অপু দাসের মেডিকেল জয়, পড়ার খরচ নিয়ে শঙ্কা

জেলা সংবাদদাতা || দিন বদল বাংলাদেশ

প্রকাশিতঃ রাত ০৮:১৪, শুক্রবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪, ৩ ফাল্গুন ১৪৩০
ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

মেডিকেলে ভর্তির সুযোগ পেয়েও কপালে চিন্তার ভাঁজ অপু দাসের। খুব আক্ষেপ নিয়ে বলেন, আমার জীবনের বড় আশা ছিল আমি একজন চিকিৎসক হব। দুঃখী ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াব। সেই লক্ষ্য নিয়ে আমি চেষ্টা করে গেছি।

যশোরের মণিরামপুরে হতদরিদ্র অভাবী ঋষি অসিত দাসের ছেলে অপু দাস মেডিকেলে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন। তিনি উপজেলার খানপুর ঋষি পল্লীর বাসিন্দা। সুযোগ পেয়েও আর্থিক দৈন্যতার কারণে মেডিকেলে ভর্তি হওয়া প্রায় অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে অপুর। তিনি চলতি ২০২৩-২০২৪ শিক্ষা-বর্ষে এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষায় ৭৫ নম্বর পেয়ে ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন।

জানা গেছে, স্থানীয় খানপুর ঋষি পল্লীর ব্র্যাক সেন্টার থেকে ৫ম শ্রেণি পাস করে মণিরামপুর সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি হন অপু। সেখান থেকে ২০২০ সালে এসএসসি ও মণিরামপুর সরকারি কলেজ থেকে ২০২২ সালে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫.০০ পেয়ে  উত্তীর্ণ হন। এরপর বিগত ২০২২-২০২৩ শিক্ষাবর্ষে এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে তিনি সফল হতে পারেননি। এরপরও তিনি হার ছাড়েননি। চলতি ২০২৩-২০২৪ শিক্ষাবর্ষে কোচিং না করেই এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ৭৫ নম্বর পেয়ে ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পান তিনি।

মেডিকেলে ভর্তির সুযোগ পেয়েও কপালে চিন্তার ভাঁজ অপু দাসের। খুব আক্ষেপ নিয়ে বলেন, আমার জীবনের বড় আশা ছিল আমি একজন চিকিৎসক হব। দুঃখী ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াব। সেই লক্ষ্য নিয়ে আমি চেষ্টা করে গেছি। হয়তো ভর্তির সুযোগ পেয়েছি কিন্তু সামনে অনেক বড় চ্যালেঞ্জ। জানি না আমি কিভাবে মেডিকেলের খরচের মোকাবেলা করব। আমার অসহায় পিতা-মাতা কিভাবে কি করবেন সেটি আমাকে ভাবিয়ে তুলছে।

অপুর মা সাধনা রানী ছেলের এই সাফল্য নিয়ে উচ্ছ্বসিত। কিন্তু পড়ার খরচ কোথা থেকে আসবে এই নিয়ে তার চিন্তার শেষ নেই। তিনি বলেন, আমি অন্য দশ জনের মতো আমার ছেলেকে ভালো কাপড় চোপড়, বই-খাতা কিনে দিতে পারিনি। আমাদের কোনো জমি-জমা নেই। ওর বাবা রাস্তার ফুটপথে বসে জুতা সেলাই ও জুতা কালির কাজ করে। আমার অপু আজ ডাক্তার হবে এই কথা শুনে ভালো লাগছে কিন্তু ওকে যে কিভাবে আমরা পড়াব তাই নিয়ে মহাচিন্তায় পড়েছি।

অপুর পিতা অসিত দাস বলেন, আমি লেখা পড়া জানিনে। জীবনের সাথে যুদ্ধ করে বড় হয়েছি। ক্ষেত খুলা নেই, জুতার কাজ করে সংসার চালাই। ওরা অনেক কষ্ট করে লেখাপড়া করছে। বাবা হয়ে বলতে লজ্জা পাচ্ছি। শুনিছি অপুর পড়াতি পারলি সরকারি হাসপাতালের অনেক বড় ডাক্তার হবে। কিন্তু আমি কিভাবে পড়াবানে।

অপুর শিক্ষক অধ্যাপক বাবুল আকতার বলেন, কঠোর অধ্যবসায় ও ইচ্ছা শক্তি দিয়ে যে সব কিছু অর্জন করা যায় তার উজ্বজল দৃষ্টান্ত হলো অপু। দ্বারিদ্রতা হার মেনেছে তার ইচ্ছা শক্তির কাছে। আমি তার সর্বাঙ্গীন সাফল্য ও মঙ্গল কামনা করি। তার সামনে খরচের অনেক বড় চ্যালেঞ্জ। সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার জন্য বিত্তবানদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

দিনবদলবিডি/Nasim

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়