শনিবার

০৪ ডিসেম্বর ২০২১


২১ অগ্রাহায়ণ ১৪২৮,

২৬ রবিউস সানি ১৪৪৩

দিন বদল বাংলাদেশ

রোহিঙ্গা শিবিরে হামলা-ষড়যন্ত্রকারীদের শক্ত হাতে দমন করুন

সম্পাদকীয় বিভাগ || দিনবদলবিডি.কম

প্রকাশিত: ০০:৩৯, ২৪ অক্টোবর ২০২১  
রোহিঙ্গা শিবিরে হামলা-ষড়যন্ত্রকারীদের শক্ত হাতে দমন করুন

মুহিবুল্লাহ- ফাইল ফটো

গত প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে উত্তপ্ত পরিবেশ বিরাজ করছে। রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহ হত্যার পর থেকেই ক্যাম্পগুলোর নিরাপত্তা বৃদ্ধির দিকে নজর দেয় সরকার। কিন্ত মুহিবুল্লাহ হত্যাকাণ্ডের ২৩ দিনের মাথায় হামলা চালিয়ে, কুপিয়ে ও গুলি করে ছয়জনকে হত্যা করা হলো। একই হামলায় আহত হয়েছেন আরো কমপক্ষে ২০ জন।

শুক্রবার ভোরে উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়নের থাইনখালীর বালুখালী ১৮ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা সবাই ওই ক্যাম্পের এইচ-৫২ ব্লকের ‘দারুল উলুম নাদওয়াতুল ওলামা আল-ইসলামিয়াহ’ মাদরাসার শিক্ষক, ছাত্র ও স্বেচ্ছাসেবক।

বাংলাদেশ যখন রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে বৈশ্বিক পরিসরে তৎপরতা বৃদ্ধিতে কাজ করছে তখন এ ধরনের হামলা সমস্যা সমাধানের পথে বড় হুমকি- এই সত্য সবাই অনুধাবন করছেন। আমরা আগেও বলেছি, যেকোনো ইস্যুকে কাজে লাগিয়ে মিয়ানমার রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বিলম্বিত করার অপচেষ্টা করবে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন এরইমধ্যে বলেছেন, রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠালে যাদের স্বার্থে আঘাত লাগবে তারাই রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বিশৃঙ্খলা ঘটাচ্ছে।

মুহিবুল্লাহ হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার আজিজুল শনিবার এক স্বীকারোক্তিতে বলেছে যে প্রত্যাবাসন বিলম্বিত করতেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে আজিজুলের স্বীকারোক্তির কথা জানিয়ে ১৪ আমর্ড পুলিশ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক এসপি নাঈমুল হক বলেন, মুহিবুল্লার হত্যার দুই দিন আগে মরগজ পাহাড়ে কিলিং মিশনের জন্য বৈঠক বসেছিল। সেখান থেকে  সশস্ত্র পাঁচ জনসহ মোট ১৯ জনকে নির্দেশ দেওয়া হয় ‘কিলিং মিশন’ সম্পাদন করার জন্য।

গত শুক্রবার মাদরাসায় হামলা ও ৬ জনকে হত্যার ঘটনায় এরইমধ্যে আটকদের জিজ্ঞাসাবাদে এই হত্যাকাণ্ডের পারস্পরিক যোগ আছে কি না, তা জানা যাবে বলে আশা করি। তদন্তে হয়তো বিষয়গুলো আরো স্পষ্ট করে জানা যাবে কিন্তু আমাদের আপাত করণীয়গুলো দ্রুত ঠিক করে ফেলতে হবে। নিরাপত্তার জাল দ্রুত আরো বিস্তৃত করত হবে।

বিভিন্ন সূত্র দাবি করছে এসবের পেছনে সন্ত্রাসী সংগঠন আরসার হাত রয়েছে। যদিও শুরু থেকেই বাংলাদেশ আরসার ব্যাপারটি অস্বীকার করে আসছে। তারপরেও কেন আরসার কানেকশনের কথা বারবার বলা হচ্ছে? এসব হত্যার ঘটনাকে জঙ্গি কর্মকাণ্ডের বাতাবরণ দিয়ে কি কাউকে দেখাতে চাওয়া হচ্ছে যে বাংলাদেশের রোহিঙ্গা শিবিরে জঙ্গিরা আস্তানা গেড়েছে? এটা দেখাতে পারলে কাদের লাভ? এসব প্রশ্নের আশু উত্তর বের করা জরুরি। এসব অপপ্রচারে বেনেফিশিয়ারি কে বা কারা সেটা বের করা গেলে হয়তো এসব অপতৎপরতার তল পাওয়া আরো সহজ হবে।   

অনেকেই অভিযোগ করেন, রোহিঙ্গাদের মধ্যে জঙ্গি তৎপরতার ক্ষেত্রে মিয়ানমার রাষ্ট্র সরাসরি ইন্ধন দিয়ে থাকে। এর পেছনে যুক্তি হলো, তাদেরকে জঙ্গি হিসেবে দেখাতে পারলে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে মিয়ানমার বলতে পারবে ‘এদের ফিরিয়ে নেওয়া নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকে কতটা ঝুঁকির।’ রোহিঙ্গাদের মধ্যে অভ্যন্তরীন কোন্দল তৈরিতেও এরা কাজ করে বলে অভিযোগ রয়েছে। এমনকি গত একবছরে রোহিঙ্গা শিবিরগুলোতে একাধিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার ক্ষেত্রেও সন্দেহের তীর ছিল মিয়ানমারের দিকে। এখন মুহিবুল্লাহ হত্যাকাণ্ডের ২৩ দিনের ব্যাবধানে ৬ খুনের ঘটনা শান্তি ও মানবিকতার পক্ষাবলম্বন করা বাংলাদেশের জন্য আবার নতুন করে দুর্ভাবনার কারণ হয়ে দেখা দিচ্ছে।

ঘটমান বাস্তবতা থেকে খালি চোখে যা দেখা যায় তা বিপদের আভাস দেয়। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন যারা চায় না বা বিলম্ব করতে চায় তাদের ব্যাপারে আরো সতর্ক হতে হবে। বাংলাদেশ যেন কারো অন্যায় স্বার্থের বলী না হয়। কেউ যেন নিজেদের হীন স্বার্থ হাসিল করতে গিয়ে বাংলাদেশকেও জঙ্গি তৎপরতার উর্বর ক্ষেত্র হিসেবে দেখানোর সুযোগ না পায়। এমন অপচেষ্টা কেউ করলে জঙ্গি তৎপরতা দমনে সাফল্যের জন্য ইতোমধ্যেই বিশ্বে প্রশংসিত বাংলাদেশ সমুচিত জবাব দিয়েই তা মোকাবেলা করবে। আমরা মনে করি বাংলাদেশের পক্ষের বা বিপক্ষের সব শক্তি এই সত্য বিশ্বাস করে। তবে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র ও জাতি হিসেবে এই বিষয়টিতে আমাদের সবার একমত ও একাট্টা হতে হবে। আর সরকারের কাছেও আমাদের বলার কথা একটাই- রোহিঙ্গাদের নিয়ে বাংলাদেশের জন্য বিপদসংকুল ও অশান্তির পরিস্থিতি যারা সৃষ্টি করতে চায়, তাদেরকে কঠোর হস্তে দমন করুন। এ নিয়ে কোনো ছাড় দিলে সামনে আরো বড় ধরনের জটিল পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে হবে- এটা পরিষ্কার।

দিনবদলবিডি/জিএ

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়