দগ্ধ অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক, শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত চেষ্টা থাকবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

নিউজ ডেস্ক || দিন বদল বাংলাদেশ

প্রকাশিতঃ বিকাল ০৪:৫৭, বৃহস্পতিবার, ১৪ মার্চ, ২০২৪, ২৯ ফাল্গুন ১৪৩০
ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

গাজীপুরে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে দগ্ধ রোগীদের অনেকেরই অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী ড. সামন্ত লাল সেন। তিনি বলেন, আমরা কিছু রোগীকে হয়ত বাঁচাতে পারবো না। কিন্তু শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত বাঁচানোর চেষ্টা থাকবে।

বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে গাজীপুরে দগ্ধ রোগীদের উন্নত চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে গঠিত বোর্ড সভায় এসব কথা বলেন তিনি।

 

ভর্তি রোগীদের শারীরিক অবস্থার বিস্তারিত তথ্য জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে দগ্ধ রোগীদের চিকিৎসার যাবতীয় ব্যয় বহন করবেন। রোগীদের চিকিৎসা নিয়ে সার্বিক বিষয়ে খোঁজখবর রাখছেন তিনি। যা আমাকে অবগত করেছেন।
 
ভর্তি হওয়াদের মধ্যে কতজন শিশু, কতজনের অবস্থা বেশি গুরুতর, কতজন আইসিইউ ও এনআইসিউতে ভর্তি আছে তার খোঁজখবর নেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
 
সভায় উপস্থিত চিকিৎসকদের উদ্দেশে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে দগ্ধ রোগীদের শারীরিক কষ্ট অনেক। প্রতিটি রোগী নিজের পরিবারের সদস্যদের মনে করে, আমাদের সবাইকে চিন্তা করতে হবে এবং চিকিৎসা দিতে হবে। দগ্ধ রোগীদের অনেকেরই অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। আমরা কিছু রোগীকে হয়তো বাঁচাতে পারবো না, কিন্তু কোনো রোগীর প্রতি শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আমাদের চেষ্টার যেন কোনো রকম অবহেলা না থাকে, এটি আমাদেরকে নিশ্চিত করতে হবে।

 

সভায় সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ঘটনায় মোট ৩২ জন বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি আছে বলে স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে জানানো হয়।

এদের মধ্যে ৫ জন আইসিইউতে এবং ২ জন এইচডিইউতে ভর্তি রয়েছেন। রোগীদের মধ্যে ১০০ ভাগ দগ্ধ আছেন একজন, ৯৫ ভাগ দগ্ধ আছেন ৩ জন। আর ৫০-১০০ ভাগের মধ্যে দগ্ধ রোগী আছে মোট ১৬ জন বলে জানানো হয়।

স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সভাপতিত্বে সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন- হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক অধ্যাপক ডা. মুহাম্মদ নওয়াজেস খান, অধ্যাপক (রেডিওলোজি) ডা. খলিলুর রহমান, অধ্যাপক (এনেস্থিসিওলজি) ডা. আতিকুল ইসলাম। এছাড়াও আরো ‍যারা ছিলেন- সহযোগী অধ্যাপক (বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি) ডা. হাসিব রহমান, সহযোগী অধ্যাপক (বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি) ডা. হোসাইন ইমামসহ (ইমু) অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও চিকিৎসকরা।  

উল্লেখ্য, গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার মৌচাক তেলিরচালা এলাকায় গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে নারী-শিশুসহ ৩২ জন দগ্ধ হয়েছে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত একাধিক ব্যক্তি জানান, ইফতারের আগে নতুন গ্যাস সিলিন্ডারে সংযোগ দেওয়ার সময় আগুন ধরে যায়। এ অবস্থায় সিলিন্ডারটি রাস্তায় ফেলে দেওয়া হয়। আর এতে রাস্তায় থাকা লোকজনও দগ্ধ হয়। যেহেতু এটা শ্রমিক কলোনি, তাই এ অঞ্চলটি খুবই জনবহুল ছিল। ইফতারের আগে মাটির চূলায় রাস্তার ওপর রান্না করছিলেন কেউ কেউ। রাস্তায় বিস্ফোরিত গ্যাস সিলিন্ডার ফেলার কারণে তাদের অনেকেই দগ্ধ হন।

দিনবদলবিডি/Nasim

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়