রহস্য উদঘাটনে র‌্যাব

প্রেমিকা নিয়ে বন্ধুদের দ্বন্দ্ব-বিরোধের বলি হয় ইমন

দিন বদল বাংলাদেশ ডেস্ক || দিন বদল বাংলাদেশ

প্রকাশিতঃ সন্ধ্যা ০৬:৪৭, বুধবার, ২৭ জুলাই, ২০২২, ১২ শ্রাবণ ১৪২৯
টাঙ্গাইল ও গাজীপুর এলাকা থেকে গ্রেফতার রাশেদুল ইসলাম রাসু (কালো শার্ট পরিহিত) ও সহযোগী বিপুল চন্দ্র বর্মন -ছবি: সংগৃহীত

টাঙ্গাইল ও গাজীপুর এলাকা থেকে গ্রেফতার রাশেদুল ইসলাম রাসু (কালো শার্ট পরিহিত) ও সহযোগী বিপুল চন্দ্র বর্মন -ছবি: সংগৃহীত

১১ দিন আগে ঢাকার আমিন বাজার কেবলার চর এলাকার তুরাগ নদী থেকে উদ্ধার ভাসমান লাশ রহস্যের উন্মোচন করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন।

গত ১৬ জুলাই শনিবার বিকেলে ভাসমান অবস্থায় নৌ-পুলিশ ইমন রহমান (২১) নামের ওই যুবকের লাশটি উদ্ধার করে।

ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টিকারী এই ক্লুলেস হত্যাকাণ্ডের রহস্য উম্মোচনে জন্য ছায়া তদন্ত শুরু করে র‌্যাব-১ ।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ০৭ জুলাই রাত ৯টার দিকে গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর থানার রসুলপুরের আজিবর রহমান ও মাজেদা বেগমের পুত্র ভিকটিম ইমন রহমান  রাতের খাবার খায়। এরপর একটি ফোন কল পেয়ে মায়ের কাছ থেকে ২০০টাকা নিয়ে বাসা হতে বের হয়। কিন্তু গভীর রাতেও সে বাসায় না ফিরলে পরিবার উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে। ঘটনার পরবর্তীতে ৫দিন ধরে সম্ভাব্য সকল স্থানে খোঁজাখুজি করে  ইমনের কোনো সন্ধান না পেয়ে কালিয়াকৈর থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি করে পরিবার।

এরপর গত ১৬ জুলাই ২০২২ তারিখ সন্ধ্যার দিকে ঢাকার সাভারস্থ আমিন বাজার কেবলার চর এলাকার তুরাগ নদীতে একটি লাশ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা নৌ-পুলিশকে খবর দেয়।

নৌ পুলিশ উদ্ধারের পর কালিয়াকৈর থানা পুলিশ লাশটি ভিকটিম ইমন রহমানের বলে সনাক্ত করে। মরদেহ পচে যাওয়ায় এটি হত্যাকান্ড না দুর্ঘটনা তা তাৎক্ষণিকভাবে নির্ণয় অসম্ভব ছিল। তবে ভিকটিমের পরিবার মৃতদেহ উদ্ধারের পর থেকেই এটিকে পরিকল্পিত হত্যাকান্ড বলে দাবি করে আসছিল। তারা মৃতদেহের শরীরে থাকা আঘাতগুলি এর প্রমাণ হিসেবে দাবি করে করে আসছিল।

হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত মোবাইল ও ১টি দা উদ্ধার করা হয়

ঘটনার সত্যতা উদঘাটনে চলমান তদন্তের ধারাবাহিকতায় আজ বুধবার (২৭ জুলাই) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে র‌্যাব-১, গাজীপুর ক্যাম্পের একটি আভিযানিক দল টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার থানাধীন আবাদপুর গ্রাম থেকে আত্মগোপনে থাকা এই  হত্যাকান্ডের পরিকল্পনাকারী রাশেদুল ইসলাম ওরফে রাসু (২২), পিতা- সিদ্দিকুর রহমান, জেলা-গাজীপুরকে গ্রেফতার করে।

পরবর্তীতে তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী হত্যাকান্ডে জড়িত অপর ৪ সহযোগীর মধ্যে অন্যতম সহযোগী বিপুল চন্দ্র বর্মন (১৯), পিতা-রতন চন্দ্র বর্মনকে গাজীপুরের কালিয়াকৈর থানার কালামপুর থেকে গ্রেফতার করা হয়।

এ সময় আসামি  রাসুর শয়ন কক্ষের বিছানার নিচ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ১টি দা এবং আসামি  বিপুল চন্দ্র বর্মনের কাছ থেকে ১টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। র‌্যাবের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা ইমনকে হত্যার কথা স্বীকার করে ঘটনার লোমহর্ষক বর্ণনা দেয়।

আসামি রাশেদুল ইসলাম রাসু ও বিপুল চন্দ্র বর্মন(১৯) স্বীকারোক্তিতে জানায় ভিকটিমসহ তারা সকলে একই স্কুলে মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থী ছিল। আসামিরা গত ২/৩ বছর যাবত একজোট হয়ে মাদক ক্রয় এবং সেবনে জড়িত। বন্ধু হলেও ভিকটিম ইমনের সাথে বিভিন্ন ইস্যুতে তাদের বিরোধ চলছিল। সম্প্রতি প্রেমঘটিত বিষয় নিয়ে ইমনের সাথে রাসুর ব্যাপক দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয় এবং পরিস্থিতি তিক্ততার চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছে। এসময় রাসু তার অপর ৪ সহযোগীসহ ইমনকে হত্যার পরিকল্পনা নেয়।

পরিকল্পনা অনুযায়ী ০৭ জুলাই রাতে রাসু মোবাইলে ফোন করে ইমনকে তার  বাড়ির পশ্চিম পাশের বটগাছতলায় আসতে বলে। সেখানে রাসু, বিপুলসহ অন্যান্য হত্যাকারীরা আগে থেকেই দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ওঁৎ পেতে থাকে।

এরপর রাত  সাড়ে ৯টার সময় ইমন কালিয়াকৈর থানাধীন রসুলপুর বটগাছতলায় পৌঁছামাত্রই রাসু তার প্রেমিকাকে গালিগালাজ করার কারণ জানতে চায়। এ নিয়ে বাকবিতন্ডার একপর্যায়ে রাত সাড়ে দশটার দিকে রাসু সঙ্গে থাকা দা দিয়ে ভিকটিম ইমনকে কোপ দেয়। এসময় অন্যান্য আসামিরাও যেগ দেয় তার সঙ্গে। তারা ধারালো অস্ত্র দিয়ে ইমনকে এলোপাতাড়ি আঘাত করতে থাকে। একপর্যায়ে ইমন নিস্তেজ হয়ে যায়। হত্যাকারীরা লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে পাশেই তুরাগ নদীতে ভাসিয়ে দেয়। নদীর স্রোতে লাশটি সাভারের আমিনবাজারে গিয়ে ভেসে উঠে।

গ্রেফতার আসামিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানায় র‌্যাব।
 

দিনবদলবিডি/এমআর

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়