সন্তানের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে চান ভারতের কৃষকরা

নিউজ ডেস্ক || দিন বদল বাংলাদেশ

প্রকাশিতঃ রাত ০৮:০৪, সোমবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪, ৬ ফাল্গুন ১৪৩০
ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

প্রচণ্ড ঠাণ্ডা আর অস্বাস্থ্যকর পরিবেশেই তাঁবুর নিচে থাকছেন তারা। সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিশ্চিতে শেষ পর্যন্ত করবেন লড়াই- স্পষ্ট বার্তা তাদের। ফসলের ন্যায্য দাম নিশ্চিত করে তবেই ফিরবেন বাড়িতে।

ভারতের কৃষক আন্দোলনে পৃথকভাবে আলোচনায় প্রবীণদের উপস্থিতি। জীবনের ঝুঁকি উপেক্ষা করেই নেমেছেন অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে। বয়সের ভারে পড়ছেন নানা ঝামেলায়।

তবুও থামতে নারাজ বয়স্ক মানুষগুলো। তাদের ভাষ্য, শত বছরের ঐতিহ্য কৃষিকাজকে বাঁচাতে আর সন্তানের আয়ের পথকে সহজ করতেই প্রশাসনের বিরুদ্ধে এ প্রতিবাদ।

ভারতে চলমান কৃষক আন্দোলনে যোগ দিতে দেশটির দূর-দূরান্তের অঞ্চল থেকে চলে এসে ঘাঁটি বেঁধেছেন পাঞ্জাব-হরিয়ানা সীমান্তে। লক্ষ্য নিজেদের দাবি আদায়ের আন্দোলনে সামিল হওয়া।

প্রচণ্ড ঠাণ্ডা আর অস্বাস্থ্যকর পরিবেশেই তাঁবুর নিচে থাকছেন তারা। সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিশ্চিতে শেষ পর্যন্ত করবেন লড়াই- স্পষ্ট বার্তা তাদের। ফসলের ন্যায্য দাম নিশ্চিত করে তবেই ফিরবেন বাড়িতে।

তাদের ভাষায়, যতো কষ্টই হোক, এসব কিছু না। শীতের কষ্ট গায়ে লাগছে না। কারণ অধিকার আদায়ের জন্য লড়াই করছি। নিজেদের জমি, নিজেদের রুজি রুটি টিকিয়ে রাখার দাবি নিয়ে এখানে দাঁড়িয়েছি।

ক্যাম্পে নেই স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেট। তাই পড়তে হচ্ছে বিপাকে। নেই পর্যাপ্ত পানিও। এ পরিস্থিতিতে রোগ বালাই ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা আছে। তবুও নিজেদের অবস্থানে অনড় প্রবীণ এ ভারতীয়রা।

তারা বলছেন, যতো সময়ই লাগুক না কেন, সিদ্ধান্ত ছাড়া একচুলও নড়বো না। আমরা ঠিকমতোই খাওয়া দাওয়া করছি। রাস্তায় থাকতে আর যা কষ্ট, তার কিছু নিয়েই ভাবছি না।

৭০ বছর বয়সী বলবিন্দর কর জানান তার ভোগান্তির কথা। তিনি বলেন, আমার হাঁটুতে ব্যথা। বসলে উঠতে পারি আর দাঁড়ালে বসতে পারি না। পাবলিক টয়লেট ব্যবহার করতে খুবই অসুবিধা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, এছাড়া চারদিন থেকে একই কাপড় পরে আছি। তারপরও আমাদের সন্তানের ভবিষ্যৎ নিরাপদ না করে এখান থেকে যাবো না। গেলো চার দিন ধরে একই জামা পরে আছি।

আরও যোগ করেন, গোসল করা, কাপড় ধোওয়ার মতো পানি এখানে নেই। টয়লেট ব্যবহারেও অসুবিধা হচ্ছে। হাঁটু ভীষণ ব্যথা। ওঠা-বসা করা আমার জন্য খুব শক্ত কাজ। তবু সন্তানের ভবিষ্যতের জন্য এসেছি।

ফসলের নূন্যতম সহায়ক মূল্য বা এমএসপির আইনি গ্যারান্টিসহ বিভিন্ন দাবিতে গেলো এক সপ্তাহ ধরে চলছে ভারতের কৃষকদের এই আন্দোলন।

এর আগে, মোদি সরকারের তিনটি কৃষি আইন প্রত্যাহারের দাবিতে ২০২০ সালে সিঙ্ঘু, গাজীপুর এবং টিকরি সীমানায় এক বছরেরও বেশি সময় আন্দোলন করেছিল কৃষকেরা।

দিনবদলবিডি/Nasim

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়