চিত্রশিল্পী এসএম সুলতানের ৯৮তম জন্মবার্ষিকী আজ

দিনবদলবিডি ডেস্ক || দিনবদলবিডি.কম

প্রকাশিত: সকাল ০৯:৪০, বুধবার, ১০ আগস্ট, ২০২২, ১০ আশ্বিন
চিত্রশিল্পী এসএম সুলতানের ৯৮তম জন্মবার্ষিকী আজ

এসএম সুলতান

আজ ১০ আগস্ট (বুধবার) বরেণ্য চিত্রশিল্পী এসএম সুলতানের ৯৮তম জন্মবার্ষিকী। ১৯২৪ সালের আজকের এদিনে তৎকালীন মহকুমা শহর নড়াইলের চিত্রা নদীর পাশে মাছিমদিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তিনি।

এসএম সুলতানের পিতা মো. মেছের আলী ও মাতা মোছা. মাজু বিবি। পিতা-মাতার দেওয়া আদুরে ডাকনাম ছিল লাল মিয়া।

বিশ্ব বরেণ্য এই চিত্রশিল্পীর জন্মবার্ষিকী জন্মদিন উপলক্ষে নড়াইলে বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। এস এম সুলতান ফাউন্ডেশনের সভাপতি জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করছেন। এসএম সুলতান ফাউন্ডেশনের আয়োজিত কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে- কোরআনখানি, শিশুদের চিত্রাঙ্কন ও রচনা প্রতিযোগিতা পুষ্পমাল্য অর্পণ, দোয়া মাহফিল ও এস এম সুলতান আর্ট ক্যাম্পের উদ্বোধন।

সুলতানের ৭০ বছরের বোহেমিয়ান জীবনে তিনি তুলির আঁচড়ে দেশ, মাটি, মাটির গন্ধ আর ঘামে ভেজা মেহনতি মানুষের সঙ্গে নিজেকে একাকার করে সৃষ্টি করেছেন-পাট কাটা, ধানকাটা, ধান ঝাড়া, জলকে চলা, চর দখল, গ্রামের খাল, মৎস্য শিকার, গ্রামের দুপুর, নদী পারা পার, ধান মাড়াই, জমি কর্ষণে যাত্রা, মাছ ধরা, নদীর ঘাটে, ধান ভানা, গুন টানা, ফসল কাটার ক্ষণে, শরতের গ্রামীণ জীবন, শাপলা তোলা’র মত বিখ্যাত সব ছবি।

১৯৫০ সালে ইউরোপ সফরের সময় যৌথ প্রদর্শনীতে তার ছবি সমকালনী বিশ্ববিখ্যাত চিত্রশিল্পী পাবলো পিকাসো, ডুফি, সালভেদর দালি, পলক্লী, কনেট, মাতিসের ছবির সঙ্গে প্রদর্শিত হয়। সুলতানই একমাত্র এশিয়ান শিল্পী যার ছবি এসব শিল্পীদের ছবির সঙ্গে একত্রে প্রদর্শিত হয়েছে।

১৯৫৩ সালে তিনি দেশে ফিরে আসেন। কিছুদিন ঢাকা আর্ট কলেজের ছাত্রাবাসে থাকার পর ফিরে আসেন মাতৃভূমি নড়াইলে। ১৯৫৫ সালে নড়াইলের কালিয়া উপজেলার চাচুড়ি পুরুলিয়ায় নন্দন কানন স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৫৬ সালে তিনি পল্লী কবি জসিম উদ্দিনের সঙ্গে কিছুদিন ছিলেন। ১৯৬৮ সালে যশোর খুলনা ক্লাবে তার একক চিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করেন। ১৯৬৯ সালের ১০ জুলাই সুলতানের মাছিমদিয়ার বাড়িতে দি ইনস্টিটিউট অফ ফাইন আটর্স উদ্বোধন করেন। এমনকি ১৯৭১ সালে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় তিনি জেলার বিভিন্ন গ্রামে ঘুরে-ঘুরে যুদ্ধের ছবি আঁকেন। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর শিল্পী নিজ শহরে ঘুরে বেড়িয়েছেন এক স্থান থেকে অন্য স্থানে।

১৯৭৬ সালে ঢাকায় শিল্পকলা একাডেমিতে তার একক চিত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। মুলত: এই প্রদশর্নীর মাধ্যমে এ দেশের সুশীল সমাজের তার নতুন ভাবে পরিচয় ঘটে।

কালোর্ত্তীণ এই চিত্রশিল্পী ১৯৮২ সালে একুশে পদক, ১৯৮৪ সালে বাংলাদেশ সরকারের রেসিডেন্স আর্টিস্ট হিসেবে স্বীকৃতি, ১৯৮৬ সালে চারুশিল্পী সংসদ সম্মাননা এবং ১৯৯৩ সালে রাষ্ট্রীয় ভাবে স্বাধীনতা পদক লাভ করেন।

১৯৯৪ সালের ১০ অক্টোবর যশোরের সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

দিনবদলবিডি/আরএজে

আরো পড়ুন  

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়