১৫ দিন ধরে সাগরে ভাসছিলেন, ছেড়ে দিয়েছিলেন বাঁচার আশা

জেলা সংবাদদাতা || দিন বদল বাংলাদেশ

প্রকাশিতঃ দুপুর ০১:২৩, সোমবার, ১৫ জানুয়ারি, ২০২৪, ১ মাঘ ১৪৩০
ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

ভাসতে একসময় দেশের সমুদ্রসীমা পেরিয়ে মিয়ানমার জলসীমাও পার হয়ে যায় ট্রলারটি। দুই সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও উদ্ধার না হওয়ায় একসময় বাঁচার আশাই ছেড়ে দিয়েছিলেন তারা।

বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে গিয়ে ট্রলারের ইঞ্জিন বিকল হয়ে নিখোঁজ হয়েছিলেন ১৫ জেলে। একসময় ভাসতে ভাসতে তারা মিয়ানমার জলসীমায় ঢুকে পড়েন। এক সপ্তাহ চলার মতো যে খাবার ও পানি সঙ্গে করে নিয়ে গিয়েছিলেন, একপর্যায়ে তা ফুরিয়ে যায়। সাগরে ভাসতে থাকার ৬ দিন পর মিয়ানমারের একটি মাছ ধরার ট্রলার তাদের তিন দিন টেনে আকিয়াব উপকূলের অদূরে নিয়ে আসে। সেখান থেকে মিয়ানমার নৌবাহিনী বাংলাদেশের জলসীমায় নিয়ে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের কাছে ট্রলারসহ জেলেদের হস্তান্তর করে। এ সময় মিয়ানমার নৌবাহিনী জেলেদের জন্য পর্যাপ্ত খাবারসহ জ্বালানি তেল উপহার দেয়।

গত ১৪ জানুয়ারি, রাত সাড়ে ১১টায় বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড ওই জেলেদের তাদের ট্রলারসহ নিয়ে সেন্টমার্টিন উপকূলে পৌঁছায়। সেখানে তাদের কাছ থেকে মুচলেখা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। বর্তমানে সেন্ট মার্টিন কোস্ট গার্ড জেটিতে অবস্থান নিয়ে ট্রলারের ইঞ্জিন মেরামতের কাজ করা হচ্ছে। সবকিছু ঠিক হলে আগামীকাল মঙ্গলবার সকালে আনোয়ারা উপকূলের উদ্দেশে যাত্রা করবে বলে জানান ট্রলারের মাঝি নুরুজ্জমা ওরফে কালু।

১৫ জেলে হলেন- মো. নুরুজ্জমা ওরফে কালু, আবদুল মন্নান, মহিউদ্দিন, মো. রায়হান, কালু মিয়া, আলী হোসেন, মো. রাশেল, মো. মোরশেদ, মো. বোরহান, আবুল মনসুর, আলী আহমদ, আবদুল হান্নান, জালাল উদ্দিন, আবু ছাদেক, আবদুল করিম। তাদের বয়স ১৯ থেকে ৫৫ বছরের মধ্যে। সবার বাড়ি চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায়।

ট্রলারের মাঝি নুরুজ্জমা ওরফে কালু বলেন, আনোয়ারা থেকে গত ৩ জানুয়ারি ১৫ জেলে ওবাইদুল হক মুন্না ও মিজানুর রহমানের যৌথ মালিকানাধীন এফ বি মা জননী নামের ট্রলারটি নিয়ে গভীর সাগরে মাছ ধরতে যান। ওই দিন রাতে ট্রলারটির ইঞ্জিন বিকল হয়ে যায়। সেই থেকে সাগরে ভাসছিলেন তারা। কূলকিনারাহীন সাগরে হারিয়ে যান তারা, ফুরিয়ে আসে খাবার। গভীর সাগরে চরম সংকটে পড়ে জেলেরা। এভাবে ভাসতে ভাসতে একসময় দেশের সমুদ্রসীমা পেরিয়ে মিয়ানমার জলসীমাও পার হয়ে যায় ট্রলারটি। দুই সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও উদ্ধার না হওয়ায় একসময় বাঁচার আশাই ছেড়ে দিয়েছিলেন তারা।

সেন্টমার্টিন কোস্ট গার্ড স্টেশন কমান্ডার লে. তাকিউল আহসান বলেন, মিয়ানমার নৌবাহিনীর মাধ্যমে খবর পেয়ে সাগরে টহলরত কোস্ট গার্ডের জাহাজ গিয়ে ট্রলারসহ জেলেদের উদ্ধার করে উপকূলে নিয়ে আসে। মিয়ানমার নৌবাহিনী তাদের জলসীমায় ট্রলারটির সন্ধান পায় রবিবার সকালে। ওই দিন বিকেলে তারা সংকটাপন্ন অবস্থায় বাংলাদেশি জেলেদের জলসীমায় নিয়ে এসে কোস্ট গার্ডকে বুঝিয়ে দেয়। পরে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের জাহাজ ওই ১৫ জেলেকে সেন্টমার্টিন নিয়ে আসে।

দিনবদলবিডি/Rony

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়