শনিবার

২৮ মে ২০২২


১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯,

২৬ শাওয়াল ১৪৪৩

দিন বদল বাংলাদেশ

নাসিক নির্বাচন ও আমাদের চতুর্থ স্তম্ভ

সম্পাদকীয় ডেস্ক || দিনবদলবিডি.কম

প্রকাশিত: ২৩:১৫, ১৮ জানুয়ারি ২০২২  
নাসিক নির্বাচন ও আমাদের চতুর্থ স্তম্ভ

ফাইল ছবি

কেউ বলেন রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ কেউ বলেন গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভ। এই স্তম্ভটি হচ্ছে সংবাদপত্র বা হালের বাস্তবতায় গণমাধ্যম তথা মিডিয়া। যে যেভাবেই দেখুন আর নামাঙ্কিত করুন- বাস্তব হচ্ছে মিডিয়ার অনেক গুন। 

এই গুনগুলো ইতিবাচক অর্থে ব্যবহৃত হয় রাষ্ট্রের স্বার্থে, জনগণের স্বার্থে, মানবাধিকারের স্বার্থে। ওয়াচ ডগ হিসেবে মিডিয়ার নজরদারির কারণে অনেক অপরাধ অঙ্কুরেই বিনষ্ট হয়, অনেক অপরাধ বা অপরাধীরা হয় নিয়ন্ত্রিত এবং ঘটে যাওয়া অপরাধের পর্দাফাঁস করতে বা অপরাধীর মুখোশ সমাজ, রাষ্ট্র ও আইনের সামনে উন্মোচন করতে জবরদস্ত ভূমিকা রাখে মিডিয়া। 

এজন্য মিডিয়াকে সবাই সাধুবাদ দিয়ে থাকেন, প্রকাশ করেন আন্তরিক কৃতজ্ঞতা। এই প্রশংসা, কৃতজ্ঞতা মিডিয়া তথা মিডিয়াকর্মী সাংবাদিক-সম্পাদক-প্রকাশকের প্রাপ্য। এ কারণে এই পেশা অনেক গৌরবের, অনেক মর্যাদার, অনেক অহঙ্কারের। শত লোভ-হুমকি-ধামকি রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে সাংবাদিক জনস্বার্থে ন্যায়কথাটি তুলে ধরেন মিডিয়ায়। তাই মিডিয়ার প্রতি একধরনের সযতন ভালোবাসা সাধারণ মানুষের অন্তরে জাগরুক থাকে সব সময়।

আবার এই মিডিয়াই যখন তার সঠিক ভূমিকা পালনে ব্যর্থ হয়, তখন উপরে উল্লেখিত সবগুলো সদগুনই অসৎগুনে পরিণত হয়। যুগে যুগে দেশে দেশে এই নেতিবাচক বাস্তবতায় অনেক দেশ-জাতিকে পড়তে হয়েছে। এর গোণাগারি পাইকারি হারে পরবর্তীতে শোধতে হয় জাতিকে, দেশকে। আর মিডিয়ার প্রতি মানুষের ভালোবাসা রূপ নেয় ঘৃণায়। 

তবে মিডিয়ার অনাচার-অনৈতিকতা কিন্তু প্রায় ক্ষেত্রেই দুই একজন শীর্ষপর্যায়ের নিয়ন্ত্রক ব্যক্তি বা মহলের ইচ্ছা-ইশারায় ঘটে থাকে। সাধারণ সংবাদকর্মীরা এক্ষেত্রে থাকেন অসহায়। আর এই অসহায়ত্বের শিকল যারা ভাঙতে চান তাদের হতে হয় নির্যাতন ও জীবননাশসহ নানা ধরনের ‘শাস্তির’ মুখোমুখি। এই শাস্তি নাজিল হয়ে থাকে সরকার, সন্ত্রাসী সংগঠন আর প্রভাবশালী ব্যক্তিদের তরফে। বিশ্বজুড়ে কেবল গত বছরই এ ধরনের অন্যায় শাস্তির মুখে নির্মম মৃত্যুকে বরণ করতে হয়েছে প্রায় অর্ধশত সাংবাদিককে।  

সাংবাদিকদের আন্তর্জাতিক সংগঠন রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারস (আরএসএফ) এর তথ্য মতে, ২০২১ সালে বিভিন্ন দেশে ৪৬ জন সাংবাদিক নিহত হয়েছেন। 

সংগঠনটি বলছে, গত ২৫ বছরের মধ্যে ২০২১ সালে সবচেয়ে বেশি সাংবাদিক গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটেছে। তবে ‘খুশির কথা’ এ বছর সবচেয়ে কম সাংবাদিক নিহত হয়েছেন। এই সংখ্যাটা সাম্প্রতিক বছরগুলোর তুলনায় সবচেয়ে কম বলে জানা গেছে। আর বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বর্তমানে ৪৮৮ জন সাংবাদিক কারাবন্দি রয়েছে। এদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক (কমপক্ষে ১২৭ জন) বন্দি রয়েছে চীনে। দ্বিতীয় অবস্থানে মিয়ানমার যেখানে গ্রেপ্তার রয়েছে ৫৩ সাংবাদিক। এ ছাড়া ভিয়েতনামে ৪৩, বেলারুশে ৩২ ও সৌদি আরবে এ সংখ্যা ৩১ জন। আমাদের দেশেও সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা, হুমকি, গ্রেপ্তার-নির্যাতনের ঘটনা বিরল নয়। 

কিন্তু  সাংবাদিকতার মহান পেশার ‘সত্য ছাড়া করি না কাহারেও কুর্নিশ’ মনোভাব, বীরত্বপূর্ণ পেশাদারিত্ব অনেক ক্ষেত্রেই খুব অল্প কারণেই ভূ-লুণ্ঠিত হতে দেখে সাধারণ মানুষ বিস্মিত হয়। লোভ-ভীতি-হয়রানির খুব অল্প তাপেই যেন কেউ কেউ মোমের মতো গলে যেতে থাকেন।   

কথাগুলো মনে এলো নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচনের ফলাফল ও পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহের সূত্রে। ১৬ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের (নাসিক) নির্বাচন এখন সর্বমহলে প্রশংসিত একটি নির্বাচনের মর্যাদা পেয়েছে। নির্বাচনী প্রক্রিয়ার ভালোমন্দ নিয়ে প্রায় সময়ই সমালোচনামূলক বক্তব্যের জন্য পরিচিত ব্যতিক্রমী নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার পর্যন্ত এই নির্বাচনকে বলছেন নিজেদের পাঁচ বছর মেয়াদের ‘সর্বোত্তম’ নির্বাচন। এই মাহবুব তালুকদার সেই মাহবুব তালুকদার যিনি তার প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তথা প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদাকেও সমালোচনার তীরে বিদ্ধ করতে ছাড়েননি। 

নাসিক নির্বাচনকে সরকারি দলের লোকজন তো খুব ভাল বলছেনই এমনকি গতকাল সোমবার সংসদে দাঁড়িয়ে বিএনপি সংসদীয় দলের নেতা হারুনুর রশিদ পর্যন্ত এ নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। এসময় তিনি দেশে বিরাজমান নির্বাচন ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলে অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানালেও নাসিক নির্বাচন নিয়ে কোনো অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেননি। বিদেশি কোনো মহলেও এখন পর্যন্ত এ নির্বাচন নিয়ে কোনো বিরূপ ভাব প্রকাশ পায়নি প্রমংসা ছাড়া। 

নির্বাচন নিয়ে নানা মহলের এসব প্রশংসার বাণী মিডিয়ায় গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশ পেয়েছে। এরই সমান্তরালে এখন শুরু হয়েছে আইভী বন্দনা। প্রায় সবগুলো পত্রিকা ও চ্যানেলে নিয়মমতো চলছে আইভীকে নিয়ে ইতিবাচক প্রতিবেদন, সম্পাদকীয় ও সাক্ষাৎকারভিত্তিক প্রতিবেদন। খুবই স্বাভাবিক প্রবণতা এটি। ধারণা করা যায় আরও কয়েকদিন এর ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে। 

এখন দেখা যাচ্ছে  আইভীকে কেউ বলছেন হ্যালিলিয়নের বাঁশিওয়ালা, কেউ বলছেন ভোট জাদুকর। কেউ বলছেন সিটি মেয়র হিসেবে তিনি তার দুই মেয়াদে একদা সন্ত্রাসের জনপদ হিসেবে কুখ্যাতি পাওয়া নারায়ণগঞ্জ নগরে কমিয়ে এনেছেন সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, টোলবাজি। কেউ কেউ বলছেন, তিনি এখন নারায়ণগঞ্জের নগরকন্যা।

এক অর্থে আইভী কিন্তু নারায়ণগঞ্জে মেয়র হিসেবে পর পর চারবারের জন্য নির্বাচিত হলেন। তবে প্রথমবার ২০০৩ সালে তিনি হয়েছিলেন পৌর মেয়র। যথাসময়ে নির্বাচন না হওয়ায় সেই পদে ছিলেন টানা আট বছর। এরপর সিদ্ধিরগঞ্জ, বন্দর ও নারায়ণগঞ্জ পৌরসভা নিয়ে নবগঠিত সিটি কর্পোরেশনের প্রথম নির্বাচনে অংশ নেন ২০১১ সালে, দলের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে। সেবার বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে তিনি নৌকার প্রার্থী শামীম ওসমানকে লক্ষাধিক ভোটের ব্যবধানে ধরাশায়ী করেন। 

২০১৬ সালে সিটি কর্পোরেশনের দ্বিতীয় নির্বাচনে আইভীকে দলীয় প্রতীক নৌকা দিতে ভুল করেনি আওয়ামী লীগ।  সেবারও বিএনপির ধানের শীষ  প্রার্থী সাখাওয়াত হোসেনকে পরাজিত করেন বিপুল ব্যবধানে। পৌর মেয়র হিসেবে আগের আট বছর আর সিটি মেয়র হিসেবে পরবর্তী ১০ বছর মোট ১৮ বছর ধরে মেয়রগিরি করা আইভী কিন্তু ব্যাপক উন্নয়ন কাজ করেছেন নারায়ণগঞ্জ শহর জুড়ে। নারায়ণগঞ্জ শহরবাসী এরকম অনেক ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী যেখানে আইভী নিজে দাঁড়িয়ে সড়ক বা ড্রেন নির্মাণকাজ তদারকি করছেন। পুরুষের চেয়ে কঠোর-কঠিন কণ্ঠে নির্দেশ দিচ্ছেন, শাসন করেছেন ফাঁকিবাজ ঠিকাদার, ইঞ্জিনিয়ার, মিস্ত্রি-শ্রমিকদের। 

শীতলক্ষ্যার অপরপাড়ে সিটি কর্পোরেশনের বন্দর অংশের বলা যায় খোল-নলচে পাল্টে দিয়েছেন আইভী। এটা নারায়ণগঞ্জ শহরবাসী যে কোনো নাগরিককে জিজ্ঞেস করলেই জানা যাবে তা তিনি যে দলই করুন না কেন। ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে নাসিকের সিদ্ধিরগঞ্জ অংশেও। 

এক অর্থে বলা যায় মেয়র পদের ক্যারিশমা বলতে এখন আমরা যা বুঝি, সিটি কর্পোরেশন ছাড়িয়ে দেশের বিভিন্ন এলাকার পৌর মেয়রদের অনেকে এখন যে মেয়রগিরির একটা গুরুত্বপূর্ণ এবং গ্রহণযোগ্য আসন গড়ে তুলেছেন তার সূচনাটা কিন্তু সেলিনা হায়াত আইভীর হাতে হয়েছে। বলা যায় বাংলাদেশে মেয়রের রোল মডেল হচ্ছেন ডা. সেলিনা হায়াত আইভী। 

এর আগে মেগাসিটি ঢাকার নিযুক্ত মেয়র হাসনাত-মালেক-আব্বাস এবং পরবর্তীতে ঢাকার প্রথম নির্বাচিত মেয়র হানিফ, তারপরের খোকা আর চট্টগ্রামের মহিউদ্দিনের মেয়রগিরি অনেক ক্ষেত্রেই প্রশংসনীয় ছিল কিন্তু আইভীর মেয়রগিরির পর্যায়ে ছিল না। অনেকেই ছিলেন নামকা ওয়াস্তে ‘নগরপিতা’। নারী হয়েও আইভী দেখিয়েছেন নগরপিতা বা মেয়রের কাজগুলো আসলে কি কি এবং কেমন। 

তার পদাঙ্ক অনুসরণ করেই পরবর্তীতে ক্যারিশম্যাটিক সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও ব্যবসায়ী নেতা আনিসুল হক ঢাকা উত্তর সিটিতে ব্যাপক পরিবর্তনের সূচনা করেন। অন্যদিকে দক্ষিণ সিটিতে হানিফপুত্র মেয়র খোকন উত্তরের আনিসুল ও নারায়ণঞ্জের আইভীর নকল করতে গিয়ে নেতৃত্বের যোগ্যতা ও দক্ষতা এবং সততার খামতির কারণে লেজে-গোবরে অবস্থা করে ফেলেন।

মোটকথা ডা. সেলিনা হায়াত আইভী প্রবল প্রতিপত্তিশালী একটি রাজনৈতিক পরিবারের একচ্ছত্র প্রভাব আর বিরোধিতা করে ত্বকী হত্যার বিচার দাবিতে সোচ্চার হয়েছেন, এমনি জনমুখী নানান সিদ্ধান্ত আর কর্মকাণ্ডে নারায়ণগঞ্জের সবশ্রেণির মানুষের অধিকাংশের মন জয় করে নিয়েছেন। জনগণের সেবায় বাজ করতে গিয়ে ধারবাহিকভাবে এমন একটি শক্তিধর পারিবারিক বলয়ের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন যাদের দুই সহোদর জেলার আলাদা আলাদা আসনে এমপি (একজন আওয়ামী লীগ অপরজন জাতীয় পার্টি)। এবং এতসব বৈরিতার মুখেও তিনি উন্নয়ন কাজ এগিয়ে নিয়েছেন প্রশংসনীয়ভাবে, একইভাবে তিনি গত প্রায় দুই দশকে পরপর চারটি নির্বাচনে মেয়র পদে বিজয়ী হয়েছেন- এর অর্থ পিতা আলী আহম্মদ চুনকার মতো তিনিও গণমানুষের অন্তরে স্থান করে নিয়েছেন আপন সততা, দক্ষতা আর রাজনৈতিক প্রজ্ঞায়।

কিন্তু নাসিক নির্বাচনে ভোট গ্রহণের আগের কয়েক ১৮ দিন জুড়ে বিভিন্ন মিডিয়ায় দেখা গেছে আইভীর বিরুদ্ধে কৌশলী অপপ্রচার। যেমন আইভীর ‘ব্যর্থতা’। যেখানে তার সাফল্যের সংখ্যা সিংহভাগ সেখানে এই কথিত ব্যর্থতাগুলো তুলে ধরে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী তৈমুর সিংহভাগ ভোটারের সমর্থন পাবেন এমন আবহ তৈরি করা হয়। 

বাস্তবে দেখা গেছে এবারের নির্বাচনে আইভী তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী তৈমুর আলম খন্দকারের চেয়ে সত্তর হাজার ভোট বেশি পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। অপরদিকে মোট সাতজন মেয়রপ্রার্থীর বাকি ৫ জনেরই জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। এই পরিস্থিতি কি হঠাৎ করেই হলো?

প্রশ্ন হলো, এখন তো টেকনোলজি অনেক উন্নত হয়েছে, সংবাদ তথা তথ্য সংগ্রহ, বিশ্লেষণের ডিভাইস অনেক উন্নত, সবকিছুই এখন কম্পিউটারাইজড-ডিজিটাইজড, যোগাযোগ-যাতায়াতও অনেক উন্নত, ঢাকার পাশের জেলা নারায়ণগঞ্জ- এখন এতসব বাস্তবতায় সেখানকার নির্বাচন বিষয়ক এই বাস্তবতা কি রাষ্ট্রের-গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভ মিডিয়া ধরতে পারেনি? 

আমাদের জাতীয় পর্যায়ের গণমাধ্যমগুলো তাহলে কিসের দক্ষতা আর অভিজ্ঞতার নিরিখে সংবাদ পরিবেশন আর বিশ্লেষণ করে? এক্ষেত্রে তো নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শুরুর আগমুহূর্ত পর্যন্ত প্রচার চলেছে যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে। কে জেতে বলা মুশকিল- এমন একটা ভাব ছিল মিডিয়াজুড়ে। কিন্তু স্মরণকালের নিরপেক্ষ, নির্ভেজাল আর শান্তিপূর্ণ ভোটে দেখা গেল ফলাফল অন্যরকম মানে একেবারে অন্যরকম। এই বাস্তবতা কি মিডিয়া ধরতে পারেনি, বুঝতে পারেনি?

আমাদের ধারণা নারায়ণগঞ্জে ভোটের ফল কি হবে তা তারা বুঝতে ঠিকই পেরেছে? স্থানীয় প্রতিনিধিরা বাস্তব চিত্র ঠিকই তুলে ধরেছিলেন, কিন্তু রাজধানীতে মিডিয়ার প্রধান অফিসগুলোর কর্তারা তাদের ইচ্ছায় বা তারা বিজ্ঞাপন ও অন্যান্য বিবিধ কারণে যাদের কাছে দাসখত দিয়ে রেখেছেন তাদের ইচ্ছায় সংবাদ সেভাবে পরিবেশন করেননি। 

আমাদের মিডিয়া (বেশির ভাগ) কেন নাসিক নির্বাচনের সত্যিকারের নাড়ির স্পন্দনটা ধরতে পারলো না! কিংবা ধরতে পেরেও তা তুলে ধরলো না! নির্বাচনে কে হারবে কে জিতবে সেটা তো সংবাদকর্মীদের বিবেচনার বিষয় না। বিষয় হচ্ছে সঠিক সংবাদ বা বিশ্লেষণ প্রচার করতে হবে।

যে পাঠক গাঁটের পয়সা খরচায় পত্রিকা কেনেন, বিদ্যুৎ-ইন্টারনেটের বিল মিটিয়ে টিভিতে-মোবাইলে-কম্পিউটারে সংবাদ দেখেন তাদেরকে বাস্তবতা থেকে দূরে সরিয়ে রাখার এই প্রবণতা কেন? 

তবে পেছনের কারণ যাই হোক, তাদের এই প্রবণতা সপরিবারে এবং সদলবলে ধরাশায়ী হয়েছে নারায়ণগঞ্জ সিটির জনগণের কাছে, একজন সাধারণ নারী আইভীর কাছে- এটাই তিক্ত সত্য। ঢোক গিলে গিলে সেই সত্যটাই এখন প্রচার করতে হচ্ছে তাদের।

অল্প আঁচে বা প্রলোভনে গলে যায় বিবেক আর নৈতিকতার ছদ্মবেশে থাকা অনেক মোম। আমরা আশা করি আমাদের মিডিয়া সেরকম মোম যেন না হয় বারবার। দুই-একজন হতেই পারে বিভ্রান্ত, কিন্তু সিংহভাগ যেন সেই বিভ্রান্তির আত্মঘাতী পিচ্ছিল পথে ছুট না লাগান- এই প্রত্যাশা রইলো। 

সত্যপ্রকাশে মিডিয়ার গৌরব সমুন্নত থাকুক।
             

দিনবদলবিডি/আরকে

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়