আবারও জেলে যেতে চান ৬০ ফাঁসি কার্যকর করা ‘জল্লাদ’ শাহজাহান

নিউজ ডেস্ক || দিন বদল বাংলাদেশ

প্রকাশিতঃ বিকাল ০৪:৩০, শনিবার, ২৩ মার্চ, ২০২৪, ৯ চৈত্র ১৪৩০
ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

‘প্রধানমন্ত্রী আমাকে পাঁচ লাখ টাকার চেক দিয়েছিলেন। কিন্তু সেই টাকা তুলতে কতজনকে যে টাকা দিতে হয়েছে তার হিসাব নাই। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে যদি আমাকে আরেকটু সহযোগিতা করা হয়, তবে বাঁচতে পারতাম। তিনি তো অনেককেই ঘর দিচ্ছেন, আমাকে কেউ দেয় না। অনেকের কাছে গিয়েছি, সবাই দূর দূর করে তাড়িয়ে দেয়।’

বঙ্গবন্ধুর খুনি, যুদ্ধাপরাধী, জামায়াতের শীর্ষ নেতা ও জেএমবিসহ আলোচিত মামলায় সাজাপ্রাপ্ত ৬০ জনের ফাঁসির রায় কার্যকর করা সেই জল্লাদ শাহজাহান ভূঁইয়া আবারও জেলখানায় যেতে চান। কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে দিয়েছিলেন চায়ের দোকান। কিন্তু সেই দোকান চুরি হওয়ার পর পথে বসেছেন দেনায় জর্জরিত দেশের আলোচিত এই জল্লাদ।

গণমাধ্যমকে আক্ষেপের সঙ্গে জল্লাদ শাহজাহান বলেন, ‘পাওনাদারদের ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছি। কখন কোথায় থাকি ঠিক নাই। অনেকদিন ধরে অসুস্থ, আমাকে দেখার কেউ নেই।’

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী আমাকে পাঁচ লাখ টাকার চেক দিয়েছিলেন। কিন্তু সেই টাকা তুলতে কতজনকে যে টাকা দিতে হয়েছে তার হিসাব নাই। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে যদি আমাকে আরেকটু সহযোগিতা করা হয়, তবে বাঁচতে পারতাম। তিনি তো অনেককেই ঘর দিচ্ছেন, আমাকে কেউ দেয় না। অনেকের কাছে গিয়েছি, সবাই দূর দূর করে তাড়িয়ে দেয়।’

জল্লাদ শাহজাহান বলেন, ‘এখন দুই তিনদিন পর এক বেলা খেতে পারি। তাও কেউ দিলে খাই, না দিলে খেতে পারি না। এভাবে যদি বাঁচতে না পারি তাহলে আবারও জেলে যেতে হবে। এখন তো আর অপরাধ করতে পারব না। সেই শক্তিও নাই। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলতে হয় আমাকে। কত বড় বড় অপরাধীকে ফাঁসিতে ঝুলিয়েছি। বঙ্গবন্ধুর খুনি, যুদ্ধাপরাধী থেকে জেএমবি। কেউ তো পারেনি এ কাজ করতে, আমি করেছি।’

তিনি বলেন, ‘কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে একটা চায়ের দোকান দিয়েছিলাম। কিন্তু তা চুরি হয়ে গেছে। এখন কিছুই নাই আমার।’

শাহজাহান বলেন, ‘আমি এই দেশে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় কারাভোগ করেছি; এখন আমার করার কিছুই নেই। কারাগারে অন্তত আমাকে খাওয়া-দাওয়ার খরচ নিয়ে চিন্তা করতে হতো না।’

 

১৯৭৯ সালে ডাকাতি ও হত্যা মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়ে জেলে যান শাহজাহান। ২০০১ সালের আগে ১৯৮৮ সাল থেকে সহকারী জল্লাদ হিসেবে কাজ শুরু করেন তিনি। তখন তার বয়স ৩০ এর কিছু বেশি। বয়স যখন বিশের কোঠায়, তখন থেকেই ঘর ছাড়েন। মা-বাবা ছাড়াও শাহজাহানের তিনটি বোন ছিল। জেলে ঢোকার পর শুধু বড় বোনই শাহজাহানের সঙ্গে কয়েকবার দেখা করতে এসেছিলেন।

সাজা শুরুর প্রায় পাঁচ বছর পর শাহজাহানের বাবা মারা যান, ১০ বছর পর গত হন মা। তিনি কারও জানাজাতেই উপস্থিত থাকতে পারেননি। শাহজাহানের বোনের বয়স এখন ৯০ এর ঊর্ধ্বে; তার রক্তের সম্পর্কের আত্মীয়দের মধ্যে তিনিই একমাত্র বেঁচে আছেন।

বর্তমানে জল্লাদ শাহজাহানের হার্টের সমস্যা, রক্তচাপ ও শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা রয়েছে। ৪৪ বছর কারাভোগের পর ২০২৩ সালের ১৮ জুন ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পান শাহজাহান ভূঁইয়া।

দিনবদলবিডি/Nasim

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়