বৃহস্পতিবার

০৩ ডিসেম্বর ২০২০


১৯ অগ্রাহায়ণ ১৪২৭,

১৭ রবিউস সানি ১৪৪২

দিন বদল বাংলাদেশ

‘আমি ধর্ষণ করি নাই’, রায়ের দিন কাঠগড়ায় মজনু

নিজস্ব প্রতিবেদক || দিনবদলবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৫:৪০, ১৯ নভেম্বর ২০২০   আপডেট: ১৫:৪১, ১৯ নভেম্বর ২০২০
‘আমি ধর্ষণ করি নাই’, রায়ের দিন কাঠগড়ায় মজনু

সংগৃহীত ছবি

চলতি বছরের জানুয়ারিতে রাজধানীর কুর্মিটোলায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) এক ছাত্রীকে ধর্ষণ মামলার একমাত্র আসামি মজনুর যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। 

আজ (বৃহস্পতিবার) দুপুরে এ রায় দেন আদালত। কিন্তু আদালতে কাঠগড়ায় তোলার শুরু থেকে মজনুকে উত্তেজিত দেখা যায়। পুলিশ-আইনজীবীদের সঙ্গেও তিনি উদ্ধত আচরণ করেছেন বেশ কয়েকবার। করেছেন অকথ্য ভাষায় গালাগালি ও চেঁচামেচি।

এ সময় চিৎকার করে মজনু বলেন, আমি ধর্ষণ করি নাই, আমাকে ছেড়ে দাও, আমি বাড়ি যাব। আমাকে ছেড়ে না দিলে লাফ দিয়ে মরে যাব। তিনি আরো বলেন, আমি ধর্ষণ করি নাই, ধর্ষণ করছে চারজন মিলে। কিন্তু পুলিশ তাদের ধরছে না। আমি গরিব দেখে আমাকে ধরেছে। আমার নাম মজনু পাগল, আমার গায়ে শক্তি নাই। আমাকে ছেড়ে দেন।

রায় ঘোষণার পরেও উত্তেজিত দেখা গেছে মজনুকে। ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৭-এর বিচারক বেগম মোসাম্মৎ কামরুন্নাহার এ রায় ঘোষণা করেন।

এদিকে রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি আফরোজা ফারহানা আহম্মেদ অরেঞ্জ। তিনি বলেন, ঢাবি ছাত্রী ধর্ষণ মামলার একমাত্র আসামি মজনুর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়ায় আমরা সন্তুষ্ট। এ রায়ে আমরা ন্যায়বিচার পেয়েছি। তবে মজনুর আইনজীবী (সরকার থেকে নিয়োগপ্রাপ্ত) রবিউল ইসলাম বলেন, রায়ে আমরা ন্যায়বিচার পায়নি। রায়ের বিরুদ্ধে আমরা উচ্চ আদালতে যাব।

এর আগে গত ১২ নভেম্বর মামলাটির রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল রায় ঘোষণার জন্য এ তারিখ ঠিক করেন। গত ৫ নভেম্বর মজনুর বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ করেন ট্রাইব্যুনাল। মামলাটিতে ২৪ জন সাক্ষীর মধ্যে ২০ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ করেছেন আদালত।

গত ২৬ আগস্ট ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৭-এর বিচারক আসামি মজনুর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। এরআগে গত ১৬ মার্চ মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক আবু সিদ্দিক সিএমএম আদালতের সংশ্লিষ্ট শাখায় চার্জশিট জমা দেন।

মামলাটি গত ৬ জানুয়ারি ক্যান্টনমেন্ট থানা পুলিশ তদন্তের জন্য ডিবি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ওইদিন দুপুরে ভুক্তভোগী ছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে ক্যান্টনমেন্ট থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা দায়ের করেন।

অভিযোগ বলা হয়, গত ৫ জানুয়ারি সন্ধ্যা ৫টা ৪০ মিনিটের দিকে তার বান্ধবীর বাসায় যাওয়ার উদ্দেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে রওনা করেন ওই শিক্ষার্থী। সন্ধ্যা ৭টার দিকে বাসটি ক্যান্টনমেন্ট থানার কুর্মিটোলা বাসস্ট্যান্ডে থামে। বাস থেকে নেমে ওই শিক্ষার্থী ফুটপাত দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন। এ সময় সুযোগবুঝে তাকে জাপটে ধরে মজনু। এরপর ফুটপাতের পাশের ঝোঁপে নিয়ে ভিকটিমকে ধর্ষণ করে।

ঢাবি শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের ঘটনায় মজনু নামে এক যুবককে গ্রেফতার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ধর্ষণ মামলার একমাত্র আসামি এই মজনু বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।

দিনবদলবিডি/এস

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়