একুশে ফেব্রুয়ারি ঘিরে বজ্র আঁটুনি নিরাপত্তা বলয়

নিউজ ডেস্ক || দিন বদল বাংলাদেশ

প্রকাশিতঃ রাত ০৮:০৭, সোমবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪, ৬ ফাল্গুন ১৪৩০
ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

আসছে ২১ শে ফেব্রুয়ারি। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ও শহীদ দিবসের আয়োজনে চলছে শেষ মূহূর্তের ছোঁয়া। প্রভাতফেরীর রাস্তা আর দেয়াল রাঙিয়ে তোলা হচ্ছে শহীদের স্মৃতির রঙে। ঝেড়ে মুছে সাফ করা হচ্ছে ধুলো জমা শহীদবেদী। এরপর আলপনার রঙে রঙিন হবে এই বেদীও।

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ও শহীদ দিবসে নিরাপত্তা ঝুঁকি না থাকলেও চার স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার। এদিকে, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আগের চেয়ে এবার নিরাপত্তা আরও বেশি থাকবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য।

আসছে ২১ শে ফেব্রুয়ারি। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ও শহীদ দিবসের আয়োজনে চলছে শেষ মূহূর্তের ছোঁয়া। প্রভাতফেরীর রাস্তা আর দেয়াল রাঙিয়ে তোলা হচ্ছে শহীদের স্মৃতির রঙে। ঝেড়ে মুছে সাফ করা হচ্ছে ধুলো জমা শহীদবেদী। এরপর আলপনার রঙে রঙিন হবে এই বেদীও।

ঠিক যেমন ৫২-তে শহীদদের রক্তে রঞ্জিত হয়েছিল রাজপথ। ১৯৫২ সালের এ দিনে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে রাজপথে নেমে এসেছিল বাংলা মায়ের বিক্ষুব্ধ সন্তানেরা। রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে মুখর ছাত্রদের রুখে দিতে নির্বিচারে গুলি চালিয়েছিল পুলিশ।

বরকত সালাম রফিক শফিক জব্বারসহ নাম না জানা আরও অনেক শহীদের রক্তে শৃঙ্খলমুক্ত হয়েছিলো দুঃখিনী বর্ণমালা। সেই থেকে ২১ ফেব্রুয়ারি অমর একুশে। মহান শহীদ দিবস। বছর ঘুরে আবারও এসেছে ভাই হারানোর ব্যথা আর মায়ের ভাষার মর্যাদা রক্ষার গৌরবে অত্যুজ্জ্বল সেই দিন।

বুধবার অমর একুশে ফেব্রুয়ারি। রক্তস্নাত ভাষা আন্দোলনের স্মৃতিবহ মহান শহীদ দিবস। দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে হাজার হাজার মানুষ ফুল দিয়ে ভাষার প্রতি নিজেদের ভালবাসার কথা জানাবে। খালি পায়ে অংশ নেবে প্রভাতফেরিতে। শহীদদের স্মরণে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হবে।

অমর একুশের এই আয়োজনে প্রথম প্রহরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাবেন রাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রীসহ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা। এরপর সর্বস্তরের জনগণ শ্রদ্ধা আর ভালবাসায় সিক্ত হবে এই প্রাঙ্গণ। বরাবরের মতো মূল আয়োজন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের।

21-February2

তাই এ নিয়ে সোমবার দুপুরে সেদিনের ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য। অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল। তিনি বলেন, রাষ্ট্রাচার অনুযায়ী একুশের প্রথম প্রহরে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের উদ্দেশ্যে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের বেদিমূল যথাসময়েই প্রস্তুত হবে।

তিনি আরও বলেন, এ বছর প্রতিটি সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে এবং ব্যক্তি পর্যায়ে শহীদ মিনারের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করতে পারবেন। এ সময়ে শহীদ মিনার এলাকায় কোনো সভা সেমিনার বা প্রোগ্রাম করা যাবে না। ব্যানার টানানো যাবে না।

যথাযথ রুটম্যাপ অনুসরণ করে শ্রদ্ধা জানানোর আহবান জানিয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল বলেন, সর্বস্তরের জনসাধারণ পলাশী মোড় হয়ে সলিমুল্লাহ মুসলিম হল ও জগন্নাথ হলের সামনে দিয়ে শহীদ মিনারে যাবেন এবং পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন।

শহীদ মিনারে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণের পর সেখান থেকে বিশ্ববিদ্যালয় খেলার মাঠের সামনের রাস্তা দিয়ে দোয়েল চত্বর ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের রাস্তা দিয়ে চাঁনখার পুল হয়ে শুধু প্রস্থান করা যাবে, শহীদ মিনারের দিকে আসা যাবে না। প্রবেশপথে নিয়োজিত থাকবে বিশেষ যৌথ স্বেচ্ছাসেবক দল।

উপচার্য আরও জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মোট ২১ বার সরকার প্রধান হিসেবে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। শহীদ মিনারের বেদিতে তাঁর ২১ বারের ২১টি পুষ্পস্তবক অর্পণের দুর্লভ ছবি নিয়ে সেখানে একটি প্রদর্শনী আয়োজন করা হবে। প্রধানমন্ত্রী সেটি দেখবেন বলে সম্মতি দিয়েছেন।

এদিন সকালে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শনে আসেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার হাবিবুর রহমান। তিনি বলেন, এই মুহূর্তে আমাদের কাছে কোনো নিরাপত্তা ঝুঁকি নেই। তারপরও পুলিশ সব ধরনের নিরাপত্তা হুমকি বিশ্লেষণ করে ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, একুশে ফেব্রুয়ারি যেহেতু গভীর রাত এবং ঢাকা শহরের মানুষ এদিকে আসবেন সেজন্য যানজট নিয়ন্ত্রণের জন্য একটি ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। কিছু কিছু জায়গায় যান চলাচল নিয়ন্ত্রিত থাকবে। কোনো কোনো জায়গা দিয়ে গাড়ি এদিকে ঢুকতে পারবে সাধারণত পলাশীর মোড় দিয়ে শহীদ মিনারে আসার রাস্তাটা রাখা হয়েছে এবং বাহির হওয়ার রাস্তাটাও নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।

21-February1

তিনি আরও বলেন, সমগ্র এলাকা সিসিটিভি ক্যামেরা দ্বারা আচ্ছাদিত থাকবে। আমাদের বোম্ব ডিস্পোজাল টিম, সোয়াট টিম, ফায়ার সার্ভিস, মেডিকেল টিমমহ অন্যান্য টিম নিরাপদ দূরত্বে স্ট্যান্ডবাই থাকবে। শহীদ মিনার এলাকায় সার্বক্ষণিক তল্লাশি এবং পেট্রলিংয়ের ব্যবস্থা রয়েছে। ড্রোন পেট্রলিং, মোবাইল পেট্রলিং এবং সাইবার পেট্রলিং এর মাধ্যমে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, আমাদের সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা বইমেলায় রয়েছে। সেখানে একটা কন্ট্রোল রুম স্থাপন করে ক্যামেরার মাধ্যমে সব ধরনের সিকিউরিটি ইকুইপমেন্ট এবং সিকিউরিটি ইউনিট কাজ করছে। আইনশৃঙ্খলা ভঙ্গের মতো কোনও পরিস্থিতি তৈরি হলে পুলিশ সব সময় প্রস্তুত রয়েছে।

পলাশী মোড় থেকে দোয়েল চত্বর ও বইমেলার পুরো এলাকা সিসিটিভি দিয়ে নজরে রাখা হয়েছে। শহীদ মিনারের প্রত্যেকটি প্রবেশপথে আর্চওয়ে বসানো থাকবে। যারাই আসবেন আর্চওয়ের ভেতর দিয়ে তল্লাশির মাধ্যমে প্রবেশ করতে হবে। শহীদ মিনারে চার স্তরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

দিনবদলবিডি/Nasim

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়