পুরো সংসারটা শেষ হয়ে গেল

জেলা সংবাদদাতা || দিন বদল বাংলাদেশ

প্রকাশিতঃ রাত ০৮:০৫, শুক্রবার, ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪, ১৯ মাঘ ১৪৩০
ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

গলাকাটা অবস্থায় দেখতে পেয়ে বিউটি বেগমের চিৎকারে অন্যান্য প্রতিবেশীসহ বাজারের লোকজন ছুটে এসে বাড়ির ভেতরে গিয়ে আশিকুরের স্ত্রী ও দুই মেয়েকে বিছানায় মৃত অবস্থায় দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন।

নীলফামারীতে স্ত্রী ও দুই মেয়েকে হত্যার পর আশিকুর রহমান বাবু নামে ব্যবসায়ীর গলাকেটে আত্মহত্যার চেষ্টার ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহতদের স্বজনদের আহাজারিতে ভারি হয়েছে উঠেছে এলাকার পরিবেশ।

শুক্রবার (২ ফেব্রুয়ারি) সকালে সদর উপজেলার চড়াইখোলা ইউনিয়নের দারোয়ানী পুরাতন বন্দর বাজার গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন- আশিকুর রহমান বাবুর স্ত্রী তহুরা বেগম (৩৫), তাদের বড় মেয়ে আয়েশা আক্তার তানিয়া (১১) ও ছোট মেয়ে জারিন আক্তার (৬)। অভিযুক্ত আশিকুর রহমান বাবু মোল্লা (৪০) চড়াইখোলা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুর রউফ মোল্লার ছেলে। স্ত্রী ও দুই মেয়েকে নিয়ে দারোয়ানী পুরাতন বন্দর বাজার গ্রামের নিজ বাড়িতে বসবাস করতেন। বাড়ির সাথেই ‘স’ মিলসহ তামাক, পাট ও রসুনের ব্যবসা করতেন আশিকুর।

স্থানীয়রা জানান, সকালে বাড়ির প্রধান ফটকের সামনে আশিকুরকে পড়ে থাকতে দেখে এগিয়ে যান প্রতিবেশী গৃহবধূ বিউটি বেগম। এ সময় তাকে গলাকাটা অবস্থায় দেখতে পেয়ে বিউটি বেগমের চিৎকারে অন্যান্য প্রতিবেশীসহ বাজারের লোকজন ছুটে এসে বাড়ির ভেতরে গিয়ে আশিকুরের স্ত্রী ও দুই মেয়েকে বিছানায় মৃত অবস্থায় দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন। পরে তারা আশিকুরকে উদ্ধার করে নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করান। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। পরে পুলিশ এসে নিহত তহুরা এবং তার দুই মেয়ে তানিয়া ও জারিনের মরদেহ উদ্ধার করে।

প্রত্যক্ষদর্শী বিউটি বেগম (৩২) বলেন, আশিকুর ভাইদের বাড়ি পার হয়ে সকালে কাপড় শুকাতে দিতে গেছিলাম। ফেরার পথে দেখি আশিকুর ভাই বাড়ির দরজার সমানে পড়ে রয়েছে। আমি দৌড়ে গিয়ে বাড়ির ভেতরে গিয়ে ভাবি ও তার বাচ্চাদের ডাকাডাকি করি। কিন্তু তাদের কোনো সাড়াশব্দ না পাওয়ায় বারান্দার দিকে এগিয়ে গিয়ে রক্ত দেখতে পাই। এরপর দেখি আশিকুর ভাইয়ের গলা দিয়ে রক্ত ঝড়ছে। এ সময় আমি চিৎকার দিলে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে আশিকুর ভাইকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান এবং বাড়ির থাকার ঘরের বিছানায় তহুরা ভাবি ও তার দুই মেয়েকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান।

আশিকুরের ছোট বোন সাথী আক্তার (২৭) জানান, আশিকুর ভাই দীর্ঘ ছয় মাস ধরে কিডনিজনতি রোগে আক্রান্ত হয়ে অসুস্থ ছিলেন। শ্বশুড়বাড়ি থেকে আমি প্রতি সপ্তাহে এসে ভাইয়ের খোঁজখবর নিয়ে যেতাম। গতকাল ভাবির সাথে আমার কথা হয়েছিল, ভাবি আমাকে জিজ্ঞেস করেছিল কখন আসবে। আমি ভাবিকে বলেছিলাম শুক্রবার সকালে যাব। এই বলে কথা শেষ করেছি ভাসির সাথে। আজ সকালে মোবাইল ফোনে খবর পাই ভাবি ও আমার দুই ভাতিজি আর বেঁচে নেই, ভাইকে গলাকাটা অবস্থায় রংপুরে নেওয়া হয়েছে। এরপর এখানে এসে লোকজনের কাছে শুনি যে, ভাবি ও তার দুই মেয়েকে হত্যা করে গলাকেটে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে ভাই। কী কারণে এবং কেন এমন ঘটনা ঘটালো তার কোনো কূল-কিনারা খুঁজে পাচ্ছি না।

দিনবদলবিডি/Rony

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়