লিবিয়ায় যুবককে নির্যাতনের ভিডিও পাঠিয়ে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি

দিন বদল বাংলাদেশ ডেস্ক || দিন বদল বাংলাদেশ

প্রকাশিতঃ দুপুর ১২:৪৩, রবিবার, ৩১ মার্চ, ২০২৪, ১৭ চৈত্র ১৪৩০
ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

রুবেলের হাত-পা বাঁধা ও মুখে কাপড় গুঁজে লাঠি দিয়ে বেদম পেটানোর ভিডিও ২৭ মার্চ তাঁর এক স্বজনের হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো হয়েছে।

লিবিয়ায় হাত-পা বেঁধে ও মুখে কাপড় গুঁজে বাংলাদেশি এক যুবককে নির্যাতনের ভিডিও স্বজনদের কাছে পাঠিয়েছে একটি মানব পাচার চক্র। সেই সঙ্গে চক্রটি মুক্তিপণ হিসেবে দাবি করছে ১০ লাখ টাকা।

নির্যাতনের শিকার ওই যুবকের নাম রুবেল হোসেন। তাঁর বাড়ি বগুড়ার গাবতলী উপজেলার আমেশ্বপুর নিশিপাড়া গ্রামে। রুবেলের স্ত্রীর বড় বোন আক্তারুনের বাড়ি জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার তেমারিয়া গ্রামে। রুবেলকে লিবিয়ায় পাঠানো দালাল মিজানুর রহমান ওরফে ধলুর বাড়িও তেমারিয়া গ্রামে। দুই মাস আগে দালালের মাধ্যমে লিবিয়ায় যান রুবেল হোসেন।

স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আক্তারুন তাঁর ভগ্নিপতি রুবেল হোসেনকে গ্রামের দালাল মিজানুর রহমান ও তাঁর বাবা আবদুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দিয়েছিলেন। এরপর রুবেল নিজেই দালাল মিজানুরের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। রুবেল তাঁর জমিজমা বিক্রি করে চার লাখ টাকা দালাল মিজানুরের স্বজনদের হাতে দিয়েছিলেন। গত জানুয়ারি মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে রুবেল লিবিয়ায় পাড়ি জমান।

রুবেলের হাত-পা বাঁধা ও মুখে কাপড় গুঁজে লাঠি দিয়ে বেদম পেটানোর ভিডিও ২৭ মার্চ তাঁর এক স্বজনের হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো হয়েছে।

নির্যাতনের শিকার রুবেলের স্ত্রীর বড় বোন আক্তারুন বলেন, রুবেলকে লিবিয়ায় নিয়ে বসিয়ে রেখেছিলেন দালাল মিজানুর। রুবেলকে ভালো কাজ দেওয়ার কথা বলে ১০ দিন আগে লিবিয়ার আরেকটি জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাঁকে আটকে রেখে মারধর করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘অচেনা কণ্ঠের একজন বাংলাদেশি লিবিয়া থেকে আমাকে ফোন করে রুবেলের মুক্তিপণের জন্য ১০ লাখ টাকা চেয়েছেন। তা না দিলে রুবেলকে মেরে ফেলার হুমকি দিয়েছে। ২৭ মার্চ আমার হোয়াটসঅ্যাপে একটি ভিডিও এসেছে। ভিডিওতে দেখা যায়, একটি ঘরে রুবেলকে আটকে রেখে হাত-পা একসঙ্গে বেঁধে ও মুখে কাপড় গুঁজে লাঠি দিয়ে তাঁকে মারধর করা হচ্ছে। এ সময় রুবেলকে গোঙাতে শোনা যাচ্ছে। এ ঘটনার পর লিবিয়ায় থাকা দালাল মিজানুরকে ফোন করে তাঁকে পাইনি। ঘটনার পর থেকে মিজানুরের সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। মিজানুরের বাড়িতে গিয়ে তাঁর মা-বাবাকে বিষয়টি জানানো হয়েছে।’

আক্তারুন বলেন, ‘গতকাল শনিবার সকালে আবারও আমার ছোট বোনের (রুবেলের স্ত্রী) কাছে ফোন করে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ চাওয়া হয়েছে। আমার বোনের স্বামী জমিজমা বিক্রি করে লিবিয়ায় গেছে। এখন আমরা ১০ লাখ টাকা কোথায় পাব?’

দিনবদলবিডি/Rony

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়