শতভাগ কাজ না করেই সমাপ্ত ১১৭ প্রকল্প

দিন বদল বাংলাদেশ ডেস্ক || দিন বদল বাংলাদেশ

প্রকাশিতঃ দুপুর ১২:০৪, শুক্রবার, ১৫ মার্চ, ২০২৪, ১ চৈত্র ১৪৩০
ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

শতভাগ কাজ না করে সমাপ্ত ঘোষিত প্রকল্পের মধ্যে অন্যতম হলো-‘ডেমোস্ট্রেশন অব বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট অ্যাকটিভিটিস’, এ প্রকল্পটির মোট ব্যয় ধরা হয় ২১ কোটি টাকা। তিন বছরে খরচ হয়েছে ৫ কোটি ৬ লাখ টাকা। আর্থিক অগ্রগতি ৩৪ ও বাস্তব অগ্রগতি ৪০ শতাংশ হলেও এটি সমাপ্ত করা হয়েছে। 

শতভাগ কাজ না করেই সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে ১১৭টি উন্নয়ন প্রকল্প। শুধু তাই নয়, এগুলোর মধ্যে কোনোটির আর্থিক ও বাস্তব অগ্রগতি ৩০ শতাংশের নিচেও আছে। ২০২২-২৩ অর্থবছর বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় ঘটেছে এমন ঘটনা। বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

 

এটি মঙ্গলবার এনইসি বৈঠকে উপস্থাপন করা হয় প্রধানমন্ত্রী ও এনইসি চেয়ারপারসন শেখ হাসিনার সামনে। এদিকে রাজনৈতিক বিবেচনা, জাতীয় সংসদ-সদস্যদের ব্যক্তিগত চাহিদা, সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ছাড়াই প্রকল্প গ্রহণসহ নানা কারণে এমনটি হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, এভাবে প্রকল্প গ্রহণ এবং শেষ করাটা অর্থ ও সময় উভয় ক্ষেত্রেই অপচয় হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। মূল লক্ষ্য পূরণ নাও হতে পারে। তবে কেন এমন ঘটনা ঘটছে তা খুঁজে বের না করায় আইএমইডির মূল্যায়ন প্রতিবেদনের কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

 

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আইএমইডির সচিব আবুল কাশেম মো. মহিউদ্দিন বুধবার যুগান্তরকে বলেন, প্রথমদিকে দেখা যায় অনেক সময় তড়িঘড়ি করে প্রকল্প নেওয়া হয়। এছাড়া সম্ভাব্যতা সমীক্ষাও ঠিকমতো হয় না। ফলে শেষদিকে এসে অনেক কাজ না করলেও সেক্ষেত্রে সেসব কাজ বাবদ দিয়েই প্রকল্প সমাপ্ত করা হয়। আবার অনেক সময় মেয়াদ বাড়ানোর জন্য আমাদের কাছে আসে। আমরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সেটি অনুমোদন না দিয়ে শেষ করতে বলি। এসব কারণেই মূলত শতভাগ কাজ না হলেও প্রকল্প শেষ করা হয়।

 

শতভাগ কাজ না করে সমাপ্ত ঘোষিত প্রকল্পের মধ্যে অন্যতম হলো-‘ডেমোস্ট্রেশন অব বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট অ্যাকটিভিটিস’, এ প্রকল্পটির মোট ব্যয় ধরা হয় ২১ কোটি টাকা। তিন বছরে খরচ হয়েছে ৫ কোটি ৬ লাখ টাকা। আর্থিক অগ্রগতি ৩৪ ও বাস্তব অগ্রগতি ৪০ শতাংশ হলেও এটি সমাপ্ত করা হয়েছে। এছাড়া স্টাবলিশমেন্ট অব সিএ মনিটরিং সিস্টেম অ্যান্ড সিকিউরিটি ইন দ্য অফিস অব দ্য কন্ট্রোলার অব সার্টিফায়িং অথরিটিস শীর্ষক প্রকল্পটির মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৫৬ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। চার বছরে খরচ হয়েছে ২১ কোটি টাকা। 

 

প্রকল্পের আর্থিক ৩৭ শতাংশ এবং বাস্তব অগ্রগতি দাঁড়িয়েছে ৪০ শতাংশ। এই অবস্থায় সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। এ রকম আরও কয়েকটি প্রকল্প হলো-ইমপ্রুভমেন্ট অ্যান্ড মডারেশন অব দ্য ল্যাবরেটরি ফ্যাসিলিটিজ অব ইনস্টিটিউট অব ইলেকট্রনিক্স প্রজেক্ট, প্রিপারেশন অব ওয়াটার ডেভেলপমেন্ট প্ল্যান ইন মহেশখালী ওয়াটার অ্যারিয়া অব কক্সবাজার জেলা এবং মর্ডানাইজেশন ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড অ্যাফোরেট্রেশন অব ওপেন প্লেস অব ঢাকা নর্থ সিটি প্রজেক্ট।

প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ২০২২-২৩ অর্থবছরে মোট ৩৭৭টি প্রকল্প শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা ছিল। ২০২৩ সালের জুন পর্যন্ত শেষ হয়েছে ২৬৪টি প্রকল্প। এছাড়া সমাপ্ত করার জন্য নির্ধারিত না থাকলেও ওই সময়ের মধ্যে শেষ করা হয়েছে ১৩টি প্রকল্প। সব মিলিয়ে মোট সমাপ্ত প্রকল্প সংখ্যা দাঁড়ায় ২৭৭টি। কিন্তু এগুলোর মধ্যে শতভাগ কাজ শেষ হয়েছে ১৬০টির। বাকি ১১৭টি প্রকল্পের কাজ শতভাগ হয়নি। যেসব প্রকল্পের কাজ শতভাগ না করেই সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে সেগুলোর আওতায় ব্যয় হয়েছে ২৪ হাজার ৮৭৫ কোটি ৯ লাখ টাকা।

আইএমইডি সূত্র জানায়, প্রতি অর্থবছর সংশোধিত এডিপিতে একই ঘটনা ঘটছে। ২০২১-২২ অর্থবছরে শতভাগ কাজ শেষ না করেই সমাপ্ত করা হয়েছে ১৮৬টি প্রকল্প। শুধু তাই নয়, এগুলোর কোনোটির আর্থিক ও বাস্তব অগ্রগতি ছিল সাড়ে ৩ শতাংশ পর্যন্ত। ওই অর্থবছরে মোট বাস্তবায়ন হয় ৩৩৬টি প্রকল্প। এছাড়া ২০২০-২১ অর্থবছরে কাজ বাকি রেখেই সমাপ্ত ঘোষিত প্রকল্প সংখ্যা ছিল ১২৪টি। ওই অর্থবছরে মোট বাস্তবায়ন হয় ২৬৪টি। এর মধ্যে শতভাগ কাজ শেষ করেই সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়েছিল ১৪০টি প্রকল্প। এর আগে ২০১৯-২০ অর্থবছরে শতভাগ কাজ শেষ না করেই সমাপ্ত ঘোষণা করা হয় ৯২টি প্রকল্প। সে সময় মোট বাস্তবায়ন হয়েছিল ১৮২টি। এর মধ্যে শতভাগ কাজ সম্পন্ন হওয়া প্রকল্প ছিল ৯০টি। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে কাজ অসমাপ্ত রেখে সমাপ্ত করা হয় ১৫৭টির। ওই অর্থবছরে মোট বাস্তবায়ন করা হয় ৩১২টি প্রকল্প। এর মধ্যে শতভাগ করা হয়েছিল ১৫৫টির।

ইনস্টিটিউট ফর ইনক্লুসিভ ফাইন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (আইএনএম) নির্বাহী পরিচালক ড. মোস্তফা কে. মুজেরী যুগান্তরকে বলেন, এভাবে ২০.৩০ বা ৮০ ভাগ কাজ করেই প্রকল্প সমাপ্ত করার মানে কী? এটি খতিয়ে দেখতে হবে। এর কারণ হতে পারে প্রকল্প গ্রহণের ক্ষেত্রেই ত্রুটি ছিল। তখন সঠিক মূল্যায়ন ছাড়াই যেনতেনভাবে প্রকল্প নেওয়া হয়। ফলে বাস্তবায়ন পর্যায়ে এসে দেখা যায়. যে কাজগুলো বাদ দেওয়া হয়েছে সেগুলো বাস্তবিক অর্থে প্রয়োজন ছিল না। এর মধ্য দিয়ে প্রকল্পের শুরু থেকে বাস্তবায়ন পর্যন্ত দুর্বলতা ফুটে উঠেছে। তবে আইএমইডির উচিত ছিল কেন এসব প্রকল্পের কাজ শতভাগ শেষ হলো না তা খুঁজে বের করা। তাহলে ভবিষ্যতে শিক্ষা পাওয়া যেত। কিন্তু সেটি না করায় আইএমইডির প্রতিবেদনটিই অসমাপ্ত মনে হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এসব প্রকল্পের পেছনে অন্য কোনো কারণ আছে কিনা সেটি অবশ্যই দেখতে হবে। এ ক্ষেত্রে প্রকল্পসংশ্লিষ্টদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা দরকার।

দিনবদলবিডি/Nasim

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়