বোরকা পরে গাজার শরণার্থী ক্যাম্পে ইসরায়েলি গোয়েন্দারা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক || দিন বদল বাংলাদেশ

প্রকাশিতঃ সন্ধ্যা ০৭:৪০, শনিবার, ১৫ জুন, ২০২৪, ১ আষাঢ় ১৪৩১
ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

ইসরায়েলের জিম্মি উদ্ধারের ভেতরের গল্প’ শিরোনামে অভিযানের আগের এমনই এক সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেছে ইসরায়েলি গণমাধ্যম দ্য জিউস ক্রনিকল। 

ফিলিস্তিনের গাজায় হামাসের হাতে আটক জিম্মিদের উদ্ধারে নাটকীয় পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়েছিল ইসরায়েল। জিম্মিদের উদ্ধারে ইসরায়েলি গোয়েন্দাদের তৎপরতা ছিল অবিশ্বাস্য।

তারা হিজাব-নিকাব পরে ফিলিস্তিনি মুসলিম সেজে তিন গুণ বেশি টাকায় শরণার্থী ক্যাম্পে বাসা ভাড়া নেন।

নিজেদের পরিচয় দেন ইসরায়েলি হামলায় বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনি হিসেবে। বাসা ভাড়া নেওয়ার সময় তাদের সঙ্গে ছিল লেপ, তোশক, মাদুরসহ ঘরের নানা জিনিসপত্র। কথাও বলেছে আরবিতে, ঠিক গাজার বাসিন্দাদের মতোই।

‘ইসরায়েলের জিম্মি উদ্ধারের ভেতরের গল্প’ শিরোনামে অভিযানের আগের এমনই এক সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেছে ইসরায়েলি গণমাধ্যম দ্য জিউস ক্রনিকল। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ৬ জুন এক তরুণীসহ চার জিম্মি উদ্ধারের মূল অপারেশনে যাওয়ার আগে দীর্ঘ ১৯ দিন নিবিড়ভাবে তথ্য সংগ্রহ ও বিচার-বিশ্লেষণ করে ইসরায়েলি গোয়েন্দারা। আর এ জন্য সাধারণ মানুষের বেশে নারী ও পুরুষ গোয়েন্দা নিযুক্ত করা হয়। বিষয়টি দৃঢ়ভাবে গোপন রাখে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী।

মূলত, নুসেইরাত শরণার্থী ক্যাম্পে চার জিম্মি রয়েছে গোয়েন্দারা এমন তথ্য পান ১২ মে। এরপর অভিযানের পরিকল্পনা যুদ্ধ মন্ত্রিসভায় তোলে আইডিএফ। অনুমোদন পাওয়ার পর শুরু হয় ছদ্মবেশে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের কাজ। একইসঙ্গে চলে ড্রোন ফুটেজ সংগ্রহ। পরে সেসব তথ্য ও ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণে সহযোগিতা নেওয়া হয় এআই বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের।

জিম্মিদের অবস্থান নিশ্চিত হতে দীর্ঘ ১৯ দিন ক্যাম্পে অবস্থান করে গোয়েন্দারা। এর মাঝেই জিম্মিদের উদ্ধারে প্রশিক্ষণ নেয় ইসরায়েলের ২৮ কমান্ডো। ৬ জুন সেখানে অভিযান চালানোর আগের রাতেই গুপ্তচরদের ওই এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। এরপর ওই দিন বেলা ১১টায় শুরু হয় অভিযান।

প্রথমে আরগামনি নামে জিম্মি তরুণীকে উদ্ধার করে হেলিকপ্টারে ইসরায়েলে পাঠানো হয়। আর হত্যা করা হয় হামাসের পাহারাদারকে। বাকি তিনজনকে উদ্ধারে অন্য একটি ভবনে গেলে সেখানে চরম হামলার মুখে পড়ে ইসরায়েলি কমান্ডোরা। সেখানে প্রায় ৩০ হামাস যোদ্ধা মেশিনগান ও গ্রেনেড দিয়ে কমান্ডোদের ওপর চরম হামলা চালান। পাল্টা হামলায় হত্যা করা হয় নুসেইরাত ক্যাম্পের নিরীহ প্রায় ৩০০ ফিলিস্তিনিকে।

এদিকে যে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে ইসরায়েল এই অভিযান সফল করেছে, তা তাদের দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এ ধরনের তথ্য বিশ্লেষণের সক্ষমতা বা এআই প্রযুক্তি যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগ পর্যন্ত ইসরায়েলের হাতে ছিল না।

ওয়াশিংটন পোস্টের খবরে বলা হয়, গাজা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর হামাসের ওপর গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ বাড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে দেশটি উন্নত সফটওয়্যার ব্যবহার করে ড্রোন ফুটেজ, স্যাটেলাইট চিত্র ও ডেটা বিশ্লেষণের বড় সুবিধা দিয়েছে ইসরায়েলকে। এর সবই ছিল এআইনির্ভর। যার ফলেই জিম্মি উদ্ধারের এ অভিযান সফল হয়েছে বলে মনে করেন ইসরায়েলি এক কর্মকর্তা।

দিনবদলবিডি/Rony

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়