২ শতাংশ পর্যন্ত জিডিপি বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে

দিনবদলবিডি ডেস্ক || দিনবদলবিডি.কম

প্রকাশিত: দুপুর ১২:৩৭, শনিবার, ২৫ জুন, ২০২২, ৩০ শ্রাবণ

শনিবার (২৫ জুন) বেলা ১১টা ৫৯ মিনিটে মুন্সীগঞ্জের মাওয়া প্রান্তে যানবাহন চলাচলের জন্য বহুল প্রত্যাশিত ৬.১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ পদ্মা সেতুর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন তিনি। তিনি সেখানে মোনাজাতে অংশ নেন। স্বপ্নে এই সেতু রাজধানী ঢাকা এবং অন্যান্য বড় শহরের সাথে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১টি জেলার সড়ক যোগাযোগে ব্যাপক অগ্রগতি বয়ে আনবে।

দেশের বৃহত্তম স্ব-অর্থায়নকৃত মেগা প্রকল্পের জমকালো উদ্বোধন উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর কর্মসূচির সময়সূচি অনুযায়ী মাওয়া পয়েন্টে সকাল সাড়ে ১১টায় তিনি স্মারক ডাকটিকিট, স্যুভেনির সীট, উদ্বোধনী খাম এবং বিশেষ সিলমোহর উন্মোচন করেন। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের ফলে ১.২ থেকে ২ শতাংশ পর্যন্ত জিডিপি বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, পদ্মা সেতুর কারণে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি হবে প্রায় ২ শতাংশের কাছাকাছি। গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) বিশেষ ফেলো ড. মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, পদ্মা সেতুর ফলে আমাদের বিনিয়োগ, বিতরণ ও বিপণনগুলোতে যে সাশ্রয় হবে, সেটা অর্থনীতিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। এরই মধ্যে পদ্মার করিডোরের পাশ দিয়ে বিনিয়োগের বিভিন্ন ধরনের সাইনবোর্ড দেখা যাচ্ছে। এসব বিনিয়োগে যে কর্মসংস্থান হবে, সেগুলো আমাদের অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্যভাবে অবদান রাখবে।

ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি জসিম উদ্দিন বলেন, পদ্মা সেতু আমাদের অগ্রযাত্রার ঐতিহাসিক মাইলফলক। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে এ সেতু অবদান রাখবে অনেক।

অর্থনীতিবিদ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, পদ্মা সেতু চালু হওয়ায় দক্ষিণাঞ্চলের পণ্য আমদানি সহজ হয়ে গেল। এতে করে প্রবৃদ্ধি ১ থেকে সর্বোচ্চ ২ শতাংশ বাড়বে।

তৈরি পোশাক মালিক ও রপ্তানিকারক সমিতি-বিজিএমইএ’র সভাপতি ফারুক হাসান বলেন, পদ্মা সেতুর কারণে ক্রেতা ও ব্যবসায়ী উভয় লাভবান হবে। এই সেতু চালু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে কাঁচামাল আমদানি আরও সহজ, সুলভ ও দ্রুত হবে। এতে সহজ হবে আমদানি-রপ্তানি। বিভিন্ন বন্দর এলাকায় পোশাকসহ আরও অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠান হবে।

অর্থনীতিবিদ ও বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. আবুল বারাকাত বলেন, আমি ব্যাংকগুলোতে দেখছি, গত দুই বছরে শিল্প-কারখানার যত প্রস্তাব এসেছে তার অধিকাংশই পদ্মার ওপাড়ের অঞ্চলের মানুষ থেকে এসেছে। এর অধিকাংশই কৃষিভিত্তিক শিল্প। এর মানে মানুষ অলরেডি ওইসব অঞ্চলে শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার ব্যাপারে চিন্তা-ভাবনা করেছে।

তিনি আরো জানান, ২০২৭ সালে জিডিপিতে ৯ দশমিক ৫২ শতাংশ অবদান রাখবে এই পদ্মা সেতু। ওই সময় দেশের জিডিপির আকার হবে ৬৩ লাখ কোটি টাকা। এর মধ্যে ৬ লাখ কোটি টাকা হবে দক্ষিণাঞ্চলের কারণে।

দিনবদলবিডি/এমআর

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়