শনিবার

২৮ মে ২০২২


১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯,

২৬ শাওয়াল ১৪৪৩

দিন বদল বাংলাদেশ

জন্ম তারিখ বদলে প্রাপ্তবয়স্ক থেকে শিশু এবং খবিসকাণ্ড 

সম্পাদকীয় বিভাগ || দিনবদলবিডি.কম

প্রকাশিত: ২২:০৯, ৩০ ডিসেম্বর ২০২১   আপডেট: ২২:১০, ৩০ ডিসেম্বর ২০২১
জন্ম তারিখ বদলে প্রাপ্তবয়স্ক থেকে শিশু এবং খবিসকাণ্ড 

ফাইল ছবি

দেশ-বিদেশের প্রতারণা-জালিয়াতির পিলে চমকানো হরেক খবর প্রতিদিনের মিডিয়ায় আসে। এর মধ্যে কিছু কিছু ঘটনা ভিন্ন রকমের হয়ে থাকে, তাই পাঠক মনে ধাক্কাটাও একটু ভিন্নভাবেই লাগে।

তেমনি একটি সংবাদ সম্প্রতি অনেকেরই নজরে এসেছে। সংবাদটিতে তুলে ধরা হয়েছে একজন প্রতিশ্রুতিশীল তরুণের প্রতারণা ও চৌর্যবৃত্তির কাহিনী। তিনি ধরা পড়েছেন চুরি করতে গিয়ে। চট্টগ্রামের পথে-প্রান্তরে বিভিন্ন মঞ্চে আঞ্চলিক গানে তার কণ্ঠের উল্লেখযোগ্য কিছু ভক্তও তৈরি হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় বিশেষ করে ইউটিউবে অনুসন্ধান চালালেই পাওয়া যায় ‘শিল্পী তৌহিদের’ বেশ কিছু গান। 

হ্যাঁ, তৌহিদুল ইসলাম নামেই সর্বত্র পরিচিত তিনি। নোটারি পাবলিকের তৈরি করা হলফনামায়ও নাম তার তৌহিদুল ইসলাম। ওই নামেই তিন তিনজন নারীকে করেছেন ক্ষণিক সময়ের ‘জীবনসঙ্গী’। চুরি করতে গিয়ে পাকড়াও হয়ে গণপিটুনিতে আহত হলে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। হাসপাতালের নিবন্ধন ফরমেও তৌহিদুল নামটাই ছিল। কারাগার থেকে পাঠানো প্রতিবেদনেও ছিল ‘তৌহিদুল’।

কিন্তু হঠাৎ করেই ‘তৌহিদুল’ নামের শুরুর হরফটি ‘তৌ’ এর স্থলে ‘তো’ হয়ে গেল। নামের এই বদলটা কিন্তু জন্ম নিবন্ধন, এনআইডি কিংবা পাসপোর্ট করাতে গিয়ে ভুলক্রমে ঘটা ভুল নয়- এটা করেছেন স্বয়ং তৌহিদুল। ঠিকানা ও মা-বাবার নাম হুবহু রেখে জাল জন্মসনদে ‘তোহিদুল’ নাম ধারণ করেন এই ধরিবাজ। 

তার এভাবে নাম বদলের নেপথ্যে পাওয়া গেছে সুচতুর প্রতারণা ও জালিয়াতির আক্কেল গুড়ুম তথ্য। প্রধানত নিজের করা কিছু অপকর্ম আড়াল করতেই নামে অঙ্গহানির এই কারিশমা দেখায় সে। উদ্দেশ্য ছিল নাম বদলের সঙ্গে সঙ্গে জন্ম তারিখ বদলে ফেলে প্রাপ্তবয়স্ক থেকে নিজেকে শিশু প্রমাণ করা। এরপর তার বিরুদ্ধে চলা মামলায় মিলবে বিশেষ সুবিধা। অপ্রাপ্তবয়স্ক এবং ‘শিশু’র কাতারে পড়ে যাওয়ায় পুলিশ চাইলেও তাকে রিমান্ডে নিতে পারবে না তখন; হতে হবে না কঠোর জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখিও। তার এতদিনে করা কমপক্ষে ৪০টি চুরির ঘটনায় লোপাট করা ল্যাপটপ-মোবাইলফোনের তথ্যও স্বেচ্ছায় না দিলে সেসব উদ্ধারে জবরদস্তি করতে পারবে না পুলিশ। এছাড়া শিশু অপরাধী হিসেবে জামিন চাইতে গেলেও মিলতে পারে বাড়তি সুবিধা। সবশেষে কারাগারের বদলে থাকতে পারবে কিশোর সংশোধনাগার নামক তুলনামূলক আরামদায়ক আর নিরাপদ স্থানে! ভেবেছিলেন, নামের কেরামতিতে সফল হতে পারলেই সবাইকে ঘোলপানি খাইয়ে নিজে হাওয়া খেয়ে বেড়াতে পারবেন! 

কিন্তু ‘দশদিন চোরের আর একদিন গৃহস্থের’ প্রবাদের বাস্তবতা প্রমাণেই যেন গত ১১ ডিসেম্বর ভোরে চট্টগ্রামের ঈদগাঁও বরফকল এলাকার এক বাড়িতে চুরি করতে গিয়ে ধরা পরে তৌহিদ। খায় গণপিটুনি। হালিশহরের এই ঘটনার খবর পেয়ে তৎপর হয় বায়েজিদ থানা পুলিশ। তারা আগের একটি ঘটনায় সিসি ক্যামেরার ফুটেজ থেকে পাওয়া চোরের ছবির সঙ্গে এই চোর তথা তৌহিদের মিল দেখতে পায়। এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকের বাসায় চুরির মামলায় তৌহিদুলকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। আদালত তাকে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠায়।

বায়েজিদ থানার ওসি কামরুজ্জামান জানান, এর আগে এক ভার্সিটি শিক্ষকের ল্যাপটপ চুরির ঘটনায় সিসি ক্যামেরার ফুটেজে তৌহিদুলসহ দুই চোরকে শনাক্ত করা হয়। রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদে দুই বছরে অন্তত ৪০টি বাসায় চুরির কথা স্বীকার করেছে সে। তবে রিমান্ড থেকে বাঁচতে নিজেকে শিশু দাবি করে বসে ধূরন্ধর এই ‘গায়ক’।

এসময় আসামি তৌহিদুলের আইনজীবী আদালতে দাবি করেন, একজন জনপ্রিয় শিল্পী হওয়ায় তৌহিদুলের শক্ররা এসব অপপ্রচার করছে। তাকে নানাভাবে ফাঁদে ফেলছে। তিনি প্রাপ্তবয়স্ক নন; শিশু। চুরি ও প্রতারণার অভিযোগ সত্য নয়।

কিন্তু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্ত, সংশ্লিষ্টদের সাক্ষ্য এবং জন্মনিবন্ধন ডাটাবেসের তথ্য-প্রমাণে যেসব সত্য সামনে এসেছে তা মারাত্মক। তৌহিদুল ইসলামের বাড়ি কক্সবাজারের চকরিয়ার কোণাখালী গ্রামে। তিনি কাবিননামা না করেই নোটারি পাবলিকের কাছে হলফনামা ঘোষণা দিয়ে কক্সবাজারের চকরিয়ার বাসিন্দা এক তরুণীকে  বিয়ে করেন। চলতি বছরের ১৯ জুলাই হলফনামায় ৮ লাখ টাকা দেনমোহরে এই বিয়ে হয়।

কিন্তু অল্প কিছুদিন সংসার করেই ত্যাগ করেন স্ত্রীকে। এটাই নয়, এর আগে আরও দুটি বিয়ে করেন একই কায়দায় এবং ওই দুই স্ত্রীর সঙ্গেও প্রতারণার অভিযোগ আছে তার বিরুদ্ধে।

কোনো বিয়েরই কাবিননামা রেজিস্ট্রি করেননি তিনি। আবার তার এক স্ত্রীর সঙ্গে থাকা অন্তরঙ্গ চিত্র সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানোর অভিযোগে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি আইনে মামলাও খেয়েছেন। শেষে চুরির মামলায় আসামি হয়ে কূটচালে রেহাই পেতে চেয়েছেন। এ ছাড়া পুলিশ গণপিটুনি থেকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দিলেও আদালতে গিয়ে বিচারকের কাছে সেই পুলিশের বিরুদ্ধেই নির্যাতনের অভিযোগ করে বসেন তৌহিদ। তিনি পুলিশের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আহ্বানও জানান আদালতকে।

শিল্পী থেকে চোর হিসেবে পুলিশের হাতে পাকড়াও হওয়া তৌহিদুলের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার আর ছলনার অভিযোগ প্রতি পদে পদে যেন।  আদালতে জমা দেওয়া মেডিকেল প্রতিবেদনে তার নাম তৌহিদুল ইসলাম, বয়স ১৯ বছর। তবে নোটারি পাবলিকের কাছে তৈরি করা হলফনামায় বয়স উল্লেখ করেছেন ২২ বছর। অবশ্য পুলিশের মামলা ও জিডিতে বয়স ১৯ বছরই উল্লেখ রয়েছে। কিন্তু মাত্র একটি বর্ণে ‘ও’কার স্থলে ‘ঔ’কার যোগ করে ‘তৌহিদুল’ থেকে ‘তোহিদুল’ নাম ধারণ করে তৈরি করেন জন্মসনদ। তাতে তার বয়স হয়ে যায় ১৭ বছর- অর্থাৎ অপ্রাপ্তবয়স্ক। কিন্তু শেষ রক্ষা হলো না, পর্দা ফাঁস হয়ে গেল তার যাবতীয় কর্মকাণ্ডের। অর্থাৎ নিজের জন্ম তারিখ নিয়েও কূটকৌশল খাটিয়েছে সে। স্মর্তব্য যে নিজের জন্মতারিখ নিয়ে এ ধরনের ছলচাতুরি সমাজ ও রাষ্ট্রের অনেক উচ্চ স্তরের অনেকের মাঝেও কখনো কখনো পরিলক্ষিত হয়- তবে তাদেরও শেষ রক্ষা হয় না। যেমন তৌহিদের হয়নি।

জানা গেছে, চট্টগ্রাম শহরের বিভিন্ন এলাকায় গত দুই বছর ধরে ফজরের ওয়াক্তে নামাজ পড়তে বের হওয়া লোকজন ও সূর্যোদয় লগ্নে প্রাতঃভ্রমণকারী ব্যক্তিদের বাসা টার্গেট করে কয়েকজন সহযোগিকে নিয়ে চৌর্যবৃত্তি চালিয়ে আসছিল শিল্পী-চোর তৌহিদুল। ভোরে যেসব বাসার দরজা খোলা থাকে ঝটিকা বেগে সেসব বাড়ি-ঘরে ঢুকে মুহূর্তেই চুরি সেরে সটকে পড়তো তারা। সাবধানতা অবলম্বন করতো চুরি করা মালপত্র বেচা-বিক্রির ক্ষেত্রেও। চোরাই মাল (বিশেষ করে দামি স্মার্ট ফোন ও ল্যাপটপ) সহযোগী সাইফুলের মাধ্যমে কক্সবাজারে পাঠিয়ে দিতেন। সেখানে কর্মরত দেশি-বিদেশি এনজি কর্তাদের একটা শ্রেণি এসব চোরাই পণ্যের ক্রেতা বলে পুলিশকে জানিয়েছে সে। এই বিষয়টিও উদ্বেগের। এনজিওতে কর্মরতরা সাধারণত অন্যদের চেয়ে এসব ক্ষেত্রে কিছুট সচেতন বেশি হন। বিশেষ করে সেকেন্ড-হ্যান্ড দামি ইলেক্ট্রনিক্স কিনতে গিয়ে যাচাই করতে হয় এর মালিকানার বৈধতার কাগজপত্র। তারা সেসব না করেই চোরাই এসব পণ্য কেন কিনবেন- এত অনায়াতে!? এটাও ভাবার বিষয়।

যাহোক, তৌহিদের গল্প তথা ঘটনা জটিল- একার্থে কৌতুহলোদ্দীপকও। কিন্তু যে তিন তরুণীর জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলেছে সে তাদের জীবন কেমন কাটছে তা ভাবলেও মন বিষাদাক্রান্ত হয়ে পড়ে। যেইসব লোকজনের বাসা থেকে মোবাইলফোন, ল্যাপটপ ও অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী চুরি করেছে (তার দেওয়া তথ্য মতে অন্তত ৪০টি ঘটনা) সেসব ঘটনায় কতজন যে তথ্য হারিয়ে, গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্ট হারিয়ে, কিংবা দামি ডিভাইসটি হারিয়ে কর্মক্ষেত্রে, ব্যবসাক্ষেত্রে বা শিক্ষা ক্ষেত্রে কতো ধরনের জটিলতা আর হয়রানি পেরেশানিতে পড়েছেন তাও দেখার বিষয়। অনেক ক্ষেত্রে জিনিস হারানো নিয়ে ঘনিষ্ঠ স্বজন যেমন স্বামী-স্ত্রী, ভাই-বোন কিংবা সহকর্মীদের মধ্যে দেখা দেয় ভয়াবহ বিরোধ- এ থেকে ঘটে যায় অনেক অনর্থও, যদিও ঘটনা ঘটিয়ে তৌহিদুলের মতো ব্যক্তিরা বমাল থাকেন ‘নিরাপদে’।

এই রকম তৌহিদুলের ঘটনা যদি মাত্র একটি-দুটি থাকতো তবে বিষয়টি নিয়ে ততটা বিচলিত হবার কিছু ছিল না। কিন্তু উদ্বেগজনক বাস্তবতা হলো এদের বিস্তার দেশের প্রতিটি জনপদে পাড়া-মহল্লায় ছড়িয়ে পড়েছে। শুধুমাত্র চুরি-ছ্যাঁচড়ামো নয়, এদের মতো অতি চালাক আর বেপরোয়া তরুণরাই মাদকবিক্রি, ছিনতাই-রাহাজানি, ধর্ষণ, খুন-খারাপিতে জড়িয়ে পরবর্তীতে বিষাক্ত করে তুলছে সমাজ ও রাষ্ট্রে। 

এরপর একপর্যায়ে এইসব ‘রত্মদের’ পৃষ্ঠপোষকতা দিতে নেপথ্যে হাজির হন রাজনৈতিক, ব্যবাসায়িক ও সামাজিক দুর্বৃত্তচক্র। এখানে মন্দের ভালো যে তৌহিদুলের কোনো গডফাদারের প্রসঙ্গ আসেনি। ধারণা করা যায় এখন পর্যন্ত সেরকম কারো সান্নিধ্যে আসার সৌভাগ্য বা দুর্ভাগ্য হয়নি তার। যদিও ঘটনা বিশ্লেষণে পরিষ্কার যে উপযুক্ত পৃষ্ঠপোষকতা পেলে অপকর্মের জগতের এই উদীয়মান ‘রত্ম’ একসময় মহামূল্য কোহিনূরে রূপান্তরিত হবে- যা আমরা শান্তিপ্রিয় এবং দেশপ্রেমিক নগরিকরা কখনোই চাই না। এজন্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সমান্তরালে দেশের প্রতিটি মহল্লা, প্রতিটি গ্রামের মুরুব্বিয়ান, মেম্বর-চেয়ারম্যান, বিশিষ্ট ও বিদ্বান ব্যক্তি, ইমাম-পুরুত-পুরোহিত-ফাদারদের তৎপর হতে হবে। প্রতিদিন আপনার আমার ঘুম-জাগরণে নজরদারিতে অবহেলার ফাঁক-ফোঁকর দিয়ে আমাদের তরুণ প্রজন্ম ক্রমশ সৃষ্টির সেরা মানুষের মুখোশ পাল্টে হয়ে যাচ্ছে তৌহিদুল, ধর্ষক আশিকুল, সাহেদ, ডা. সাব্রিনা, প্রতিমন্ত্রী মুরাদ, আলাল-দুলাল ইত্যাদি ইত্যাদি। 

তারা বাহ্যিক রূপে মানুষ হিসেবে থাকলেও তাদের আচার-আচরণ খবিসের পর্যায়ে নেমে আসছে। শিক্ষায়, প্রযুক্তিতে, অর্থ-বাণিজ্যে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু দেশ-সমাজ-জাতির অগ্রসরমান বাহনের চাকা ফুঁটো করে দিতে এই শ্রেণির কিছু মানুষই যথেষ্ট। এদের থেকেই গজিয়ে ওঠে শীর্ষ দুর্নীতিবাজ, ধর্ষক, জাতীয় ঐক্যে বিভেদ ও বিভাজন সৃষ্টিকারী স্বার্থবাজ ব্যক্তি-গোষ্ঠী, রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুণ্ঠন ও পাচারকারী, সমাজ ও রাষ্ট্রে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীরা। 

এদের নষ্ট হয়ে যাবার গোড়া থেকেই থামিয়ে দিতে হবে, বদলে দিতে হবে, নিয়ে আসতে হবে আলোর পথে, মানবিকতার পথে। এই মানুষগুলোর প্রত্যেকেই কিন্তু মেধাবী এবং বলা যায় জ্ঞানীও। কিন্তু কেউ হয়তো অভাব-অনটনে এবং অশিক্ষায়, কেউ হয়তো অভিভাবকদের খামখেয়ালীতে, কেউ হয়তো নিতান্ত পরিস্থিতির শিকার হয়ে হয়ে ওঠে মার্কামারা অপরাধী বা মানসিক বিকারগ্রস্ত সাইকো। যে করেই হোক এদের এরকম হয়ে যাওয়া ঠেকাতে হবে আমাদেরকেই।

দিনবদলবিডি/এমআর

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়