বৃহস্পতিবার

২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১


৮ আশ্বিন ১৪২৮,

১৩ সফর ১৪৪৩

দিন বদল বাংলাদেশ

আসছে ইশকুল খোলার প্রফুল্ল দিন, রাস্তা কি প্রস্তুত? 

সম্পাদকীয় বিভাগ || দিনবদলবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৩:২২, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২১  
আসছে ইশকুল খোলার প্রফুল্ল দিন, রাস্তা কি প্রস্তুত? 

ফাইল ফটো

করোনা মহামারির শুরুর পর থেকেই বাংলাদেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধের ঘোষণা দেয় সরকার। মাঝে একবার বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দিতে উদ্যোগী হয়েও বিরাজমান বাস্তবতার মুখে দ্রুত সে সিদ্ধান্ত থেকে বের হয়ে আসতে হয়েছে। এরপর বাংলাদেশ করোনা মহামারির দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবেলা করেছে। অনেক মৃত্যুর সারি পার হয়ে দেশ কিছুটা স্থিতিশীল অবস্থায় আসায় প্রথমে অফিস আদালত এবং আগামী ১২ সেপ্টেম্বর থেকে স্কুল-কলেজ খোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। করোনা সংক্রমণ হার নেমে এসেছে ১০ শতাংশের নিচে, টিকাও দেওয়া হয়েছে প্রায় ৩ কোটি ৪০ লাখ ডোজের মতো। 

কারখানা, অফিস আদালত খোলা ও স্কুল-কলেজ খোলার ঘোষণায় দেশে একটি ইতিবাচক বাতাস বইছে। মানুষের চলাচলে স্বকাভাবিকতা এসেছে। ব্যবসা-বাণিজ্যে গতি ফিরেছে। ঢাকার রাস্তা ফিরেছে প্রায় পুরাতন চেহারায়।

কিন্তু এই লম্বা বিরতিতে অনেক কিছুর পরিবর্তন হলেও ঢাকাবাসীর দৈনন্দিন ভোগান্তি-ভাগ্যের বিশেষ বদল ঘটেনি। স্কুল খোলার আগেই শুরু হয়েছে তীব্র যানজট। গত এক সপ্তাহের ভ্যাঁপসা গরম ও যানজটে রাজধানীবাসীর অবস্থা বেশ নাকাল। 

রাজধানীর অন্যতম প্রবেশমুখ ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক তো দুর্ভোগের এক ধ্রুপদী নমুনায় পরিণত হয়েছে। এই রাস্তা গত ১০-১২ বছর ধরেই গতিহীন ভাঙাচোরা। রাস্তা কেন্দ্রিক নানা উন্নয়ন কার্যক্রমের সুফল হয়তো আগামী কয়েক বছরে পাওয়া যাবে, কিন্তু এত সকরুণ অবস্থায় আর কত পারা যায়! আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের গত কয়েকদিন আগে এই রাস্তা ফের পরিদর্শন করেছেন এবং উষ্মা প্রকাশ করেছেন। এই রাস্তায় যানজটের চাপ কমাতে গত লকডাউনের আগে টঙ্গীর এমপি যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসানের চেষ্টায় জয়দেবপুর থেকে ঢাকা রুটে ৫টি বিশেষ ট্রেন পর্যন্ত চালু করার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। জয়দেবপুর থেকে আব্দুল্লাহপুর যেতে কখনো ৩ থেকে ৬ ঘণ্টা সময় লাগে। 

ঢাকার ভেতরের অবস্থাও বিশেষ সুবিধার নয়। রাজধানীর গুলশান, বনানী, তেজগাঁও, সাতরাস্তা, মগবাজার, শাহজাহানপুর, মানিকনগর, গুলিস্তান, মতিঝিল ও হানিফ ফ্লাইওভারের বিভিন্ন পয়েন্টে হরদম তীব্র জটে আটকে থাকছে শত শত যানবাহন। ভ্যাপসা গরমে অতিষ্ঠ হয়ে ওঠে বাসের যাত্রীরা। যানজটে পড়ে গরম ও বৃষ্টিতে ভিজতে হয়েছে রাইড শেয়ারিংয়ের বাইক যাত্রীদের। 

গত বৃহস্পতিবার দিনবদলবিডি.কমের এক কর্মীর নীলক্ষেত থেকে বারিধারা আসতে সময় লেগেছে আড়াই ঘণ্টা। অথচ সাধারণ যানজট পেরিয়েও এটা খুব বেশি হলে ১ ঘণ্টার পথ। 

ট্রাফিক জ্যামের সমস্যা যে শুধুমাত্র সড়কের উন্নয়ন কাজ, খোঁড়াখুঁড়ি বা সরকার সংশ্লিষ্ট বিষয় তা কিন্তু নয়। এর সঙ্গে অনেক বেশি জড়িত সড়কে যারা যান চালান তারা। আপনি যদি ঢাকার লোকাল বাসের যাত্রী হয়ে থাকেন তাহলে তা হাড়ে-হাড্ডিতে বোঝার কথা। বাসগুলো প্রতি মোড়ে এলোমেলো করে দাঁড়ায়, যাত্রী উঠা নামা করায়। পথ আটকে পেছনে লম্বা গাড়ির সারি দাঁড় করিয়ে ডেকে ডেকে যাত্রী শিকারে ব্যস্ত হতে দেখা যায় কন্ডাকটরদের। ভুক্তভোগী যাত্রীর বকা এমনকি ট্রাফিক পুলিশের লাঠির হুমকিতেও অবিচল থেকে কন্ডাকটর-ড্রাইভার এই কাজ করে যেতে সক্ষম। অদক্ষ চালক, ফিটনেস ছাড়া যানের আলাপ তো আছেই। এরমধ্যে নতুন বালাই হিসেবে যুক্ত হয়েছে, অতি সতর্ক মধ্যবিত্ত গাড়িওয়ালারা। ইনারা এতই বেশি সতর্ক যে আঁচড় এড়াতে দূর দিগন্ত দিয়ে গাড়ি চালাতেও দ্বিধা করবেন না। আর একশ্রেণির রাইড শেয়ারিং বাইকারদের নিয়ম না মানার প্রবণতার কথা কে না জানে!

এই আলাপটা আসলে স্কুল খোলার আগে সতর্কতার জন্যই। ঢাকার রাস্তায় অন্যতম একটি চাপ হলো ছাত্র ও তার অভিবাবকদের চলাচলের সময় টায়। দেশে প্রথম কোভিড-১৯ রোগী শনাক্তের পর ২০২০ সালের ১৭ মার্চ সরকার সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করে। এর পর থেকে স্কুল কলেজ বন্ধই আছে। এখন আগামী ১২ তারিখ থেকে সরকার স্কুল খোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কিন্তু স্কুল খোলার সঙ্গে শুধু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানই সংশ্লিষ্ট নয়। এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরো অনেক শাখা প্রশাখা যুক্ত। কিন্তু এজন্য সবাই সমান প্রস্তুত বলে মনে হয় না। শুধু রাজধানী নয়, এই বাস্তবতা দেশের অন্যান্য ছোট বড় শহরগুলোর ক্ষেত্রেও প্রায় একই।

স্কুল খোলার পর কি আরো বেশি ট্রাফিক বিপাকে পড়তে যাচ্ছে মানুষ? এই বিষয় কি ভাবা হচ্ছে? গত কয়েকদিনে ঢাকাবাসীর অভিজ্ঞতা বেশ তিক্ত। তাই স্কুল খোলার সঙ্গে সঙ্গে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার দিকে আরো গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। নইলে স্কুল-কলেজ খোলার ঘোষণায় বেশির ভাগ মানুষ যে প্রসন্ন হয়ে স্বাগত জানাচ্ছে, সেই প্রসন্নতা হয়তো লম্বা সময় বজায় রাখতে পারবে না। নাগরিক জীবনের এইসব ছোট-বড় অপ্রসন্নতা, মানসিক চাপ ব্যাপক জনমানুষের মনোভাবনা চিন্তা-চেতনাকে নেতিবাচক দিকে চালিত করে এবং  মানসিকভাবে তাদের অসুস্থও করে তোলে। আশা করি এর গভীর প্রভাব সম্পর্কে সংশ্লিষ্টরা সচেতন হবেন।

দিনবদলবিডি/কে

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়