কোরবানির গোশত যতদিন পর্যন্ত খাওয়া যায়

দিনবদলবিডি ডেস্ক || দিনবদলবিডি.কম

প্রকাশিত: বিকাল ০৪:১৯, শনিবার, ৯ জুলাই, ২০২২, ২৬ শ্রাবণ
কোরবানির গোশত যতদিন পর্যন্ত খাওয়া যায়

ফাইল ফটো

ভ্রাতৃত্ব ও সৌহার্দ্যের আমেজে জীবনকে রাঙিয়ে সর্বত্র মুগ্ধতা ছড়াতে দরজায় কড়া নাড়ছে ঈদুল আজহা। ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য নিবেদন করবেন কোরবানি।

কোরবানির পশুর গোশত তিন ভাগে বণ্টন করে এক ভাগ রেখে, বাকিটুকু পৌঁছে দেবেন স্বজন ও দরিদ্র মানুষের বাড়ী বাড়ী।

এখন প্রশ্ন হলো কোরবানির গোশত সংরক্ষণ করা যাবে কি?

কোরবানিকারী কোরবানির গোশত নিজে খেতে পারেন, হাদিয়া দিতে পারেন এবং সদকা করতে পারেন। দলিল হচ্ছে আল্লাহর বাণী: ‘অতঃপর তোমরা তা থেকে খাও এবং দুঃস্থ অভাবীকে আহার করাও।’ (সূরা: হাজ্জ, আয়াত: ২৮)।

আল্লাহ আরো বলেন: ‘তখন তোমরা তা থেকে খাও এবং আহার করাও এমন দরিদ্রকে যে ভিক্ষা করে এবং এমন দরিদ্রকে যে ভিক্ষা করে না। এভাবে আমরা সেগুলোকে তোমাদের বশীভূত করে দিয়েছি যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর।’ (সূরা: হাজ্জ, আয়াত: ৩৬)।

সালামা বিন আকওয়া (রা,) থেকে বর্ণিত আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: ‘তোমরা খাও, খাওয়াও এবং সংরক্ষণ করে রাখ।’ (সহিহ বুখারি)। হাদিসে ‘খাওয়াও’ কথাটি ধনীদেরকে হাদিয়া দেওিয়া এবং দরিদ্রদেরকে দান করাকে অন্তর্ভুক্ত করবে। 
আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: ‘তোমরা খাও, সংরক্ষণ করে রাখ এবং দান কর। (সহিহ মুসলিম)।

কোরবানির গোশত কতটুকু খাওয়া যাবে, কতটুকু হাদিয়া দেওয়া হবে এবং কতটুকু সদকা করা হবে এ ব্যাপারে আলেমগণ মতভেদ করেছেন। তবে এ ক্ষেত্রে প্রশস্ততা রয়েছে। অগ্রগণ্য অভিমত হচ্ছে- এক তৃতীয়াংশ খাওয়া, এক তৃতীয়াংশ হাদিয়া দেওয়া এবং এক তৃতীয়াংশ সদকা করা। যে অংশটুকু খাওয়া জায়েয সে অংশটুকু সংরক্ষণ করে রাখাও জায়েয; এমন কি সেটা দীর্ঘ দিন পর্যন্ত হলেও যতদিন পর্যন্ত রাখলে এটি খাওয়া ক্ষতিকর পর্যায়ে পৌঁছবে না। কিন্তু যদি দুর্ভিক্ষের বছর হয় তাহলে তিনদিনের বেশি সংরক্ষণ করা জায়েয নয়। দলিল হচ্ছে সালামা বিন আকওয়া (রা,) এর হাদিস তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: ‘তোমাদের যে মধ্যে ব্যক্তি কোরবানি করেছে তৃতীয় রাত্রির পরের ভোর বেলায় তার ঘরে যেন এর কোনো অংশ অবশিষ্ট না থাকে।’ পরের বছর সাহাবায়ে কেরাম জিজ্ঞেস করল: ইয়া রাসূলুল্লাহ! আমরা কি গত বছরের মতো করব? তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: ‘তোমরা খাও, খাওয়াও এবং সংরক্ষণ কর। ওই বছর মানুষ কষ্টে ছিল। তাই আমি চেয়েছি তোমরা তাদেরকে সহযোগিতা কর।’ (সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিম)।

ওয়াজিব কোরবানি হোক কিংবা নফল কোরবানি হোক; গোশত খাওয়া কিংবা হাদিয়া দেয়ার হুকুমের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। অনুরূপভাবে কোনো জীবিত ব্যক্তির পক্ষ থেকে কোরবানি করা হোক কিংবা মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে কোরবানি করা হোক কিংবা কোনো ওসিয়তের প্রেক্ষিতে কোরবানি করা হোক এ বিধানের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। 
কেননা ওসিয়ত-পূর্ণকারী ব্যক্তি ওসিয়তকারীর স্থলাভিষিক্ত হন। ওসিয়তকারী খেতে পারেন, হাদিয়া দিতে পারেন এবং সদকা করতে পারেন। কেননা এটাই তো মানুষের মাঝে প্রথাগতভাবে প্রচলিত। আর যেটা প্রথাগতভাবে প্রচলিত সেটা শব্দ দিয়ে উচ্চারণ করার সমতুল্য।

প্রতিনিধিকে যদি তার নিয়োগকর্তা খাওয়া, হাদিয়া দেওয়া ও সদকা করার অনুমতি দেন কিংবা বিশেষ কারণ বা প্রথা অনুমতি দেওয়াকে নির্দেশ করে তাহলে তিনি সেটা করতে পারেন। নচেৎ তিনি নিয়োগকর্তাকে হস্তান্তর করবেন। নিয়োগকর্তা নিজে বণ্টনের দায়িত্ব পালন করবেন।

কোরবানির পশুর গোশত, চামড়া ইত্যাদি কোনো কিছুই বিক্রি করা হারাম। কসাইকে তার পারিশ্রমিক কিংবা পারিশ্রমিকের অংশ বিশেষ কোরবানির পশুর গোশত থেকে দেওয়া যাবে না। কেননা এটা বেচা-বিক্রির অধিভুক্ত।

আর যাকে কোরবানির পশুর হাদিয়া দেওয়া হলো কিংবা সদকা দেওয়া হলো তিনি এ গোশত বিক্রি করা কিংবা অন্য যা ইচ্ছা তা করতে পারবেন। তবে, তাকে যিনি হাদিয়া দিয়েছেন কিংবা সদকা দিয়েছেন তার কাছে বিক্রি করতে পারবেন না।

দিনবদলবিডি/আরএজে

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়