যুক্তরাজ্যে নির্বাচনে লড়ছেন ৯ বাংলাদেশি নারী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক || দিন বদল বাংলাদেশ

প্রকাশিতঃ রাত ০৯:০০, বুধবার, ৩ জুলাই, ২০২৪, ১৯ আষাঢ় ১৪৩১
ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

তাদের মধ্যে এখন ব্রিটিশ পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ হাউস অব কমন্সের সদস্য ৪ জন। তারা হলেন রুশনারা আলী, টিউলিপ সিদ্দিক, রুপা হক ও আফসানা বেগম। তাদের সঙ্গে লেবার পার্টির পক্ষে এবার প্রার্থী হয়েছেন রুমী চৌধুরী ও রুফিয়া আশরাফ।

লাই যুক্তরাজ্যের সাধারণ নির্বাচনে এবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ৯ নারী। তাদের মধ্যে ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ পার্টির কেউ নেই, সবাই বিরোধী দলের। এর মধ্যে প্রধান বিরোধী দল লেবার পার্টির প্রার্থী হিসেবে ভোটের মাঠে আছেন ৬ জন। বাকিদের মধ্যে লিবারেল ডেমোক্রেট, ওয়ার্কার্স পার্টির থেকে দুজন ও একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী আছেন।  

তাদের মধ্যে এখন ব্রিটিশ পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ হাউস অব কমন্সের সদস্য ৪ জন। তারা হলেন রুশনারা আলী, টিউলিপ সিদ্দিক, রুপা হক ও আফসানা বেগম। তাদের সঙ্গে লেবার পার্টির পক্ষে এবার প্রার্থী হয়েছেন রুমী চৌধুরী ও রুফিয়া আশরাফ।

বাকিদের মধ্যে লিবারেল ডেমোক্রেটের (লিব-ডেম) প্রার্থী রুবিনা খান, ওয়ার্কার্স পার্টির হালিমা খান ও স্বতন্ত্র প্রার্থী নুর জাহান বেগম ভোটের লড়াইয়ে আছেন।

জনমত জরিপ অনুযায়ী, এ নির্বাচনে বিরোধী দল লেবার পার্টির জয়ী হওয়ার সমূহ সম্ভাবনা আছে। ইতোমধ্যে সব জনমত জরিপে ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ পার্টি থেকে ২০ পয়েন্ট এগিয়ে আছে বিরোধী দল। লেবার পার্টি ক্ষমতায় এলে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এই নারীদের মধ্যে কেউ মন্ত্রিসভায় স্থান পেতে পারেন।

বর্তমান সরকারের মেয়াদ শেষ হওয়ার অন্তত ছয় মাস আগে আগাম নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাক। ৪ জুলাই একযোগে ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ড, ওয়েলস ও নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডে ভোট হবে।

রুশনারা আলী
যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টে প্রথম বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এমপি রুশনারা আলী। লন্ডনের বাংলাদেশি অধ্যুষিত টাওয়ার হ্যামলেটসের বেথনাল গ্রিন অ্যান্ড বো আসনে ২০১০ সাল থেকে তিনি টানা চারবার এমপি নির্বাচিত হন। ২০১০ থেকে আন্তর্জাতিক উন্নয়নবিষয়ক ছায়ামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন রুশনারা। ২০১৩ সালের অক্টোবরে তিনি ছায়া শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী নিযুক্ত হন।

সিলেটে জন্ম নেওয়া রুশনারা আলীর পরিবার তার সাত বছর বয়সে যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমান। তিনি অক্সফোর্ডের সেন্ট জনস কলেজ থেকে দর্শন, রাজনীতি ও অর্থনীতিতে স্নাতক সম্পন্ন করেছেন।

রুপা হক
লেবার পার্টির মনোনয়নে ২০১৫ সালে প্রথমবারের মতো এমপি নির্বাচিত হন রুপা আশা হক। এরপর টানা তিনবার তিনি পশ্চিম লন্ডনের ইলিং সেন্ট্রাল অ্যান্ড অ্যাকটন আসনে এমপি নির্বাচিত হয়েছেন।

২০১৬ সালের অক্টোবরে লেবার পার্টির ছায়া স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পান রুপা হক। তাকে সর্বদলীয় সংসদীয় মিউজিক গ্রুপের ভাইস চেয়ার এবং ক্রসরেলের সর্বদলীয় সংসদীয় পদে নিযুক্ত করা হয়েছিল।

পাবনা শহরের মকছেদপুরে রূপার দাদার বাড়ি, আর নানার বাড়ি শহরের কুঠিপাড়ায়। দাদা মনছের আলী ও নানা মুসা বিশ্বাস মারা গেছেন বেশ আগেই। আছেন তার মামা-চাচারা। রুপার বাবা ফজলুল হক পেশায় চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট। তিনি ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় সপরিবারে ভারতের কলকাতা হয়ে লন্ডন চলে যান। ১৯৭২ সালে লন্ডনে জন্ম নেওয়া রুপা বেশ কয়েকবার পাবনায় এসেছেন।

প্রয়াত ফজলুল হক ও দুলালী বিশ্বাসের তিন মেয়ের মধ্যে দ্বিতীয় রুপা হক। পুরো নাম রুপা আশা হক। অন্য দুই বোন নতুন হক ও কনি হক। বিবিসির ব্লু পিটার শো উপস্থাপনার কল্যাণে ছোট বোন কনির নাম ব্রিটিশদের কাছে খুবই পরিচিত।  

টিউলিপ সিদ্দিক
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছোট মেয়ে শেখ রেহানার মেয়ে টিউলিপ সিদ্দিক। তিনি ২০১৫ সালে লন্ডনের হ্যাম্পস্টেড অ্যান্ড কিলবার্ন আসন থেকে লেবার পার্টির হয়ে প্রথমবারের মতো এমপি নির্বাচিত হন।

টানা তিনবারের এমপি টিউলিপ ২০১৬ সাল থেকে ছায়া শিক্ষামন্ত্রী, সর্বদলীয় পার্লামেন্টারি গ্রুপের ভাইস চেয়ার, নারী ও সমতা নির্বাচন কমিটির সদস্যের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও পালন করেছেন।

আফসানা বেগম
পূর্ব লন্ডনের পপলার অ্যান্ড লাইমহাউস আসন থেকে লেবার পার্টির মনোনয়নে ২০১৯ সালে প্রথমবারের মতো এমপি নির্বাচিত হন আফসানা বেগম।

ফিলিস্তিনের গাজায় চলমান ইসরাইলি আগ্রাসনের প্রতিবাদে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে সোচ্চার ভূমিকা পালন করে এবং গাজায় যুদ্ধবিরতির পক্ষে ভোট দিয়ে ব্যাপক আলোচনায় আসেন এমপি আফসানা বেগম।

লন্ডনের টাওয়ার হ্যামলেটস এলাকায় আফসানার জন্ম ও বেড়ে ওঠা। বাংলাদেশে তাদের আদি বাড়ি সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে। তার বাবা মনির উদ্দিন টাওয়ার হ্যামলেটসের সিভিক মেয়র ছিলেন। তিনি ছিলেন জগন্নাথপুর পৌরসভার লুদুরপুর এলাকার বাসিন্দা।

আফসানা লেবার পার্টির লন্ডন রিজিয়ন শাখার সদস্য। দলটির টাওয়ার হ্যামলেটস শাখার সহসভাপতিরও দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। তিনি টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের আবাসন বিভাগে কর্মরত।

রুমী চৌধুরী
এবার পার্লামেন্ট নির্বাচনে লেবার পার্টির মনোনয়ন নিয়ে প্রথমবারের মতো প্রার্থী হয়েছেন রুমী চৌধুরী। ২০২৩ সালে লুটন কাউন্সিল থেকে প্রথমবারের মতো কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি।

রুমী চৌধুরীর প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী কনজারভেটিভ পার্টির নেতা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রীতি প্যাটেল। ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ পার্টি এখন নড়বড়ে অবস্থায় থাকায় জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী রুমী চৌধুরী।

রুফিয়া আশরাফ
নর্থাম্পটন টাউন কাউন্সিলের মেয়র ও কাউন্সিলর রুফিয়া আশরাফ প্রথম লেবার পার্টির মনোনয়নে সাউথ নর্থাম্পটন আসন থেকে প্রার্থী হয়েছেন। আসনটি দীর্ঘদিন ধরে কনজারভেটিভ পার্টির দখলে।

অনেকেই বলছেন, ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ পার্টির জনপ্রিয়তা কমতে থাকায় দেশব্যাপী লেবার পার্টির জনজোয়ার দেখা দিয়েছে। এবার সাউথ নর্থাম্পটন আসনটি উদ্ধারে লেবার পার্টি বদ্ধপরিকর।

রুবিনা খান
রুবিনা খান বেথনাল গ্রিন অ্যান্ড স্টেপনি আসন থেকে লিব–ডেম দলের হয়ে লড়ছেন। তিনি টাওয়ার হেমলেটসে ১২ বছরের কাউন্সিলর এবং আবাসন বিষয়ক কেবিনেট সদস্য ছিলেন।  

রুবিনা ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস ও গার্ডিয়ানে ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক হিসেবে কাজ করেছেন। এ ছাড়া পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ হাউজ লর্ডসে কাউন্সিলর ও বিশেষ উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।  

রুবিনা খানের বাবা কেন্টের চাথাম ডকইয়ার্ডে মেশিন অপারেটর হিসেবে কাজ করতেন। তিনি বিয়ে করতে বাংলাদেশে ফিরে আসেন। সিলেটেই রুবিনার জন্ম হয়। তিন বছর বয়সে সপরিবারে ইংল্যান্ডে চলে যান তিনি। কেন্টের রচেস্টারে তিনি বড় হয়েছেন। তিনি লন্ডনের হোয়াইটচ্যাপেলে থাকেন।

হালিমা খান 
হালিমা খান স্টার্টফোর্ড অ্যান্ড বো আসন থেকে ওয়ার্কার্স পার্টি জিবির প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তিনি লেবার পার্টির গভর্ন্যান্স অ্যান্ড লিগ্যাল ইউনিটের তদন্তকারী ছিলেন।

রাজনীতিতে প্রবেশের আগে তিনি শিক্ষকতা করতেন। পরে শিক্ষকতা ছেড়ে দিয়ে নিউহ্যাম এবং টাওয়ার হ্যামলেটসের মানুষের জন্য কাজ শুরু করেন তিনি।

হালিমা খান মৌলভীবাজার জেলার রাজনগর উপজেলার টেংরা ইউনিয়নের বিশিষ্ট সমাজ হিতৈষী ব্যক্তি মরহুম আব্দুল হামিদ খানের নাতিন, যুক্তরাজ্যপ্রবাসী মো. জালাল আহমদ খানের বড় মেয়ে। তিনি রাজনগরের ৬ নম্বর টেংরা ইউনিয়নের টানা ৩ বারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান মোহাম্মদ টিপু খানের ভাতিজি।

নুরজাহান বেগম
নুরজাহান বেগম ইলফোর্ড সাউথ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। চার সন্তানের জননী এই নারী স্বাস্থ্য ও সামাজিক পরিচর্যাবিষয়ক কমিশনারের দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। এরপর তিনি সমাজকর্মী হিসেবে কাজ করছেন।

দিনবদলবিডি/Rony

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়