কানাডার প্রধানমন্ত্রীর নামে ভুয়া জন্মসনদ, চেয়ারম্যান-সচিবকে শোকজ

জেলা সংবাদদাতা || দিন বদল বাংলাদেশ

প্রকাশিতঃ দুপুর ০১:৫৯, শনিবার, ২৩ মার্চ, ২০২৪, ৯ চৈত্র ১৪৩০
ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

সুজানগর উপজেলার আহম্মদপুর ইউনিয়ন থেকে ট্রুডোর নামে ইস্যু করা হয় ভুয়া জন্মনিবন্ধন সনদ। ঘটনাটি জানাজানি হলে তা টক অব দ্যা কান্ট্রিতে পরিণত হয়

কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর নামে পাবনার সুজানগর উপজেলায় ভুয়া জন্মসনদের ঘটনায় আহম্মদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) আব্দুর রউফ মোল্লা ও  ইউপি সচিব আওলাদ হাসানকে শোকজ করা হয়েছে।

শুক্রবার শোকজের বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন আহম্মদপুর ইউপি সচিব আওলাদ হাসান।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সুজানগর উপজেলার আহম্মদপুর ইউনিয়ন থেকে ট্রুডোর নামে ইস্যু করা হয় ভুয়া জন্মনিবন্ধন সনদ। ঘটনাটি জানাজানি হলে তা টক অব দ্যা কান্ট্রিতে পরিণত হয়। এ ঘটনায় সরকারের রেজিস্ট্রেশন জেনারেলের কার্যালয় থেকে জেলা প্রশাসনকে তদন্ত কমিটি করে ৫ কার্যদিবসের মধ্যে রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত সার্ভারে জন্মসনদটি ছিল। বিষয়টি জানাজানির পর দুপুর থেকে সার্ভারে জন্মসনদটি আর পাওয়া যায়নি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ইউনিয়ন পরিষদ থেকে যে জন্মনিবন্ধন সনদ দেওয়া হয়েছে তাতে দেখা গেছে, নাম জাস্টিন ট্রুডো, পিতা- পিয়েরে ট্রুডো, মাতা- মার্গারেট ট্রডো; তিনি কানাডার বর্তমান প্রধানমন্ত্রী, কিন্তু সম্প্রতি বিশ্বের এই আলোচিত প্রধানমন্ত্রীকেই জন্মসূত্রে নাগরিক হিসেবে জন্মনিবন্ধন সনদ দেওয়া হয়েছে আহম্মদপুর ইউনিয়ন পরিষদ থেকে।

স্থানীয়রা জানান, গত বছরের শেষের দিকে আহম্মদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামাল হোসেন মিয়া মারা যান। এরপর থেকে আব্দুর রউফ মোল্লা নামে এক ইউপি সদস্য (মেম্বার) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন। কিন্তু ইউনিয়নের নানা কাজকর্ম ইউনিয়ন পরিষদের সচিব আওলাদ হাসানের হাতেই থাকে। সচিবের তদারকিতে পরিষদের চুক্তিভিত্তিক কম্পিউটার অপারেটর নিলয় পারভেজ ইমন টাকার বিনিময়ে সেবা গ্রহিতাদের কাজ করে দিতেন।

ইমন কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করলেও জন্ম নিবন্ধনসহ সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ সেবার ক্ষেত্রে ওটিপি নম্বর সচিবের কাছে থাকে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জাস্টিন ট্রুডোর নামে যে জন্ম নিবন্ধন দেওয়া হয়েছে সেটির প্রিন্ট দেওয়া হয়েছে রাত ৯টায়। কাজেই ওই সময় ওটিপি নম্বর সচিব না দিলে ইমন তা কোথায় পেয়েছে।

এ বিষয়ে কম্পিউটার অপারেটর নিলয়ের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

তবে ইউপি সচিব আওলাদ হাসান বলেন, আমি এসব ঘটনায় কিছুই জানি না। সার্ভারের ইউজার নাম ও পাসওয়ার্ড আমার কাছে থাকলেও নিলয় হয়তো কোনো সময়ে জেনে গেছে। আমার অগোচরে সে ওটিপি কোড নিয়ে এসব করেছে। এই ঘটনায় আমি দায়ী নই।

সচিব জানান, আমি এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।

এ ব্যাপারে সুজানগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুখময় সরকার বলেন, যারা এটি করেছেন তারাই ভালো বলতে পারবেন। তদন্ত শেষ হলে সব জানা যাবে।

দিনবদলবিডি/Rony

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়