যে অভ্যাসগুলো খারাপ কোলেস্টেরল বাড়তে দেয় না

দিনবদলবিডি ডেস্ক || দিনবদলবিডি.কম

প্রকাশিত: দুপুর ০২:৪১, মঙ্গলবার, ২ আগস্ট, ২০২২, ২৯ শ্রাবণ

কোলেস্টেরল হলো আপনার রক্তনালীতে থাকা চর্বি। যার সাহায্যে আপনার শরীর কোষ তৈরি করে। কিন্তু যখন রক্তনালিতে এর পরিমাণ বাড়তে শুরু করে, তখন এটি আপনার হৃদরোগের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে শুরু করে।

উচ্চ কোলেস্টেরল জেনেটিক। কিন্তু অস্বাস্থ্যকর লাইফস্টাইলের কারণে প্রায়ই এটা হয়ে থাকে। এর কোনো নির্দিষ্ট লক্ষণ না থাকায় একে নীরব ঘাতক বলা হয়। এমন পরিস্থিতিতে একটি স্বাস্থ্যকর খাবার, নিয়মিত ব্যায়াম এবং চেকআপ আপনাকে এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থেকে বাঁচাতে পারে।

ভারতের ন্যাশনাল হার্ট, লাং অ্যান্ড ব্লাড ইনস্টিটিউট (এনএইচএলবিআই) অনুসারে, একজন ব্যক্তির প্রথম কোলেস্টেরল স্ক্রীনিং ৯ থেকে ১১ বছর বয়সের মধ্যে হওয়া উচিত এবং তারপরে প্রতি পাঁচ বছরে পুনরাবৃত্তি করা উচিত। এছাড়াও ৪৫ থেকে ৬৫ বছর বয়সী পুরুষ এবং ৫৫ থেকে ৬৫ বছর বয়সী নারীদের প্রতি দুই বছর অন্তর কোলেস্টেরল পরীক্ষা করা উচিত। একই সময়ে, ৬৫ বছরের বেশি ব্যক্তিদের প্রতি বছর একটি কোলেস্টেরল পরীক্ষা করা উচিত। এসব পরীক্ষার সময় কোলেস্টেরল বের হলে কী করবেন?

ভারতের পুষ্টিবিদ নিকিতা তানওয়ার, তার ইন্সটাগ্রাম পোস্টে, উচ্চ কোলেস্টেরল আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য সহজ টিপস শেয়ার করেছেন। যার সাহায্যে আপনি আপনার বর্ধিত খারাপ কোলেস্টেরল এলডিএল নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন। জীবনধারার কিছু পরিবর্তনের মাধ্যমে কোলেস্টেরলের অভিযোগ নিরাময় করা যায়। এমতাবস্থায় সেই পরিবর্তনগুলো কী হওয়া উচিত, তা এখানে জানতে পারবেন।

আপনি যদি কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ করতে চান তবে এই অভ্যাসটি গ্রহণ করুন

কম ফ্যাট যুক্ত খাবার এবং কার্বোহাইড্রেট খান

পুষ্টিবিদ ডায়েট থেকে হাইড্রোজেনেটেড বা উদ্ভিজ্জ চর্বি যেমন কুকিজ, ক্র্যাকার, চিপস এবং ওমেগা -৬ তেলের উৎস তেমনই ভুট্টা এবং ক্যানোলার সমস্ত খাবার কমানোর পরামর্শ দেন। উদ্ভিজ্জ তেলে কোলেস্টেরল কম বলে যেগুলো বিজ্ঞাপনে দেখে তার দ্বারা প্রতারিত হবেন না। শরীরের প্রয়োজনীয় ফ্যাট যোগাতে মাখন, তৈলাক্ত মাছ এবং অল্প পরিমাণ বাদাম ও বীজ খান। এটি আপনার এইচডিএল মাত্রা বাড়ায়।

ওজন কমান

যদি আপনার পরিবারে উচ্চ কোলেস্টেরলের কোনো ইতিহাস না থাকে, তাহলে আপনার পক্ষে কোলেস্টেরল রোগ এড়ানো খুব সহজ। এমন পরিস্থিতিতে অতিরিক্ত চর্বি কমানোর ফলে আপনার এলডিএল মাত্রা স্বয়ংক্রিয়ভাবে কমে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। পরিশোধিত কার্বোহাইড্রেট হ্রাস করা একটি ভালো বিকল্প হতে পারে। অর্থাৎ ফ্রেঞ্চ ফ্রাই, চিপস এবং চিনি যুক্ত জিনিস খাওয়া কমিয়ে দিন।

২৫-৩০ গ্রাম ফাইবার গ্রহণ করা প্রয়োজন

যদি আপনার কোলেস্টেরল বেশি থাকে তবে ভারসাম্য বজায় রাখতে ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার খান। আপনার ডায়েটে ২৫-৩০ গ্রাম ফাইবার অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করুন। এর পরিপূর্ণতার জন্য আপনি তিসি, বাদাম, ডালিম, শুকনো ডুমুর, গমের ভুসি, বাজরা, রাইয়ের আটা, রাজমা, মসুর ডাল, গাজর এবং বিট খেতে পারেন।

বিরতিহীন উপবাস উপকারী

পুষ্টিবিদের মতে বিরতিহীন উপবাস আপনার শক্তি বাড়াতে কাজ করে। ইনসুলিন প্রতিরোধের নিরাময় করে। অর্থাৎ এমন অবস্থা যখন শরীর সহজে রক্ত থেকে গ্লুকোজ শোষণ করতে সক্ষম হয় না। এর সঙ্গে, এটি ওজন কমাতে, খারাপ কোলেস্টেরল এলডিএল এবং ট্রাইগ্লিসারাইড পরিচালনা করতে কাজ করে।

মানসিক চাপ নয়

পুষ্টিবিদ বলেছেন যে ফ্যাটযুক্ত খাবারের কারণে হার্ট অ্যাটাক হয়। এটি আপনাকে বুঝতে হবে যে এটি মানসিক চাপ যা শরীরের অভ্যন্তরে প্রদাহ সৃষ্টি করে। যার কারণে সব ধরনের রোগ হয়। দীর্ঘস্থায়ী চাপ আপনার ধমনীতে প্রদাহের সবচেয়ে বড় কারণগুলির মধ্যে একটি।

উল্লেখ্য, এই প্রতিবেদনটি শুধুমাত্র সাধারণ তথ্যের জন্য। এটি কোনোভাবেই কোনো ওষুধ বা চিকিৎসার বিকল্প হতে পারে না। আরো বিস্তারিত জানার জন্য সর্বদা আপনার চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।

সূত্র: এই সময়

দিনবদলবিডি/আরএজে

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়