৯০ জনকে হত্যার পর শিফা হাসপাতাল খালি করার নির্দেশ ইসরায়েলের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক || দিন বদল বাংলাদেশ

প্রকাশিতঃ সকাল ১০:৩৫, শুক্রবার, ২২ মার্চ, ২০২৪, ৮ চৈত্র ১৪৩০
ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

সব ইসরায়েলি পণবন্দিকে মুক্তি দেওয়ার শর্তে গাজা উপত্যকায় ‘অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠার’ একটি প্রস্তাব জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে জমা দিয়েছে আমেরিকা। মধ্যপ্রাচ্য সফররত মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিনকেন গতকাল সৌদি গণমাধ্যম আল-হাদাসকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে এ কথা জানান।

তিন দিন ধরে গাজার গুরুত্বপূর্ণ আল-শিফা হাসপাতালে সামরিক অভিযান চালিয়েছে ইসরায়েল। এতে ৯০ জনকে হত্যা করেছে তারা। এছাড়া হাসপাতালে আসা প্রায় ৩০০ রোগীকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। পরে ১৬০ জনকে গ্রেফতার করা হয়। এতে রোগীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। যদিও ইসরায়েল তাদের হামাসের সদস্য বলে আখ্যা দিয়েছে।


নেতানিয়াহুর বাহিনী এবার হাসপাতাল খালি করার নিদের্শ দিয়েছে। গত নভেম্বরেও একইভাবে এই হাসপাতালে অভিযান চালিয়েছিল আইডিএফ।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, তারা দ্রুত যুদ্ধবিরতির জন্য জাতিসংঘে একটি প্রস্তাব জমা দিয়েছে। আর মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্লিনকেন ফিলিস্তিন-সংকট সমাধানে আবার মধ্যপ্রাচ্য সফর করছেন।

হাসপাতাল খালি করার নির্দেশ
গতকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত চার দিন ধরে আল-শিফা হাসপাতাল ঘিরে রেখেছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী আইডিএফ। সরাসরি অভিযানের পাশাপাশি তারা বিমান থেকেও হামলা চালিয়েছে। এতে হাসপাতালের গুরুত্বপূর্ণ সার্জিক্যাল ভবনটি ধ্বংস হয়ে গেছে। ইসরায়েলি বোমায় বাড়ি ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় অনেকেই হাসপাতালে আশ্রয় নিয়েছেন। বেশির ভাগই আহত হয়ে চিকিত্সা নিচ্ছেন। কিন্তু সেখানেই অভিযান চালাচ্ছে ইসরায়েল। গতকাল সকালে আকস্মিকভাবেই ইসরায়েল হাসপাতালে অবস্থানরতদের চলে যাওয়ার নির্দেশনা দেয়। লাউড স্পিকারে বলা হয়, ‘আপনাদের বারবার সতর্ক করছি যে, আপনারা হাসপাতাল ত্যাগ করুন। আমরা সেখানে বোমা হামলা চালাব। আপনারা ভুল করবেন না।’

সতর্কবার্তায় আরো বলা হয়, ‘আপনারা যদি সেনাবাহিনীর নির্দেশনা মেনে ভবন ত্যাগ না করেন, তাহলে গুলি করা হবে।’ এর আগে তিন দিনের অভিযানে ৯০ জনকে হত্যা করে ইসরায়েল। গাজায় যুদ্ধের আগে সবচেয়ে বড় হাসপাতাল ছিল আল-শিফা। গাজার উত্তরের এই হাসপাতালে বাস্তুচ্যুত মানুষেরাও আশ্রয় নিয়েছে। তবে ইসরায়েল বলছে, হামাসের বন্দুকধারীরা এই হাসপাতালের বেসামরিক লোকদের মধ্যে আশ্রয় নিয়েছে। মূলত হামাসকে নির্মূল করতেই তারা হাসপাতালে অভিযান চালিয়েছে। সোমবার ভোরে আল-শিফা হাসপাতালে অভিযান শুরু করে ইসরায়েল। এর আগে গত নভেম্বরে ইসরায়েলি বাহিনী প্রথম আল-শিফা হাসপাতালে অভিযান চালায়। সেই সময় তারা দাবি করেছিল যে, আল-শিফা হাসপাতালের নিচে সুড়ঙ্গ ব্যবহার করে হামাস নেতা ও যোদ্ধারা যুদ্ধ নিয়ন্ত্রণ করছে।

জাতিসংঘে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রের
সব ইসরায়েলি পণবন্দিকে মুক্তি দেওয়ার শর্তে গাজা উপত্যকায় ‘অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠার’ একটি প্রস্তাব জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে জমা দিয়েছে আমেরিকা। মধ্যপ্রাচ্য সফররত মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিনকেন গতকাল সৌদি গণমাধ্যম আল-হাদাসকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে এ কথা জানান। ইসরায়েলকে যুদ্ধবিরতি মেনে নিতে বাধ্য করার জন্য আমেরিকার ওপর যখন আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ছে, তখন এ কথা জানালেন ব্লিনকেন। মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ সফরের অংশ হিসেবে আজ সৌদি আরবের জেদ্দা থেকে মিশরের রাজধানী কায়রো গেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।  তিনি জেদ্দায় আল-হাদাসকে বলেন, ‘আমরা অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়ে নিরাপত্তা পরিষদে একটি প্রস্তাব পাঠিয়েছি, তবে শর্ত হচ্ছে সব ইসরায়েলি পণবন্দিকে মুক্তি দিতে হবে।’

গাজা যুদ্ধ চলবে: নেতানিয়াহু
গাজা যুদ্ধ চলমান থাকবে বলে যুক্তরাষ্ট্রের রিপাবলিকান সিনেটরদের জানিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। বুধবার ভিডিও কনফারেন্সে তিনি এমন তথ্য জানান। মার্কিন সিনেটর জন বারাসো বলেন, ‘আমরা যুদ্ধ, জিম্মিদের মুক্তি ও হামাসকে পরাজিত করার প্রচেষ্টার বিষয়ে তাকে (নেতানিয়াহু) হালনাগাদ তথ্য সম্পর্কে করেছি। আমরা তাকে বলেছিলাম যে, ইসরায়েলের আত্মরক্ষা করার অধিকার রয়েছে। তিনি বলেছেন যে, তারা ঠিক এটিই করে চলেছে।’ ভিডিও কনফারেন্সে নেতানিয়াহু জানান, গাজায় এ পর্যন্ত ২৮ হাজার মানুষ নিহত হয়েছে। এই সংখ্যাটি গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবের চেয়ে প্রায় ৪ হাজার কম। এদিকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন ইসরায়েলি সেনাবাহিনী আইডিএফের চিফ অব স্টাফ হার্জি হালেভি। সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর মাসের মধ্যে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নেবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

এদিকে ল্যাটিন আমেরিকার দেশ কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল দিয়াজ-ক্যানেল বলেছেন, অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ইহুদিবাদী ইসরায়েল যে আগ্রাসন চালাচ্ছে তা ‘নির্দয় গণহত্যা’ ছাড়া আর কিছু নয়। তিনি আরো বলেছেন, বিশ্ব জনমতের দাবি মেনে নিয়ে এখনই এই গণহত্যা বন্ধ করতে হবে। কিউবার প্রেসিডেন্ট বলেন, গাজায় গণহত্যামূলক যুদ্ধে ইসরায়েলের সঙ্গে যেসব দেশ অংশগ্রহণ করেছে ইতিহাস তাদের ক্ষমা করবে না। —আলজাজিরা ও বিবিসি

দিনবদলবিডি/Nasim

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়