বৃহস্পতিবার

০৩ ডিসেম্বর ২০২০


১৯ অগ্রাহায়ণ ১৪২৭,

১৭ রবিউস সানি ১৪৪২

দিন বদল বাংলাদেশ

শ্রেষ্ঠ শিক্ষক-শিক্ষিকার অন্তরঙ্গ ছবি ভাইরাল

বরিশাল সংবাদদাতা || দিনবদলবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৬:৩৬, ১৯ নভেম্বর ২০২০   আপডেট: ২০:৪৫, ১৯ নভেম্বর ২০২০
শ্রেষ্ঠ শিক্ষক-শিক্ষিকার অন্তরঙ্গ ছবি ভাইরাল

ছবি: সংগৃহীত

বরিশাল বিভাগের শ্রেষ্ঠ শিক্ষকের তালিকায় নাম থাকা দুই শিক্ষক-শিক্ষিকার অন্তরঙ্গ ছবি স্যোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। এ নিয়ে বরিশালের বাবুগঞ্জে চলছে আলোচনা-সমালোচনা। এ ঘটনায় উপজেলা শিক্ষা অফিসার আকবর কবীর দুই সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন। এরা হলেন- উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার রোমাঞ্চ আহমেদ এবং মনীরুল হক। কমিটির প্রধান করা হয়েছে রোমাঞ্চ আহমেদকে।

গত ১৬ নভেম্বর সচেতন নাগরিকদের পক্ষ থেকে বাবুগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান কাজী ইমদাদুল হক দুলালের কাছে উপজেলার রহমতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোক্তার হোসেনের বিরুদ্ধে নারী কেলেঙ্কারি, চাকরি দেওয়ার নামে ঘুষ, শিক্ষক বদলি বাণিজ্যসহ ১৭টি অভিযোগ দায়ের করা হয়। 

এতে উপজেলা চেয়ারম্যান উপজেলা শিক্ষা অফিসারকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থার নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। সম্প্রতি ওই প্রধান শিক্ষক মোক্তারের সঙ্গে অপর এক প্রধান শিক্ষিকার অন্তরঙ্গ ছবি বাবুগঞ্জ শিক্ষক সমিতির এক নেতার ফেসবুক আইডি থেকে স্ট্যাটাস দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ভাইরাল হয়। এ নিয়ে এলাকায় নানা গুঞ্জনসহ সমালোচনার ঝড় উঠে। সংশ্লিষ্টদের পরিচিত এক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করায় শর্তে জানান, দুই সন্তানের জননী ওই শিক্ষিকা বর্তমানে উপজেলার একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত রয়েছেন। 

তিনি আরো জানান, মোক্তার হোসেন বিভিন্ন সময় প্রধান শিক্ষিকাকে ফোন করে ডেকে নিয়ে বিভিন্ন কাজের দায়িত্ব দিলে তিনি তা করে দিতেন। এভাবেই তাদের মধ্যে অন্তরঙ্গ এবং প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। একপর্যায়ে প্রধান শিক্ষিকার শর্তসাপেক্ষে গত ২৭ সেপ্টেম্বর মোক্তার হোসেন তার প্রথম স্ত্রীকে নোটারির মাধ্যমে তালাক দেন এবং ২৯ সেপ্টেম্বর নোটারির মাধ্যমে ১৫ লাখ টাকার কাবিনে বিয়ে করেন প্রধান শিক্ষিকাকে। 

এদিকে, বিয়ের পরও মোক্তার হোসেন প্রথম স্ত্রীর কাছে থাকায় দ্বিতীয় স্ত্রী স্বামীর অধিকার পেতে উপজেলা চেয়ারম্যান কাজী ইমদাদুল হক দুলালের কাছে মৌখিক অভিযোগ করেন। এতে ক্ষিপ্ত হন মোক্তার। পরে বিয়ের আগে ওই শিক্ষিকার সঙ্গে তোলা অন্তরঙ্গ ছবি ফেসবুকে ছেড়ে দেওয়া হয়। সূত্র জানায়, প্রধান শিক্ষক মোক্তারের মোবাইল থেকে ছবিগুলো কেউ তার ফেসবুকে আপলোড করে দিলেও শিক্ষক পরে তা মুছে ফেলেন। কিন্তু তার আগেই ছবিগুলো মানুষজন সংরক্ষণ করে ছড়িয়ে দেয়। স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, ওই প্রধান শিক্ষিকাই ছবিগুলো মেসেঞ্জারের মাধ্যমে লোকজনের কাছে সরবরাহ করেছেন নিজের অধিকার ফিরে পাওয়ার জন্য।

এদিকে ঘটনা প্রসঙ্গে দুই সন্তানের জনক উপজেলার দেহেরগতি ইউনিয়নের ইদিলকাঠি গ্রামের মোক্তার হোসেন বলেন, তার (প্রধান শিক্ষিকা) সঙ্গে আমার কর্মক্ষেত্রে সাধারণ পরিচয় ছাড়া অন্য কোনো সম্পর্ক নেই। তবে ভাইরাল হওয়া ছবি সম্পর্কে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। তিনি অবশ্য সাংবাদিকদের বিষয়টি চেপে যেতে অনুরোধ করেন। 

অপরদিকে প্রধান শিক্ষিকা সাংবাদিকদের বলেন, মোক্তার হোসেন আমার জীবন শেষ করেছে। আপনারা তার সঙ্গে আমাকে মিলিয়ে দেন। 

মোক্তারের প্রথম স্ত্রী নাছিমা বেগম বানারীপাড়া পল্লী বিদ্যুতে চাকরি করেন। তিনি বলেন, আমার স্বামী আমাকে তালাক দিতে পারে না। ওই প্রধান শিক্ষিকা তাকে ফাঁদে ফেলে এ ঘটনা ঘটিয়েছে। ভাইরাল হওয়া ছবির বিষয়ে কোনো মন্তব্য না করে বিষয়টি এড়িয়ে যান তিনিও। 

বাবুগঞ্জ শিক্ষক সমিতির সভাপতি জাহিদুর রহমান সিকদার ও যুগ্ম সম্পাদক মনোয়ার হোসেন দুজনেই জেলা শিক্ষা অফিসারের কাছে মৌখিকভাবে বিষয়টি জানিয়েছেন। ওই শিক্ষক নেতারা বলেন, আমরা সমাজে ছাত্র-অভিভাবকদের কাছে মুখ দেখাতে লজ্জা পাচ্ছি। 

তারা আরো বলেন, প্রধান শিক্ষক মোক্তার হোসেন এবং ওই প্রধান শিক্ষিকা দুইজনই বরিশাল বিভাগের শ্রেষ্ঠ শিক্ষক তালিকায় রয়েছেন এবং তারাই বাবুগঞ্জে শ্রেষ্ঠ প্রেমিক-প্রেমিকা হিসেবে শিক্ষক সমাজকে কলঙ্কিত করেছেন। তারা তদন্ত কমিটির কাছে সুষ্ঠু বিচারের দাবি জানিয়েছেন।

দিনবদল বিডি/এআর

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়