যেসব কারণে আমল নষ্ট হয়ে যায়

ধর্ম ডেস্ক || দিন বদল বাংলাদেশ

প্রকাশিতঃ বিকাল ০৩:১৮, বৃহস্পতিবার, ২৪ নভেম্বর, ২০২২, ৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৯
ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

মহান রাব্বুল আলামিন আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি অর্জনের মাধ্যম হচ্ছে নেক আমল। এ আমলই পরকালীন জীবনের মূলধন। তাই পরকালের সফলতা ও শান্তি পেতে নেক আমলের বিকল্প নেই। কিন্তু ইচ্ছা ও অনিচ্ছায় এমন কিছু কাজ সংঘটিত হয়, যাতে মানুষের নেক আমলগুলো নষ্ট হয়ে যায়। যেমন-

১. লোক দেখানো আমল

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘আমি তোমাদের ওপর যা ভয় করি তার মধ্যে সবচেয়ে ভয়ংকর হচ্ছে শিরকে আসগর (ছোট শিরক)। তারা বলল, হে আল্লাহর রাসূল, শিরকে আসগর কী? তিনি বলেন, রিয়া (লোক-দেখানো আমল), আল্লাহ তায়ালা কেয়ামতের দিন তাদের (রিয়াকারীদের) বলবেন, যখন মানুষকে তাদের আমলের বিনিময় দেওয়া হবে তোমরা তাদের কাছে যাও যাদের তোমরা দুনিয়ায় দেখাতে, দেখো তাদের কাছে কোনো প্রতিদান পাও কি না। ’ (মুসনাদে আহমাদ ২৩৬৩৬)।

২. গোপনে নিষিদ্ধ কাজ করা

আল্লাহ তায়ালা যেসব কাজ হারাম করেছেন, তা থেকে বেঁচে থাকা একজন মুমিনের একান্ত কর্তব্য। পাহাড়সম আমল করার পর কেউ যদি একান্ত গোপনে হারাম কাজে লিপ্ত হয়, তাহলে তাদের আমল বিনষ্ট হয়ে যায়। হাদিসে এসেছে-

হজরত সাওবান রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন, নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, আমি আমার উম্মতের একদল সম্পর্কে অবশ্যই জানি, যারা কেয়ামতের দিন তিহামার শুভ্র পর্বতমালার সমতুল্য নেক আমলসহ উপস্থিত হবে। মহামহিম আল্লাহ সেগুলোকে বিক্ষিপ্ত ধূলিকণায় পরিণত করবেন। সাওবান রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! তাদের পরিচয় পরিষ্কারভাবে আমাদের কাছে বর্ণনা করুন, যাতে অজ্ঞাতসারে আমরা তাদের অন্তর্ভুক্ত না হই। তিনি বলেন, তারা তোমাদেরই ভ্রাতৃগোষ্ঠী এবং তোমাদের সম্প্রদায়ভুক্ত। তারা রাতের বেলা তোমাদের মতো ইবাদত করবে। কিন্তু তারা এমন লোক যে একান্ত গোপনে আল্লাহর হারামকৃত বিষয়ে লিপ্ত হবে।’ (ইবনে মাজাহ ৪২৪৫)।

৩. জাদুকর ও গণকের প্রতি বিশ্বাস

ভবিষ্যতে কী হবে, তা জানার জন্য জাদুকর বা গণকদের দারস্থ হওয়া কিংবা তাদের গণনাকে বিশ্বাস করা ইসলামে নিষিদ্ধ। এর দ্বারা বান্দার কবুল হওয়া আমল বিনষ্ট হয়। হাদিসে এসেছে-

নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর ভয়াবহতা বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, ‘যে ব্যক্তি গণকের কাছে গেলো এবং তাকে কোনো ব্যাপারে প্রশ্ন করলো, ৪০ রাত তার কোনো নামাজ কবুল হবে না। (মুসলিম ৫৭১৪)।

৪. মিথ্যা শপথ করা

আল্লাহর নামে মিথ্যা শপথ করা মারাত্মক গুনাহ। এই মিথ্যা শপথে বান্দার কবুল হওয়া আমল বিনষ্ট হয় এবং আল্লাহর অসন্তুষ্টি তার ওপর বর্ষিত হয়। হাদিসে পাকে এসেছে-

হজরত জুনদাব রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, এক ব্যক্তি বলল, আল্লাহর শপথ! আল্লাহ অমুক লোককে মাফ করবেন না। আর আল্লাহ তায়ালা বলেন, ওই ব্যক্তি কে? যে শপথ খেয়ে বলে যে আমি অমুককে মাফ করব না? আমি তাকে মাফ করে দিলাম এবং তোমার শপথ নষ্ট করে দিলাম।’ (মুসলিম ৬৫৭৫)।

৫. ঈমান ত্যাগী হওয়া

আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস আনার পর তাঁকে অস্বীকার করা এবং কুফরি করাকে মুরতাদ বা ঈমান ত্যাগকারী বলা হয়। ঈমান ত্যাগকারীর দুনিয়া ও পরকালের অনেক শাস্তির মধ্যে একটি হলো- যাবতীয় নেক আমল বিনষ্ট হয়ে যায়। আল্লাহ তায়ালা বলেন-

وَ مَنۡ یَّرۡتَدِدۡ مِنۡکُمۡ عَنۡ دِیۡنِهٖ فَیَمُتۡ وَ هُوَ کَافِرٌ فَاُولٰٓئِکَ حَبِطَتۡ اَعۡمَالُهُمۡ فِی الدُّنۡیَا وَ الۡاٰخِرَۃِ ۚ وَ اُولٰٓئِکَ اَصۡحٰبُ النَّارِ ۚ هُمۡ فِیۡهَا خٰلِدُوۡنَ

অর্থ: ‘তোমাদের মধ্যে যারা নিজের দ্বীন থেকে ফিরে যাবে এবং কাফির অবস্থায় মৃত্যুবরণ করবে, দুনিয়া ও পরকালে তাদের যাবতীয় আমল বিনষ্ট হয়ে যাবে। আর তারাই হলো দোজখবাসী। তাতে তারা চিরকাল বাস করবে। ’ (সূরা: বাকারা, আয়াত ২১৭)।

মুমিন মুসলমানের উচিত, উল্লেখিত কাজগুলো থেকে নিজেদের বিরত রাখা। নিজেদের কবুল হওয়া আমলগুলো হেফজত করা। দ্বীনের ওপর অটল ও অবিচল থাকা।

আল্লাহ তয়ালা মুসলিম উম্মাহকে কবুল হওয়া আমল ধ্বংস হওয়া সব কাজ থেকে বেঁচে থাকার তাওফিক দান করুন। আমিন।

দিনবদলবিডি/আরএজে

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়