নাগরিকদের দোনেৎস্ক ছাড়তে বললেন জেলেনস্কি

দিন বদল বাংলাদেশ ডেস্ক || দিন বদল বাংলাদেশ

প্রকাশিতঃ দুপুর ০১:১৭, রবিবার, ৩১ জুলাই, ২০২২, ১৬ শ্রাবণ ১৪২৯
জেলেনস্কি

জেলেনস্কি

কিয়েভ থেকে গভীর রাতে দেওয়া এক ভাষণে জেলেনস্কি যুদ্ধের তীব্রতা আরো…

ইউক্রেনের নিয়ন্ত্রণে থাকা পূর্ব দোনেৎস্ক অঞ্চলের কিছু অংশে এখনো যেসব বেসামরিক নাগরিক রয়ে গেছেন তাদের সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।

কিয়েভ থেকে গভীর রাতে দেওয়া এক ভাষণে জেলেনস্কি যুদ্ধের তীব্রতা আরো বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন।

তিনি বলেন, যত বেশি মানুষ দোনেৎস্ক অঞ্চল ছেড়ে যাবে, তত কম লোককে হত্যা করার সময় থাকবে রাশিয়ান সেনাবাহিনীর হাতে।

এই অঞ্চলে ধীরগতিতে রাশিয়ান বাহিনী অগ্রসর হচ্ছে এবং সেখানে তুমুল সংঘর্ষ দেখা গেছে। রাশিয়া এরইমধ্যে এই অঞ্চলের বড় অংশ নিয়ন্ত্রণ করছে।

আমরা যতটা বেশি সংখ্যক মানুষের জীবন বাঁচাতে, রাশিয়ার সন্ত্রাসকে যতটা সম্ভব প্রতিহত করতে যত রকম সুযোগ রয়েছে তার সব ব্যবহার করব।

এমন এক সময়ে জেলেনস্কির বক্তব্য এলো যখন রাশিয়া-সমর্থিত বিচ্ছিন্নতাবাদীদের নিয়ন্ত্রণে থাকা দোনেৎস্কের একটি অংশে ৫০ জন ইউক্রেনীয় যুদ্ধবন্দীদের মৃত্যুর তদন্তের জন্য জাতিসঙ্ঘ এবং রেড ক্রস কর্মকর্তাদের আমন্ত্রণ জানিয়েছে রাশিয়া।

ওলেনিভকার একটি কারাগারে হামলায় এই যুদ্ধবন্দীদের মৃত্যু হয় যা নিয়ে অস্পষ্টতা তৈরি হয়ে হয়েছিল। বিষয়টি নিয়ে রাশিয়া ও ইউক্রেন উভয় পক্ষই একে অপরকে দোষারোপ করেছিল।

শনিবার সন্ধ্যায় রাশিয়ার প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা বলেছেন, এই ঘটনার একটি ‘নিরপেক্ষ তদন্তকে’ স্বাগত জানাবে মস্কো।

ওদিকে রেড ক্রস শুক্রবার বলেছে তারা কারাগারটিতে প্রবেশ করতে দেবার অনুরোধ জানিয়েছে- তবে এখনো তাদের কোনো অনুমতি দেয়া হয়নি।

ইউক্রেনের রেড ক্রসের প্রতিনিধি দলের সহকারী প্রধান ড্যানিয়েল বুনসকগ বলেছেন, জেনেভা কনভেনশনের অধীনে যুদ্ধবন্দিদের দেখতে দেয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

ওলেনিভকা বন্দী শিবিরটির নিয়ন্ত্রণে রয়েছে রাশিয়া সমর্থিত স্ব-ঘোষিত দোনেৎস্ক পিপলস রিপাবলিক।

শুক্রবার সেখানে ঠিক কি ঘটেছে তা এখনো স্পষ্ট নয়। ঘটনার পরে রাশিয়া প্রকাশিত এক ভিডিও ফুটেজে ধ্বংসপ্রাপ্ত বাঙ্ক বিছানা এবং পোড়া লাশের দেখা যাচ্ছে। তবে এই ফুটেজ যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

শনিবার, নিহত ৫০ জন যুদ্ধবন্দির একটি তালিকা প্রকাশ করেছে রাশিয়া। মস্কো বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি হাইমার্স আর্টিলারি সিস্টেম ব্যবহার করে ইউক্রেন এই হামলা চালিয়েছে।

কিয়েভ এই হামলা চালানোর কথা অস্বীকার করেছে এবং পাল্টা অভিযোগ করেছে যে যুদ্ধাপরাধের প্রমাণ ঢাকতে রাশিয়াই কারাগারটিতে হামলা করেছে।

ওদিকে যুক্তরাজ্যে রাশিয়ান দূতাবাস এক টুইট বার্তায় লিখেছে, ইউক্রেনের আজভ ব্যাটালিয়নের সৈন্যদের ফাঁসিতে ঝুলিয়ে একটি ‘অপমানজনক মৃত্যু’ প্রাপ্য। এরপর ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা রাশিয়াকে ‘সন্ত্রাসী রাষ্ট্র’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।

টুইটার এরপর স্বীকার করেছে যে রাশিয়ান দূতাবাসের পোস্টটি সোশ্যাল মিডিয়া কোম্পানিটির ‘বিদ্বেষপূর্ণ আচরণ’ সম্পর্কে যে নিয়ম রয়েছে তা লঙ্ঘন করেছে। তবে কোম্পানিটি আরো যোগ করেছে যে জনস্বার্থে পোস্টটি রাখা হতে পারে।

শুক্রবার প্রকাশিত টুইট বার্তায় বলা হয়েছে যে আজভ ‘জঙ্গিদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা উচিত, তবে ফায়ারিং স্কোয়াডের মাধ্যমে নয় বরং ফাঁসিতে মৃত্যু, কারণ তারা প্রকৃত সৈনিক নয়। তাদের একটি অপমানজনক মৃত্যু প্রাপ্য’।

সূত্র : বিবিসি

দিনবদলবিডি/আরএজে

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়