পান খেয়ে ১৮ লাখ টাকা খোয়া গেলো গরু ব্যবসায়ীর

জেলা সংবাদদাতা || দিন বদল বাংলাদেশ

প্রকাশিতঃ সকাল ১০:৪৫, সোমবার, ২৫ মার্চ, ২০২৪, ১১ চৈত্র ১৪৩০
ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

বাসটি পাবনায় পৌঁছে যাওয়ার কিছুক্ষণ আগে সুপারভাইজার প্রদীপ দুজনকেই দুটি পান খেতে দেন। এ সময় ভুক্তভোগীরা পান খেতে থাকলে বাসটির সুপারভাইজার প্রদীপ এসে তাদের ঘুমাতে বলেন। 

বাসের মধ্যে জাহাঙ্গীর হোসেন (৪৫) নামে এক গরু ব্যবসায়ীকে অচেতন করে তার ১৮ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে দুর্বৃত্তরা। চট্টগ্রামের বাঁশখালী থেকে পাবনা আসার পথে এ ঘটনা ঘটে।

১৮ মার্চ বাসের সুপারভাইজারের দেওয়া পান খেয়ে অজ্ঞান হয়ে যান তিনি। ৫ দিন অজ্ঞান থাকার পর ২৩ মার্চ (শনিবার) জ্ঞান ফেরার পর তিনি বিষয়টি সবাইকে জানান। ওইদিনই তিনি পাবনা পুলিশ সুপার (এসপি) বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তবে বাস সুপারাভাইজার প্রদীপ ওই ব্যবসায়ীকে পান খাওয়ানোর বিষয়টি অস্বীকার করেছেন।

ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর হোসেনের বাড়ি চট্টগ্রাম জেলার বাঁশখালী উপজেলার খালইচ্যারবাড়ি গ্রামে। তিনি মৃত আশরাফ আলীর ছেলে।

পুলিশ সুপার (এসপি) বরাবর লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর হোসেন ২১ লাখ ৩০ হাজার টাকা নিয়ে সোমবার (১৮ মার্চ) চট্টগ্রামের বাঁশখালী থেকে তার সহকারী জসীমসহ পাবনার উদ্দেশ্যে রওনা হন। তার কাছে ছিল ১৭ লাখ ৮০ হাজার টাকা আর সহকারীর কাছে ছিল ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এ টাকায় ঈশ্বরদী উপজেলার অরনকোলা থেকে তার গরু কেনার কথা ছিল। তিনি দীর্ঘদিন ধরে প্রতি সোমবার গরু কেনার জন্য পাবনার অরনখোলা হাটে যান। নিয়মিত যাতায়াত করায় সুসম্পর্ক হয় শ্যামলী পরিবহন বাসের স্টাফদের সঙ্গে।

জাহাঙ্গীরের অভিযোগ, ১৮ মার্চ, রাত ৮টার দিকে ৮ নম্বর শ্যামলী পরিবহন বাসের টিকিট ক্রয় করেন তিনি। ওইদিন শ্যামলী পরিবহন বাসটির সুপারভাইজার প্রদীপ তাকে ও তার সহযোগী জসিম উদ্দীনকে ৪ নম্বর বাসে তুলে দেন। বাসটি পাবনায় পৌঁছে যাওয়ার কিছুক্ষণ আগে সুপারভাইজার প্রদীপ দুজনকেই দুটি পান খেতে দেন। এ সময় ভুক্তভোগীরা পান খেতে থাকলে বাসটির সুপারভাইজার প্রদীপ এসে তাদের ঘুমাতে বলেন। প্রদীপ বলেন, ‘না ঘুমালে দিনের বেলা গরু কিনবেন কীভাবে? টেনশন করবেন না আমি আছিতো।’ এরপরের ঘটনা আর কিছুই মনে নেই জাহাঙ্গীরের।

তিনি জানান, শ্যামলী গ্যাস পাম্পের পেছনের একটি জায়গায় তাকে ফেলে রেখেছিলেন বাসের স্টাফরা। পরে স্থানীয়রা তাকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। সেখানে ৫ দিন পর শনিবার (২৩ মার্চ) তার জ্ঞান ফেরার পর তিনি ঘটনাটি সবাইকে জানান। তার কোমরে থাকা ১৭ লাখ ৮০ হাজার টাকা না থাকলেও পকেটে থাকা ১০ হাজার টাকা ও মোবাইল ফোন অক্ষত অবস্থায় রয়েছে। আর তার রাখালের কাছে থাকা সাড়ে তিন লাখ টাকা খোয়া যায়নি।

এদিকে পান খাওয়ানোর বিষয়সহ অনান্য অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বাসটির অভিযুক্ত সুপারভাইজার প্রদীপ। তিনি বলেন, আমি কাউকে কোনো চা অথবা পান খাওয়াইনি। কোনো যাত্রীকে কোনোদিন পানিও খাওয়াইনি। এসব মিথ্যা বানোয়াট কথা।

পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাসুদ আলম বলেন, এ ব্যাপারে আমরা লিখিত একটি অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

দিনবদলবিডি/Rony

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়