রপ্তানি বেড়েছে চীনে, কমেছে ভারতে

নিউজ ডেস্ক || দিন বদল বাংলাদেশ

প্রকাশিতঃ সকাল ১০:৪৩, সোমবার, ২২ জানুয়ারি, ২০২৪, ৮ মাঘ ১৪৩০
ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

এশিয়ার বড় দুই অর্থনীতি চীন এবং ভারতে রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণে বিশেষ মনোযোগ দিয়েছে বাংলাদেশের উদ্যোক্তারা। দেশ দুটির অর্থনীতি দিনকে দিন শক্তিশালী হওয়ায় স্থানীয়দের ক্রয়ক্ষমতাও বাড়ছে।  

অতিমারি করোনায় ইউরোপ-আমেরিকায় বাংলাদেশের রপ্তানিতে রীতিমতো ধস নামে। তুলনামূলক ভালো অবস্থানে ছিল পূর্ব এশিয়া। তখন থেকেই এশিয়ার বড় দুই অর্থনীতি চীন এবং ভারতে রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণে বিশেষ মনোযোগ দেন উদ্যোক্তারা। দেশ দুটির অর্থনীতি দিনকে দিন শক্তিশালী হওয়ায় স্থানীয়দের ক্রয়ক্ষমতাও বাড়ছে। এসব কারণে চীন এবং ভারতকে বড় বাজার হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। যদিও রপ্তানি বাজার হিসেবে দেশ দুটি বাংলাদেশের জন্য অপ্রচলিত বা নতুন বাজার। অপ্রচলিত বাজারে রপ্তানিতে অতিরিক্ত ৩ শতাংশ নগদ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে সরকারের পক্ষ থেকে। 

চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে গত ডিসেম্বর পর্যন্ত ছয় মাসে চীনে রপ্তানি বেড়েছে আগের অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ৪০ শতাংশেরও বেশি। তবে ভারতে এ সময় রপ্তানি কমে গেছে ১৪ শতাংশের মতো। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত ছয় মাসে চীনে রপ্তানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪৪ কোটি  ৪৭ লাখ ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ৩১ কোটি ৭০ লাখ ডলারের মতো। আগের তুলনায় রপ্তানি বাড়ার ফলে দেশ হিসেবে চীনের হিস্যা আরও বেড়েছে। বাংলাদেশের মোট রপ্তানি আয়ে চীনের অংশ এখন ১ দশমিক ৬১ শতাংশ। 

জানতে চাইলে তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক উদ্যোক্তাদের সংগঠন বিজিএমইএর সহসভাপতি শহিদ উল্লাহ আজিম বলেন, চীনে শীতের পোশাকের চাহিদা বেশি। শীতে আরামের পোশাক হিসেবে সোয়েটার জাতীয় পোশাক বেশি রপ্তানি হয়েছে বাংলাদেশ থেকে। এ ধরনের পোশাকের মূল্য সাধারণ পোশাকের দ্বিগুণেরও বেশি। এ কারণে চীনে রপ্তানি বেশি হয়েছে। অন্যদিকে ভারতে শীতের পোশাকের চাহিদা কম। সে কারণে সাধারণ পোশাকই সেখানে বেশি যায় যেগুলোর দাম তুলনামূলক কম।

বাংলাদেশ থেকে চীনে পরিমাণে বেশি রপ্তানি হয় ওভেন ক্যাটেগরির পোশাক বা শার্ট-প্যান্ট। অর্থবছরের প্রথমার্ধে এসব পেশাকের রপ্তানি হয়েছে ১০ কোটি ডলারের। তৈরি পোশাকের অপর খাত নিট বা গেঞ্জি জাতীয় পণ্যের রপ্তানি হয়েছে ৮ কোটি ৩৬ লাখ ডলারের। চীনের বাংলাদেশের অন্য রপ্তানি পণ্যের মধ্যে অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে পাটজাত পণ্য রপ্তানি হয় ৫ কোটি ৩৬ লাখ ডলারের। ৪ কোটি ৩০ লাখ ডলারের চামড়া ও চামড়াপণ্য রপ্তানি হয়। এর বাইরে হোম টেক্সটাইল, প্লাস্টিক পণ্যের রপ্তানি উল্লেখযোগ্য। 

অন্যদিকে গত জুলাই-ডিসেম্বর সময়ে ভারতে রপ্তানির পরিমাণ ৯৮ কোটি ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল প্রায় ১১৪ কোটি ডলার। অর্থাৎ ভারতে রপ্তানি ১৪ শতাংশের মতো কমে গেছে।

রপ্তানি পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, অন্যান্য বাজারের মতো ভারতে রপ্তানিতে তৈরি পোশাকের দাপট  নিরঙ্কুশ নয়। অবশ্য পরিমাণে এখনও তৈরি পোশাকই বেশি রপ্তানি হয়ে থাকে। গত ছয় মাসে ওভেন ক্যাটেগরির পোশাক রপ্তানির পরিমাণ ছিল ২৬ কোটি ডলার। নিটে এটি ১৯ কোটি ডলার। অন্যদিকে পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানির পরিমাণ প্রায় ১২ কোটি ডলার।  এ ছাড়া চামড়া ও চামড়াপণ্য এবং প্লাস্টিক পণ্য উল্লেখযোগ্য পরিমাণে রপ্তানি হয় ভারতে। সব মিলিয়ে বাংলাদেশের রপ্তানি বাজার হিসেবে ভারতের হিস্যা ৩ দশমিক ৫৭ শতাংশ। 

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) মতে, ক্রয়ক্ষমতা এবং মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) বিবেচনায় ২০২৮ সালের মধ্যে বিশ্বের শীর্ষ ১০ অর্থনীতির মধ্যে ছয়টিই হবে এশিয়ার। এর মধ্যে চীন ও ভারত যথাক্রমে প্রথম ও দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। 

ইপিবির তথ্যউপাত্ত বিশ্লেষণে দেখা যায়, অপ্রচলিত বাজারের মধ্যে একমাত্র ভারতেই রপ্তানি কমেছে। বাকি সব দেশে রপ্তানি বেড়েছে। এর মধ্যে অস্ট্রেলিয়ায় রপ্তানি বেশি হয়েছে ২০ শতাংশ।  তুরস্কে ৩৮ শতাংশ।  এ ছাড়া রাশিয়ায় ২৮ শতাংশ ও  জাপানে ৪ শতাংশ বেড়েছে। গত ছয় মাসে আগের অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে মোট রপ্তানি বেড়েছে ১ শতাংশেরও কম। মোট দুই হাজার ৭৫৪ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে এ সময়, যা আগের একই সময়ে ছিল ২ হাজার ৭৩১ কোটি ডলার। 

দিনবদলবিডি/Hossain

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়