ইন্দোনেশিয়া থেকে প্রথম কয়লা এলো রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রে

মোংলা (বাগেরহাট) সংবাদদাতা || দিনবদলবিডি.কম

প্রকাশিত: রাত ০৯:২৬, শুক্রবার, ৫ আগস্ট, ২০২২, ২৯ শ্রাবণ
ইন্দোনেশিয়া থেকে প্রথম কয়লা এলো রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রে

ছবি : সংগৃহীত

এই প্রথম ইন্দোনেশিয়া থেকে জ্বালানির কয়লা এসেছে রামপাল তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রে। বৃহস্পতিবার (৪ আগস্ট) বিকেলে এই বিদুৎকেন্দ্রের জেটিতে তিনটি লাইটারেজ (নৌযান) জাহাজে করে কয়লা আসার পর তা আনুষ্ঠানিকভাবে খালাস শুরু হয়েছে।

রামপাল কয়লাভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) আনোয়ারুল আজীম জানান, এটাই এই প্রথম রামপাল তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম জ্বালানি কয়লা হিসেবে আমদানি করা হয়েছে। বাংলাদেশের পতাকাবাহী এমভি আকিজ হেরিটেজ জাহাজে করে ইন্দোনেশিয়া থেকে এই কয়লা আমদানি করা হয়েছে।

জাহাজটির স্থানীয় শিপিং এজেন্ট টগি শিপিংয়ের ব্যবস্থাপক মো. খন্দকার রিয়াজুল হক বলেন, গত ২০ জুলাই ইন্দোনেশিয়ার তানজুম ক্যাম্ফা বন্দর থেকে ৫৪ হাজার ৬৫০ মেট্রিক টন কয়লা নিয়ে আকিজ হেরিটেজ জাহাজটি ছেড়ে আসে। এরপর গত ৩১ জুলাই চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজটি ভেড়ে সেখানে ১৮ হাজার ৬৫০ মেট্রিক টন কয়লা খালাস করে। পরে ৩৬ হাজার মেট্রিক টন কয়লা নিয়ে মোংলা বন্দরের উদ্দেশে জাহাজটি ছেড়ে আসে। শুক্রবার সন্ধ্যায় মোংলা বন্দরের হাড়বাড়ীয়া-১১ নম্বর বয়ায় জাহাজটি অবস্থান করবে বলেও জানান খন্দকার রিয়াজ।

এদিকে রামপাল তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রে আমদানীকৃত জ্বালানি কয়লা বৃহস্পতিবার বিকেল থেকেই খালাস শুরু হয়েছে। রামপাল তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) আনোয়ারুল আজীম বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরে খালাস হওয়া ১৮ হাজার ৬৫০ মেট্রিক টন কয়লা লাইটারেজে (নৌযান) করে এখানে আনা হচ্ছে। 
বৃহস্পতিবার (৪ আগস্ট) বিকেল থেকে এই কয়লা খালাসের কাজ শুরু হয়। এখন থেকে ধারাবাহিকভাবে এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রে জ্বালানি কয়লা আসা অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।

আমদানিকৃত এই কয়লা দিয়ে আগস্ট ও সেপ্টেম্বর এই দুই মাসে কয়লাভিত্তিক রামপাল তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র পরীক্ষামূলক চালানো হবে। তারপর অক্টোবর থেকে আনুষ্ঠানিক বিদ্যুৎ উৎপাদনে যাবে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রটি।

রামপাল তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র সূত্র জানায়, এই বিদুৎকেন্দ্রটির মূল অবকাঠামো নির্মাণের দায়িত্বে রয়েছেন ভারতের হেভি ইলেকট্রিক্যালস লিমিটেড (বিএইচইএল) নামের ভারতীয় রাষ্ট্রীয় সংস্থা। ২০১০ সালে ভূমি অধিগ্রহণের মাধ্যমে প্রকল্পটির কাজ শুরু হয়।

২০১২ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয় নির্মাণকাজ। বিদ্যুৎকেন্দ্রটি নির্মাণে মোট ১৬ হাজার কোটি টাকা খরচ হচ্ছে। এখান থেকে দুই ইউনিটে ৬৬০ মেগাওয়াট করে ১৩২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের কথা রয়েছে।

দিনবদলবিডি/এইচএআর

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়