‘শেখ হাসিনার আত্মত্যাগে বিশ্বে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ’

ডেস্ক নিউজ || দিন বদল বাংলাদেশ

প্রকাশিতঃ দুপুর ০১:৩৭, বুধবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২২, ১৩ আশ্বিন ১৪২৯
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

৩৪ বছর বয়সে দেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের হাল ধরা শেখ হাসিনা আজ ৭৫ বছর বয়স পার করছেন। ৪১ বছরের রাজনৈতিক জীবনে তিনি টানা ৯ টার্ম দলের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। তার নেতৃত্বে দল অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে ঐক্যবদ্ধ ও শক্তিশালী। তিনি ঐক্যের প্রতীক ও দলের জন্য নিজেকে অপরিহার্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। দলের পাশাপাশি দেশের অর্জনেও শেখ হাসিনা ব্যাপক ভূমিকা পালন করেছেন।

আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা দলকে চারবার ক্ষমতায় এনেছেন। টানা তিন মেয়াদে ১৩ বছরসহ একযুগ দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এক দশক। পুরো সময়টাই তিনি দেশের মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করে চলেছেন বিরামহীনভাবে। নেতৃত্বে তিনি বাংলাদেশ তো বটেই, দক্ষিণ এশিয়ার সবাইকে ছাড়িয়ে গেছেন। তিনি বিশ্বনেতৃত্বে পরিণত হয়েছেন।

শত বাধা-বিপত্তি এবং হত্যার হুমকিসহ নানা প্রতিকূলতা উপেক্ষা করে শেখ হাসিনা ভাত-ভোট এবং সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার আদায়ের জন্য অবিচল থেকে সংগ্রাম চালিয়ে গেছেন। সরকারপ্রধান হিসেবে তার নেতৃত্বে বাংলাদেশ পেয়েছে উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা। শেখ হাসিনার অপরিসীম আত্মত্যাগের ফলেই বাংলাদেশ আজ বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে সক্ষম হয়েছে। শেখ হাসিনার শাসনামলে আর্থ-সামাজিক খাতে দেশ অভূতপূর্ব অগ্রগতি অর্জন করে। বিশ্বকে চ্যালেঞ্জ করে নিজস্ব অর্থায়নে দেশের ইতিহাসের বৃহত্তম স্থাপনা পদ্মা সেতু নির্মাণ করেছেন।

শেখ হাসিনার হাত দিয়েই দেশে তথ্য-প্রযুক্তির ব্যাপক প্রসার ঘটেছে। ডিজিটাল বাংলাদেশের ধারণা তিনিই দিয়েছেন। বাংলাদেশ স্যাটেলাইটের মালিকানার খাতায় নাম লিখিয়েছে।

বিশ্বের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার বিচারে তিনি একাধিকবার বিশ্বের প্রভাবশালী নেতৃত্বের উপাধি পেয়েছেন। বাংলাদেশ আজ বিশ্বের উন্নয়নের রোল মডেলে পরিণত হয়েছে। শিশু ও মাতৃমৃত্যুর হার হ্রাসের জন্য বেশ আগেই আন্তর্জাতিক পদকে ভূষিত হয়েছে বাংলাদেশ।

ভারতের সঙ্গে ৩০ বছর মেয়াদি গঙ্গা নদীর পানি চুক্তি, পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তি, দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন, ভারত ও মিয়ানমারের সঙ্গে সামুদ্রিক সমুদ্রসীমা বিরোধের নিষ্পত্তি, ভারতের সঙ্গে স্থল সীমানা বিরোধের নিষ্পত্তি, কর্ণফুলী টানেল নির্মাণ, মহাকাশে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণ, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনসহ নানামুখী উন্নয়ন চলমান রয়েছে। তার নেতৃত্বে দেশের শতভাগ মানুষ বিদ্যুৎ পাচ্ছেন। করোনা মোকাবিলায় সাফল্যের পাশাপাশি দেশের মানুষের জন্য বিনা মূল্যে টিকার ব্যবস্থা করেছেন। জীবনের পাশাপাশি জীবিকার চাকা সচল রাখার নীতি ইতিবাচক ফল দিয়েছে। এই ক্রান্তিকালেও তিনি কয়েক লাখ গৃহহীন মানুষকে ঘর তৈরি করে দিয়েছেন। বাস্তুচ্যুত ও নির্যাতিত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে আশ্রয় দিয়ে মানবতার পরিচয় দিয়েছেন। তার ক্ষমতায় থাকাকালে ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের স্বীকৃতি লাভের পাশাপাশি জাতিসংঘের নেতৃত্বে সারা বিশ্বে তা পালনের সুযোগ হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে শেখ হাসিনা উন্নয়নশীল দেশে উন্নীতকরণ, জাতীয় আয় ও রিজার্ভ বৃদ্ধি, ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোলা, জাতির পিতার হত্যাকাণ্ডের বিচারের পাশাপাশি রায় কার্যকর করা, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার বিচার সম্পন্ন করতে সক্ষম হয়েছেন। মৌলবাদ, জঙ্গিবাদ এবং সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলায় শেখ হাসিনা সবসময়ই আপসহীন নীতি অবলম্বন করছেন।

তার নিজের মুখেও বিশ্রামহীনভাবে দায়িত্ব পালনের কথা যেমন উঠে এসেছে, তেমনি তার কাজকর্মেও এর প্রতিফলন দেখা গেছে। ২০১৮ সালের ২১ জুলাই রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আওয়ামী লীগ আয়োজিত গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছিলেন, একটা মানুষের তো ২৪ ঘণ্টা সময়। এই ২৪ ঘণ্টা থেকে আমি মাত্র ৫ ঘণ্টা নিই। আমার ঘুমানোর সময়। এছাড়া প্রতিটি মুহূর্ত আমি কাজ করি দেশের মানুষের জন্য, দেশের উন্নয়নের জন্য। এর বাইরে আমার আর কোনো কাজ নেই। আমি কোনো উৎসবে যাই না। আমি কোথাও যাই না, কিচ্ছু করি না। সারাক্ষণ আমার একটাই চিন্তা—আমার দেশের উন্নয়ন, দেশের মানুষের উন্নয়ন। সারাক্ষণ চেষ্টা করি, কোথায় কোন মানুষটা কী অবস্থায় আছে, তার খোঁজ-খবর রাখতে।

দিনবদলবিডি/এমআর

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়