শনিবার

২৮ মে ২০২২


১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯,

২৬ শাওয়াল ১৪৪৩

দিন বদল বাংলাদেশ

দুই কান কাটা যার সে রাস্তার মধ্যখান দিয়া হাঁটে…

সম্পাদকীয় ডেস্ক || দিনবদলবিডি.কম

প্রকাশিত: ২৩:৪৪, ৩ জানুয়ারি ২০২২   আপডেট: ১৫:৩৬, ৪ জানুয়ারি ২০২২
দুই কান কাটা যার সে রাস্তার মধ্যখান দিয়া হাঁটে…

ফাইল ছবি থেকে কোলাজ -দিবদলবিডি গ্রাফিক্স

রাজ দরবারে বিদেশি দূত এসেছে। দূত বেশ আত্মসম্মানবোধ সম্পন্ন। কিন্তু দরবারিরা বিদেশি এই দূতকে কৌশলে অপদস্ত করতে এক কায়দা করলেন।

তারা দূতকে দরবারে প্রবেশের জন্য যে দরোজার সামনে নিয়ে গেলেন তার উচ্চতা মাত্রই কোমড় সমান। অর্থাৎ ওই দরোজা দিয়ে প্রবেশ করতে হলে মাথা অনেকটাই ঝুঁকিয়ে রাখতে হবে।

পরিস্থিতি দেখে যা বোঝার বুঝে গেলেন দূত মহাশয়। তবে মুখে জিজ্ঞেস করলেন, এই পথেই দরবারে ঢুকতে হবে আমাকে?

মেজবান রাষ্ট্রের মন্ত্রী মুচকি হেসে বললেন, জ্বী জনাব। আমাদের দেশের রীতি এটাই। বিদেশি ইজ্জতদার মেহমানদের সম্মান দেখাতেই এই ব্যবস্থা।    

তবে মন্ত্রীর এমন ব্যাখায় দূত মোটেই ঘাবড়ালেন না। তিনি হঠাৎ করেই উল্টো ঘুরলেন। এরপর পেছন দিকে হেঁটে কিছুটা ঝুঁকে ওই নিচু দরজা দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করলেন। দূতের এমনতরো উপস্থিত বুদ্ধি দেখে মন্ত্রী ও তার সাঙ্গোপাঙ্গদের আক্কেল গুড়ুম!

দূত মিষ্টি হেসে বললেন, এটা আমার দেশের রীতি। যেই দেশ বিদেশি দূতকে এভাবে সম্মানিত করে সেই দেশের রাজা ও জনগণকেও আমরা এভাবে পেছন দিয়ে সম্মানিত করি!

ওদিকে দরবারে উচ্চাসনে উপবিষ্ট রাজামশাই অসহায়ভাবে দেখলেন, তার দিকে পশ্চাদ্দেশ দেখিয়ে ঢুকছেন বিদেশি দূত। দূত উল্টো হয়ে দাঁড়িয়েই তার পরিচয় ও বক্তব্য নিবেদন করলেন এবং সেই আগের কথা দোহরাতে ভুললেন না যে তাকে যেভাবে বিশেষ কায়দায় অভ্যর্থনা জানানো হয়েছে তিনি ঠিক সেভাবেই তার কায়দায় সর্বোচ্চ সম্মান প্রদর্শন করেছেন মহামান্য রাজাকে। বক্তব্য দানকালে দূত মহাশয় তার কণ্ঠে পূর্ণ কূটনৈতিক সৌজন্য বজায় রাখলেন।

রাজা সবই বুঝলেন এবং অসহায় দৃষ্টিতে পাল্টা অপমানটুকু নিরবে সহ্য করলেন।      

সম্ভবত গোপাল ভাঁড় বা নাসিরউদ্দিন হোজ্জার গল্প এটি। হয়তো তাদের দুজনের কোনো একজনের সঙ্গে অথবা কারো সঙ্গে ঘটেনি এই ঘটনা। তবে এ ধরনের নীতিকথা বা নৈতিক শিক্ষামূলক গল্প ক্ষুরধার এবং উপস্থিত বুদ্ধির জন্য বিখ্যাত বীরবল, মোল্লা দোপেঁয়াজা, নাসিরউদ্দিন হোজ্জা বা আমাদের গোপাল ভাঁড়ের নামে চলে আসছে শত শত বছর ধরে। এই গল্পের মালিকানা কার সে প্রসঙ্গ বাদ দিয়ে কেন গল্পটি মনে পড়লো তা বলে নেই।

গল্পটি মনে করিয়ে দিয়েছে কোরেশি সাহেব, অর্থাৎ শাহ মাহমুদ কোরেশি, যিনি পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, তার সাম্প্রতিক একটি ঘটনা। এই ব্যক্তি তার ব্যক্তিজীবনে কেমন মানুষ তা তাকে যারা ঘনিষ্ঠভাবে চেনেন জানেন তারা বলতে পারবেন, কিন্তু তিনি তার পেশাগত জীবনে সম্প্রতি যে ভুল বা ‘সজ্ঞান অসৌজন্যতামূলক’ আচরণ করেছেন তাতে দুনিয়াজুড়ে মানুষজন সমালোচনায় মুখর হয়েছেন- তাকে নিয়ে এ মুহূর্তে অস্বস্তিকর অবস্থায় আছেন পাকিস্তানিরাও। খুশি নয় সৌদি কর্তৃপক্ষও।

গতকাল (২ জানুয়ারি ২০২২) দিনবদলবিডি সহ দেশ-বিদেশের মিডিয়াজুড়ে প্রকাশিত সচিত্র একটি সংবাদে দেখা যায় ইসলামাবাদে নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূত ও পাকিস্তানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মাহমুদ কোরেশি পাশাপাশি দুটি সোফায় বসে আছেন। এখানে পাকিস্তানি মন্ত্রীর বসার ভঙ্গি নিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন মুসলিম বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী রাষ্ট্র সৌদি আরবের জনগণ।

গত সপ্তাহে পাকিস্তানে সৌদি দূত নাওয়াফ বিন সাইদ আল মালিকির সঙ্গে বৈঠক ছিল কোরেশির। ওই বৈঠকের স্টিল ও ভিডিও ছবিতে দেখা যায়, ফ্রেমের বাম দিকের সোফায় পায়ের ওপর পা তুলে বসেছেন কোরেশি আর ডানে সৌদি রাষ্ট্রদূত। কোরেশি তার ভাঁজ করা বাম পায়ের ওপর তুলে দিয়েছেন ডান পা। সেই পায়ে পরে আছেন চকলেট রঙের জুতো যার ডগা অনেকটাই যেন নির্দেশ করে রয়েছে সৌদি রাষ্ট্রদূতের দিকে।

এছাড়া সোফার দুইপাশে কোরেশির মুঠো করা দুই হাত অশোভন কর্তৃত্ব আর বেপরোয়া ভঙ্গিতে ছড়িয়ে আছে। বিপরীতে দূত নাওয়াফ নিজের বন্ধ করে রাখা ডান হাতের মুষ্টি ধরে আছেন বাম হাতের তালু দিয়ে। তার বসার ভঙ্গিতে বিনয়ী ভাব স্পষ্ট।

এমন ছবির ‘অনেক কথা যাও যে বলি কোনো কথা না বলি’ ধরনের ভাবার্থ দৃষ্টি এড়ায়নি সৌদিদের। তারা এটাকে ‘অপমানজনক’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

এই ঘটনার জের শেষ হয়নি। এখনো এ নিয়ে চলছে সমালোচনা। বিষয়টি নিয়ে বিবিসি গতকাল একটি বিশেষ প্রতিবেদন করেছে। এতে বলা হয়, টুইটারে পাকিস্তানি রাষ্ট্রদূতের এমন আচরণকে অনৈসলামিক, অপমান ও লজ্জাজনক বলে অভিহিত করা হচ্ছে। এসব মন্তব্যে সৌদি নাগরিকদের পাশাপাশি পাকিস্তানি নাগরিকরাও সহমত প্রকাশ করছেন।

ইসলামিক ওয়ার্ল্ড এডুকেশনাল সায়িন্টিফিক অ্যান্ড কালচারাল অর্গানাইজেশনের সাবেক পরিচালক জেনারেল আব্দুল আজিজ ওসমান আলবাইজারি পাকিস্তানি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আচরণকে ইসলামি সংস্কৃতি মতে অসম্মানজনক উল্লেখ করে টুইটারে বলেন, সৌদি রাষ্ট্রদূতের সামনে কোরেশির ওভাবে পা উঠিয়ে বসাটা পুরোপুরি অগ্রহণযোগ্য। মেহমানকে সমাদর করা ও সম্মান জানানো ইসলামি শিষ্টাচারের অন্তর্গত।

তার টুইটের জবাবে একজন পাকিস্তানি লেখেন, আমাদের সকল সৌদি বন্ধুদের কাছে ক্ষমা চাইছি। আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী যা করেছেন তা অগ্রহণযোগ্য। পাকিস্তান তাকে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানাচ্ছে।

পাকিস্তানি মন্ত্রীর আচরণ নিয়ে সৌদি ও পাকিস্তানিদের সমালোচনামুখরতার  সমান্তরালে অনেকেই মেজবানের অসৌজন্যতার বিপরীতে সৌদি রাষ্ট্রদূতের অতি ভদ্র আচরণেও উষ্মা প্রকাশ করেছেন। সৌদিদের কেউ কেউ বলছেন, এমন ঘটনার মুখে পড়লে বৈঠক বর্জন করে চলে আসতেন তারা।

সামাজিক মাধ্যমে অনেকেই লিখেছেন, সৌদি দূত এ ঘটনায় অসন্তোষ প্রকাশ না করে ভুল করেছেন। এক সৌদি টুইটার ব্যবহারকারী লিখেছেন, আমরা গর্ব ও আত্মমর্যাদাশীল জাতি। আমরা কারো খারাপ আচরণকে মেনে নেই না। পাকিস্তানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী দোষণীয় আচরণ করেছেন।

কিছু পাকিস্তানি টুইট করে বলেছেন, পাকিস্তানি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এখনো অনেক কিছু শেখার জরুরত রয়েছে। পাকিস্তানি টুইট ব্যবহারকারীরা আরো লিখেছেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আদব-কায়দা শেখাটা অতি জরুরি হয়ে পড়েছে। পাকিস্তান প্রতিবছর সৌদি আরবের কাছ থেকে ভিক্ষা চেয়ে নেয়।

সম্মানিত অতিথির সঙ্গে অমন আচরণে টিপ্পনি কেটে অপর এক পাকিস্তানি লিখেছেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী অতুলনীয় মেহমানদারির মাধ্যমে পাকিস্তানে সৌদি রাজদূতকে অভ্যর্থনা জানিয়েছেন।

একজন সৌদি নাগরিক ওই বৈঠকের ভিডিও শেয়ার করে লিখেছেন, পাকিস্তানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী খুবই বেপরোয়া আচরণ করে নিজের বড়ত্ব জাহির করতে চেয়েছেন। কিছু ব্যবহারকারী ওই ঘটনায় সৌদি দূতের আচরণের প্রশংসা করেছেন। কারণ তিনি পাকি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর অমন আচরণেও নিজের শিষ্টাচার ধরে রেখেছিলেন।

প্রসঙ্গত, সৌদি আরব আর পাকিস্তানের দোস্তির দাস্তান দুনিয়াজুড়ে মশহুর। মাঝে মধ্যে কখনোসখনো কিছু টানাপড়েন দেখা দিলেও তাদের মধ্যকার বন্ধুত্ব কিন্তু আমেরিকা-ইসরায়েলের মতোই সর্বজনবিদিত এবং মজবুত। সময়ে অসময়ে পাকিস্তানের সঙ্কটে ডলার-রিয়ালের বস্তা নিয়ে হাজির হয় রিয়াদ। তো সৌদিদের অনেকেরই মনে এখন খচখচ করছে এই কথাটি ভেবে- মাত্র সেদিনই তো এই পাকিস্তানকেই আমরা চরম অর্থনৈতিক মন্দা কাটাতে ৩ বিলিয়ন ডলার জরুরি ঋণ দিলাম!

অর্থনৈতিক সহায়তা প্যাকেজের আওতায় গত ৪ ডিসেম্বর সৌদি আরব থেকে উল্লেখিত পরিমাণ অর্থ ঋণ হিসেবে পায় পাকিস্তান। তাই হরহামেশাই তাদের দান-খয়রাতে চলা পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আচরণকে তারা দেখছে ‘গোলামের বিদ্রোহের’ মতো  করে।

এখানে সৌদিরা যে ক্ষোভ প্রকাশ করছে তা খুবই যৌক্তিক, বিপরীতে পাকিস্তানি নাগরিকদের অনেকে যে সচেতনতা ও সৌজন্যতার পরাকাষ্ঠা সেজে নিজেদের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে তুলোধুনো করছেন তার পেছনে আছে নিজেদের জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করার মহৎ উদ্দেশ্য। অর্থাৎ পরিবারের অপরিণামদর্শী সদস্যকে শাসন করে ক্ষমতাবান প্রতিবেশীর কোপানল থেকে বাঁচার চেষ্টা।

তবে পাকিস্তানি কূটনীতিকদের অভব্যতা আর কূটনৈতিক শিষ্টাচার বহির্ভূত কাণ্ডকীর্তি নতুন নয়। একটু পেছনে তাকালে দেখা যাবে ৭১-এর মুক্তিযুদ্ধে স্বাধীনতাকামী বাঙালিদের ওপর ইতিহাসের ভয়াবহতম হত্যাযজ্ঞ চালানো পরাজিত এই রাষ্ট্রটির কূটনীতিকদের অশিষ্টাচার বারবার আমাদের আহত করতে চেয়েছে।

৭১ ও তার আগের সব ধরনের শোষন-নির্যাতনের ক্ষতিপূরণ তো তারা দেয়ইনি, ক্ষমা প্রার্থনাও করেনি এখন পর্যন্ত। উল্টো বিভিন্ন সময়ে দেখা গেছে বাংলাদেশে থাকা পাকিস্তানি কূটনীতিকদের অনেকেরেই প্রিয় কাজ বা দায়িত্ব যেন বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে কটাক্ষ করা, যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষ নেয়াসহ জঙ্গি তৎপরতায় ইন্ধন দেওয়া। এমনধারার অকূটনৈতিক কর্মকাণ্ডের জন্য ২০০০ সালে পাকিস্তানের ডেপুটি হাই কমিশনার ইরফান-উর রাজাকে বাংলাদেশ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে যখনই জামায়াতের কোনো নেতা একাত্তরের অপরাধের জন্য দণ্ডিত হয়েছেন, তখনই পাকিস্তানের রাজনৈতিক দলগুলো, বিশেষ করে জামায়াত, মুসলিম লীগ ও প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দল তেহরিক-ই ইনসাফ  প্রতিবাদে উচ্চকিত হয়েছে৷ এমনকি একাত্তরের ঘাতক-দালাল জামায়াত নেতাদের ফাঁসির নিন্দা জানিয়ে পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদে প্রস্তাবও পাস হয়েছে৷

২০১৫ সালের ৩১ জানুয়ারি ঢাকায় পাকিস্তানি দূতাবাসের কনস্যুলার কর্মকর্তা মাজহার খানকে বহিস্কার করা হয় জঙ্গিদের কাছে অর্থ হস্তান্তর করার সময়। গুলশানের এক হোটেলে গোয়েন্দাদের হাতে ধরা পড়ার সময়ে দেখা যায় তাদের সঙ্গে থাকা টাকাগুলোও ছিল জাল টাকা৷

২০১৫ সালের ২৩ ডিসেম্বর জঙ্গি সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়ায় ঢাকা থেকে বহিস্কার করা হয় আরেক পাকিস্তনি কূটনীতিক ফারিনা আরশাদকে৷ ওই ঘটনার পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে পাকিস্তানও বাংলাদেশের এক নারী কূটনীতিককে বহিষ্কার করেছিল৷

২০১৭ সালে ঢাকাস্থ পাকিস্তানি দূতাবাস তাদের ফেসবুক পেজে একটি ভিডিও শেয়ার করে যাতে বলা হয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নন, জিয়াউর রহমানই বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক৷ বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের স্বাধীনতা চাননি...

অনেক প্রতিবাদ, কূটনৈতিক ব্যবস্থা আর তৎপরতার পরও তাদের এই অবস্থানের কোনো পরিবর্তন তেমন একটা হয়নি। পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষের বারবার কূটনৈতিক শিষ্টাচার লঙ্ঘন ও ক্ষমা চেয়ে পার পাওয়ার অপচেষ্টা প্রসঙ্গে সাবেক রাষ্ট্রদূত ও কুটনীতিক মোহাম্মদ জমির একবার বলেছিলেন, এ ধরণের কাজ পাকিস্তান বারবার করছে। কারণ, যার এক কান কাটা সে রাস্তার কিনার দিয়া হাঁটে, দুই কান কাটা যার সে রাস্তার মধ্যখান দিয়া হাঁটে৷ 

মূল প্রসঙ্গে ফিরে যাই। সৌদি কূটনীতিকের সঙ্গে পাকিস্তানি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ওই অভব্য আচরণ প্রসঙ্গে মনে আবারও পড়ছে ৭১ এবং মুক্তযুদ্ধ প্রসঙ্গ। নিজেদের রাষ্টদূতের সামনে অশোভন কায়দায় পা তুলে বসার কারণে পাকিস্তানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পাকিস্তানের ওপর যে ক্ষোভ ঝড়ছে সৌদিদের পক্ষ থেকে তা খুবই ন্যায্য।

তবে এই পাকিস্তানিরাই যখন ১৯৭১ সালে নিজেরা মুসলিম হয়েও মুসলিম প্রধান বাংলাদেশকে (তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান) কসাইখানা বানিয়ে পৈচাশিক হত্যা ও ধর্ষণযজ্ঞ চালাচ্ছিল, চালাচ্ছিল অগ্নিসংযোগ-লুটপাট, হত্যা করছিল নারী-শিশু ও বৃদ্ধদের- তখন কোথায় ছিল মুসলিম বিশ্বের মোড়ল সৌদিদের মর্যাদা, মানবিকতা ও ধর্মীয় বিবেচনা বোধ?

এই পাকিস্তানই তখন সভ্যতার ভয়বাহতম নির্মমতা চালাচ্ছিল বাংলাদেশ ও বাঙালিদের ওপর। পাকিস্তানি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর একটি জুতোপড়া পায়ের বোঝা এত বেশি হয়ে দেখা দিয়েছে কারণ তার ওই পা সৌদি দূতের দিকে নিশানা করা ছিল। কিন্তু সেই পাকিস্তান রাষ্ট্র যে একটি জাতিকে পুরো ধ্বংস করে দিতে চাইছিল যেই জাতি আবার বিশ্ব মুসলিম জাতিরও অংশ, তাদের জন্য আপনাদের কোনো দরদ জাগেনি! কেন? মহান ধর্ম ইসলাম কি এই শিক্ষাই দেয়?

পুনশ্চ : আমরা নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই পাকিস্তানি দূতের অমন বিচার বিবেচনাহীন অসৌজন্যমূলক আচরণের এবং একই সঙ্গে প্রতিবাদ জানাই সব ধরনের অসৌজন্যতার এবং বিচার-বিবেকহীনতার, তা সে যেই করুক। সাধুবাদ জানাই সৌদি রাষ্ট্রদূত নাওয়াফ বিন সাইদ আল মালিকিকেও যে তিনি অশোভন কাণ্ডের জবাব অশোভন আচরণ দিয়ে দেননি। যদিও তিনি গোপাল বা হোজ্জার মতো কিছু একটা করে বসলেও তাকে দোষ দেওয়ার সুযোগ ছিল না।

দিনবদলবিডি/একে

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়