বুধবার

২৬ জানুয়ারি ২০২২


১৪ মাঘ ১৪২৮,

২০ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

দিন বদল বাংলাদেশ

চট্টগ্রামে ট্রেন-বাস সংঘর্ষ

আমার শাহীনকে ফিরিয়ে দাও, মর্গের সামনে বাবার চিৎকার

চট্টগ্রাম সংবাদদাতা || দিনবদলবিডি.কম

প্রকাশিত: ২১:৪১, ৪ ডিসেম্বর ২০২১   আপডেট: ২১:৪২, ৪ ডিসেম্বর ২০২১
আমার শাহীনকে ফিরিয়ে দাও, মর্গের সামনে বাবার চিৎকার

‘আমি কিছু চাই না। তোমরা আমার শাহীনকে ফিরিয়ে দাও।’ শনিবার বিকেলে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গের সামনে চিৎকার করে কথাগুলো বলছিলেন চট্টগ্রামে রেলক্রসিংয়ে দুর্ঘটনায় নিহত এইচএসসি পরীক্ষার্থী সাতরাজ উদ্দিন শাহীনের বাবা মো. করিম। 

‘দুই ছেলের মধ্যে শাহীন সবার বড়। সে অনেক মেধাবী ছিল। আজ কলেজে কাজ আছে বলে বাসা থেকে বের হয়। আমার ছেলে আর ফিরল না।’ এ কথা বলেই মো. করিম কান্নায় ভেঙে পড়েন।

বেলা ১১টার দিকে চট্টগ্রাম নগরের জাকির হোসেন সড়কের ঝাউতলা এলাকায় বাস, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও টেম্পোর সঙ্গে ডেমু ট্রেনের সংঘর্ষ ঘটে। এতে পুলিশ সদস্যসহ তিনজনের মৃত্যু হয়। তাদেরই একজন পাহাড়তলী ডিগ্রি কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের এইচএসসি পরীক্ষার্থী শাহীন। একটি পরীক্ষাও দিয়েছিল সে।

হাসপাতালের মর্গের সামনে শাহীনের বাবার পাশেই দাঁড়িয়ে ছিলেন মামা মো. ইউসুফ। তিনি বলেন, বোনজামাই একটি দোকানে চাকরি করেন। কষ্ট করে ছেলেকে পড়ালেখা করিয়েছিলেন। শাহীনের ছোট আরেকটি ভাই আছে। সবার স্বপ্ন ছিল, শাহীন বড় হয়ে পরিবারের হাল ধরবে। কিন্তু কী থেকে কী হয়ে গেল!

তিনি আরো বলেন, গেটম্যানের গাফিলতির কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে এ ঘটনার বিচার চাই। আজ আমাদের শাহীন মারা গেছে। ভবিষ্যতে যেন আর কোনো শাহীন এভাবে মারা না যায়। 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঝাউতলার ওই রেললাইনের ওপর দিয়ে ঢাকাগামী দূরপাল্লার বাসসহ নগরের ভেতরের বিভিন্ন পরিবহন চলাচল করে। শনিবার বেলা ১১টার দিকে চট্টগ্রামের নাজিরহাট থেকে চট্টগ্রাম স্টেশনগামী ডেমু ট্রেনের সঙ্গে বাস, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও টেম্পোর সংঘর্ষ ঘটে। 

খুলশী থানার ওসি শাহিনুজ্জামান বলেন, রেলক্রসিংয়ের গেটবারটি লাগানো হয়নি। এতে সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও টেম্পো কিছুটা সামনে চলে আসে। এরমধ্যেই পেছন থেকে একটি বাস গাড়ি দুটিকে কিছুটা ধাক্কা দিয়ে আরও সামনে এগিয়ে রেললাইনের ওপরে নিয়ে যায়। এমন সময় ট্রেন চলে আসে। ট্রেনের ধাক্কায় অটোরিকশাটি ছিটকে দুমড়ে-মুচড়ে যায়। টেম্পো ও বাসেও ধাক্কা লাগে।

এ ঘটনায় শাহীন ছাড়াও মারা গেছেন, ট্রাফিক উত্তর বিভাগে কর্মরত কনস্টেবল মনির উদ্দিন ও সিএনজিযাত্রী সৈয়দ বাহাউদ্দিন আহমেদ। মনির উদ্দীন রেললাইনের ওপর থেকে গাড়িগুলো সরানোর চেষ্টা করছিলেন। রেলক্রসিংয়ের গেটম্যান আলমগীর ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছেন।  ঘটনা তদন্তে রেল ও রেলওয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে পৃথক দুটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

দিনবদলবিডি/এমআর

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়