবর পেয়েই দেশে ফিরছেন তিনি।

দিনবদলবিডি/Rony

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়