৪ দিনের মধ্যে চালের দাম না কমালে আইনি ব্যবস্থা

দিন বদল বাংলাদেশ ডেস্ক || দিন বদল বাংলাদেশ

প্রকাশিতঃ রাত ০৮:৫৪, বুধবার, ১৭ জানুয়ারি, ২০২৪, ৩ মাঘ ১৪৩০
ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

ধান-চাল বাজারমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধকল্পে বড় হুঁশিয়ারি দিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার। তিনি বলেছেন, চারদিনের মধ্যে চালের দাম কমিয়ে আগের দামে না আনলে মজুদকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দাম না কমলে প্রয়োজনে চাল আমদানি করা হবে বলেও জানান তিনি৷

বুধবার (১৭ জানুয়ারি) বিকেলে খাদ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে ধান-চাল বাজারমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধকল্পে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।  

খাদ্যমন্ত্রী বলেন, আমরা ইতোমধ্যে বাজার মনিটরিংয়ের জন্য টিম করেছি, কন্টোল রুম খুলেছি। আমাদের অভিযান চলছে। আগামীকাল দেশের আটটি বিভাগে বেলা ১১টা থেকে অভিযান শুরু হবে। আজ যাদের ডেকেছি তারা সবাই কমিটমেন্ট করেছে। হঠাৎ যেমন লাফিয়ে দাম বেড়েছে, তেমনি কমাতে হবে। তারা কথা দিয়েছে, দ্রুত আগের দামে নামিয়ে নিয়ে আসবে। বিশেষ করে মোটা চাল বা আমন চালের দাম কমিয়ে নিয়ে আসবে।

তিনি আরও বলেন, ব্যবসায়ীরা আমাদের কথা দিয়ে গেছে। সাথে সাথে অভিযান চলছে। অভিযানে যার কাছে মজুদ পাবো তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।

আগামী চার দিনের মধ্যে যদি দাম না কমায় তাহলে ব্যবস্থা কি নেবেন, জানতে চাইলে সাধন চন্দ্র বলেন, আমরা অভিযান শুরু করেছি। যার কাছে অতিরিক্ত মজুদ পাওয়া যাবে তাকে প্রচলিত আইনের আওতায় আনা হবে বা আমাদের যে বিশেষ ক্ষমতা আছে সেটা ব্যবহার করা হবে।

চালের দাম বাড়ার বিষয়ে ব্যবসায়ীরা কি অজুহাত দিয়েছে? খাদ্যমন্ত্রী বলেন, তারা অজুহাত দিয়েছে সবাই নির্বাচন নিয়ে ব্যস্ত ছিল। মিল সব বন্ধ ছিল, নির্বাচনের পর সবাই একসাথে মিল খুলেছে৷ এতে করে বাজারে বাড়তি চাপ পড়েছে। তাই দাম বেড়েছে।

আসল বিষয়টা কি, ব্যবসায়ীরা সুযোগ নিচ্ছিল? উত্তরে তিনি বলেন, আমরা মানুষ মাত্রই সুযোগ সন্ধানী। অতএব এটাও একটা সুযোগ বটেই।

দাম বৃদ্ধির ঘটনাটি কোন স্তর থেকে ঘটিয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা ব্যবসায়ীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় হয়েছে।

যতদিনে দাম কমাবেন ততদিনে ভোক্তাদের পকেট থেকে কত কোটি টাকা চলে যাবে বলা হলে সাধন বলেন, এটা বলা মুশকিল, সবারই টাকা যাবে।  

দাম না কমলে প্রয়োজনে আমদানির ব্যবস্থা নেওয়া হবে বললেন, কি পরিমাণ আমদানির পরিকল্পনা রয়েছে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, আমদানির জন্য শূন্য শুল্কের জন্য ফাইল তৈরি করে প্রধানমন্ত্রীর কাছে দিয়েছি। প্রধানমন্ত্রী অনুমোদন দিলে বা আমাদের যখন প্রয়োজন হবে তখন আমরা আমদানি করবো।

অভিযান তো এর আগেও হয়েছে। তার ফলাফল কি এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অবশ্যই আমরা ফলাফল পেয়েছি। গত ৯ মাস চালের দাম স্থিতিশীল ছিল। এটা মানতে হবে। আগামীকাল থেকে আবার কমবে৷ বাজারে কোনো চালের সংকট নেই। চাল গম মিলে ১৭ লাখ মেট্রিক টন মজুদ আছে। চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে যদি সংকট দেখা দেয় তাহলে আমরা প্রধানমন্ত্রীর সাথে আলাপ করে ব্যবস্থা নেব।

চলতি মাসে টিসিবির মাধ্যমে আমরা এক কোটি পরিবার ৫ কেজি করে চাল দিচ্ছি। ওএমএস চলছে, আগামী মাস থেকে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি চালু হবে। সুতরাং চালের দাম স্থিতিশীল থাকবে বলে উল্লেখ করেন খাদ্যমন্ত্রী।

দিনবদলবিডি/Rony

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়