সোমবার

২৩ মে ২০২২


৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯,

২১ শাওয়াল ১৪৪৩

দিন বদল বাংলাদেশ

শয়তানপুত্রের কীর্তি ও সূত্রপাতকারীদের পার্থক্য

সম্পাদকীয় ডেস্ক || দিনবদলবিডি.কম

প্রকাশিত: ২০:১৫, ১১ মে ২০২২   আপডেট: ১৩:০৯, ১৪ মে ২০২২
শয়তানপুত্রের কীর্তি ও সূত্রপাতকারীদের পার্থক্য

ছোটবেলায় অনেক আজগুবি ধরনের গল্প শুনে থাকি আমরা। এইসব গল্পে অনেক সময়েই আগপাশতলা থাকতো না। যুক্তির নিরীখে সেসব গাঁজাখুরি গল্পের সত্যাসত্য আর বাস্তবতা নিষিক্তও ছিল না। তবে গল্পগুলো হতো উপভোগ্য এবং এর শেষে থাকতো নীতিশিক্ষামূলক (মোরাল) বক্তব্য।

এ ধরনেরই একটি গল্প ছিল এরকম-  ‘শয়তান সকালে বাড়ি থেকে বের হওয়ার  সময় (অর্থাৎ দুনিয়া জুড়ে অশান্তি আর অপকর্মের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে) তার কলিজার ধন ছোট্ট ছেলেটিকে দুষ্টুমি করতে এবং বিশেষ করে বাড়ির বার হতে কঠোরভাবে মানা করে গেল।

সন্ধ্যায় বাড়ি ফেরার পথে শয়তান কিছুটা অবাক হয়। এলাকা শুনশান। চতুর্দিকে সশস্ত্র পুলিশের উপস্থিতি। বাতাসে পোড়া গন্ধ। আশপাশের প্রায় বাড়িঘর আর দোকান-পাটই ভাঙাচোরা। বিদ্যুৎহীন সমগ্র এলাকা।

তার চেয়ে বড় কথা বাতাসে এক ধরনের হীম ধরানো গুমোট ভীতিকর পরিবেশ বিরাজ করছে। যা দেখে শয়তানের অতি অভিজ্ঞ মন বলছে আজ কমপক্ষে গোটা দশেক লাশ পড়েছে এখানে। আরো কয়েকগুন পড়তে পারে রাতেই। বাতাসের অশরীরী গন্ধ তাই জানান দিচ্ছে।

শয়তানদের বাদশাহ তড়িঘড়ি নিজ বাড়িতে গিয়ে ঢুকলো- মনে তার প্রবল অমঙ্গল আশঙ্কা। প্রথমেই খোঁজ করলো শিশুপুত্রের।

না, পুত্রধন বহাল তবিয়তেই আছে। যাক মনটা তার প্রশান্তিতে ছেয়ে গেল।

কিন্তু এরপরই একধরনের জেলাসিতে মনপ্রাণ ফুঁসতে থাকলো। এই জেলাসি সেই জেলাসি যখন পরমেশ্বর তাকে আদমকে সেজদা করতে বলেছিলেন। মহামহিমের সেই আদেশ অমান্য করার পাপসূত্রেই তো তাকে দুনিয়ার এই জিল্লতি ভরা জীবন পোহাতে হচ্ছে।

যাহোক, পুরনো কথা ভুলে শয়তান তার হালের ঈর্ষা জাগানিয়া বিষয়টিতে মনোনিবেশ করলো। প্রশ্ন হচ্ছে, যেখানে শয়তানকুল শিরোমনি নিজে এলাকাতে ছিল না সেখানে মাত্র কয়েক ঘণ্টা সময়ে এই ধরনের মহাঅশান্তি আর খুনোখুনির কাণ্ডটা এখানে কে ঘটালো? এটা তো তার মতো কয়েকটা শয়তানের সম্মিলিত  চেষ্টাতেও সম্ভব না! তাহলে?

গ্রেফতার নিউমার্কেটের দুই দোকান কর্মচারী কাওসার ও বাবু হোসেন

তাহলে কি পরম প্রভূ তাকে শিক্ষা দিতে, হেয় করতে, তারচেয়ে বড় কোনো শয়তান নাজেল করেছেন? বিষয়টি ভাবতেই বুকের কন্দরে থাকা অহঙ্কারের সিন্দুকে আবারো জোর ধাক্কা অনুভব করে শয়তানশ্রেষ্ঠ লুসিফার।

মনের ভেতর ক্রমশ বড় হতে থাকা প্রশ্নের শিকড়ের কোনো কূলকিনারা করতে পারে না সে। এসময় তার ছেলেটি সামনে এসে ঘুর ঘুর করতে থাকে।

বিরক্ত হয়ে ছেলেকে জিজ্ঞেস করে- কি রে বজ্জাত! বাড়ির বার হসনি তো সারাদিনে?

না, বাপজান!

এলাকায় এতবড় মারামারি খুনোখুনির অবস্থা কোন শয়তান সৃষ্টি করেছে জানিস?

চোখ বড় বড় করে শয়তানপুত্র বললো-

না তো, বাপজান!

তাইলে!? তাইলে... এতবড় অপকর্ম তো শুধু তার নিজের মতো শয়তানি মাথাওয়ালাই করতে পারে! পাপিষ্ঠ প্রধান ভেবে কুল-কিনারা পায় না।

হয় আমি নয় আমার কোনো...

কি মনে করে শয়তান ফের পুত্রকে প্রশ্ন করে- তুই কি সারাদিন বাড়িতেই ছিলি? একবারের জন্যও বের হসনি?

এবার আমতা আমতা করে শয়তানপুত্র জবাব দেয়- আব্বাজান, একবার শুধু মাকে বলে গলির মুখের ওই মুদি দোকানটার সামনে গিয়ছিলাম। শুধু এক মিনিটের জন্য...গিয়েই ফিরে এসেছি কিন্তু!

শয়তানের চোখমুখ উজ্জ্বল হয়ে ওঠে রহস্য উদঘাটনের দিশা পেয়ে। ছেলেকে ফের প্রশ্ন করে- ওইখানে গিয়ে তুই কি করেছিলি?

কিচ্ছু না বাবাজান!

কিচ্ছু না? একদম কিচ্ছু করিস নাই!? মনে করে দেখ!

এবার আজাজিলপুত্র মাটির দিকে তাকিয়ে একটু আমতা আমতা করতে থাকে।

শয়তান রেগে উঠে ধমক লাগায় পুত্রকে-

বল বলছি কি করেছিলি তুই, নইলে...

ভীত কণ্ঠে শয়তানপুত্র বলে-

বাপজান, আমি কিচ্ছু করি নাই, সত্যি করে বলছি। শুধু মুদিওয়ালার গুড়ের ঠিল্লা থেকে একটু গুড় নিয়ে দেয়ালে লাগিয়ে দিয়ে এসেছিলাম...

তারপর!?

তারপর সেই গুড় খেতে পিঁপড়া আসলো। পিঁপড়ার পিছু পিছু তেলাপোকা আসলো। এরপর তেলাপোকার আনাগোনা দেখে দুই একটা টিকটিকি এল, কিছু পরে খুব সাবধানে এলো একটি নেংটি ঈঁদুর।

পুরো বিষয় এতক্ষণ এক কোণায় বসে দেখছিল দোকানদারের পোষা হুলো বিড়ালটা। হঠাৎ সে লাফিয়ে পড়লো ইঁদুরটার ওপর। কিন্তু খাড়া দেয়ালে ইঁদুরটাকে ধরতে না পেরে বিড়াল আছড়ে গিয়ে পড়লো রাস্তার ওপর। সেখানে তখন শীতের দুপুরের রোদে আরামের ঘুম ঘুমাচ্ছিল এলাকার রগবাজ ভয়াবহ সন্ত্রাসী হেলমেট-জামানের পোষা কুকুর বাঘা।

কুকুরটা আচমকা ঘুম ভেঙে যেতেই সামনে চিরশত্রু ওই বিড়ালকে দেখে হুঙ্কার দিয়ে কামড়ে ধরে ঘাড়।

শয়তান রুদ্ধশ্বাসে গল্প শুনে যাচ্ছিল। ফিনিশিং শোনার ধৈর্য সামাল দিতে না পেরে ব্যাগ্র কণ্ঠে জিজ্ঞেস করলো পুত্রকে- এত পেঁচাচ্ছিস কেন? তারপর কি হলো বল!

তারপর আর কি- নিজের চোখের সামনে আদরের পোষা বিড়ালটাকে বাঘার কামড়ে মরতে দেখে লাঠি নিয়ে এসে মাথায় বাড়ি দিয়ে কুকুরটাকে মেরে ফেললো মুদিওয়ালা।

এই ঘটনা কুকুরের মালিকের কানে যেতে বেশি সময় নেয়নি। ইয়াবার আড্ডা ছেড়ে হেলমেট-জামান দৌড়ে এলো। তার পোষা কুকুরকে হত্যা করা মানে তার ইজ্জত পাংচার। তাকে হত্যা করার সামিল এটা! এসেই সে সামনে মুদিওয়ালাকে পেয়ে কোমড় থেকে পিস্তল বের করে গুলি করে দিল। মুদিওয়ালা ওইখানেই শেষ।

মুদিওয়ালা আবার ছিল স্থানীয় এমপির দূর সম্পর্কের শালা। তার বউকে এমপি মহাশয় খুব পেয়ার করেন। সদ্য বিধবা মুদির বউ গিয়ে কেঁদেকেটে পায়ে পড়লো এমপির।

সুন্দরি এবং যুবতীর চোখের পানি ভয়াবহ। এমপির ইশারা পেয়ে ক্যাডাররা এসে হেলমেট জামানকে তার হেরোইন-ইয়াবার আড্ডায় তিন সঙ্গী-সাথীসহ কুপিয়ে ছয়-সাত টুকরো করে ফেললো।

খবর পৌঁছে যায়  হেলমেট-জামানের গডফাদার এবং এমপির পুরনো প্রতিদ্বন্দ্বী পাশের সংসদীয় আসন থেকে পাশ করা জনৈক প্রতিমন্ত্রীর কাছে। এখন একদল করলেও আগে এরা বিরোধী দুই দলের কর্মী ছিল। এতবড় অপমান আর  হেলমেট-জামানের মতো ক্যাডার খতম করার ক্ষতির শোধ নিতে নিজের পালিত ক্যাডারবাহিনীর সঙ্গে বিরোধী দলের আত্মগোপনে থাকা সন্ত্রাসীদেরও ‘দায়মুক্তির’ গ্যারান্টি দিয়ে ডেকে নিলেন তিনি।

বিরাট দল গিয়ে হামলা চালালো এমপি মহাশয়ের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে। সেখানে যাকে পেয়েছে কুপিয়ে-গুলি করে কুচকাটা করেছে তারা। এখানে লাশ পড়েছে পাঁচ-ছয়টা। এমপি সাহেব নিজেও গুরুতর আহত হয়ে আইসিইউতে এখন। বাঁচেন কি না সন্দেহ। আর দুই পক্ষই প্রতিপক্ষের বাড়িঘর-দোকান-অফিস-কারখানা ইচ্ছেমতো জ্বালিয়ে ছাড়খার করেছে।

এবং সবশেষে পুলিশ এসেছে। এসেছে ফায়ার ব্রিগেডও। কী যেন ধারা জারি করা হয়েছে...

মহা আনন্দে বাগবাগ কণ্ঠে ইবলিস এবার বলে উঠলো- ১৪৪ ধারা। মামলা হয়েছে অজ্ঞাত ৫ হাজার জনের নামে... ব্যাপক রগড় হবে এটা নিয়ে এবার। খালি প্যাঁচ আর প্যাঁচ। লাগতেই থাকবো। এক মামলায় ৫ হাজার পরিবার ভুগবো। হাহ! কি শান্তি। এই পাঁচ হাজার মামলা নিয়ে হবে শয়তানির পর শয়তানি। আহ শান্তি!

এরইমধ্যে তদন্ত কমিটি হয়েছে তিনটি। পাঁচ কার্য দিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে তাদেরকে। হুম তদন্ত...

আর সমস্ত ঘটনা ঘটে গেছে ২০ থেকে ৩০ মিনিটের মধ্যে। শয়তান খুশিতে চূড়ান্ত আত্মহারা। সে নিজে এত বড় শয়তান হয়েও সারাদিনে এর ধারে কাছে আসতে পারে তেমন দুষ্কর্ম সারতে পারেনি আজ। আর অতটুকু পুঁচকে শয়তানপুত্র একচিমটি গুড় দিয়ে কি ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি করে দিয়েছে।

সবকিছু ভুলে পুত্রকে মাথায় তুলে ধেই ধেই নাচতে শুরু করে দিল ধাঁড়ি শয়তান। সাবাস বেটা, সাবাস! তুই থাকতে আমার আর চিন্তা নাই। তুই যখন বড় হবি তখন আমি...’

গল্প এখানেই শেষ। গল্পটি মনে পড়লো পত্রিকার পাতায় নিচের শিরোনামটি পড়ে। দৈনিক যুগান্তরের এই শিরোনামে বলা হয়েছে-

নিউমার্কেট এলাকায় সংঘর্ষ

‘সূত্রপাতকারী’ দুই দোকান কর্মচারী গ্রেফতার

এরপর বিস্তারিত সংবাদে বলা হয়েছে- রাজধানীর নিউমার্কেটের ব্যবসায়ী ও ঢাকা কলেজ শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষের ঘটনায় দুই দোকান কর্মচারীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতার ব্যক্তিরা হল নিউমার্কেটের ক্যাপিটাল ফাস্টফুডের কর্মচারী কাওসার (৩০) ও বাবু হোসেন (৩০)।

মঙ্গলবার রাজধানীর হাজারীবাগ থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয় বলে জানিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া উইংয়ের উপ-কমিশনার ফারুক হোসেন। গ্রেফতার কাওসারের বাড়ি ঢাকার নবাবগঞ্জ জেলার বান্দুরায়। বাবুর বাড়ি শরীয়তপুর জেলার ডামুঢ্যা থানার চরমারগাওয়ে।

গোয়েন্দা রমনা বিভাগের উপকমিশনার এইচএম আজিমুল হক বলেন, বিষয়টি আসলে সবারই জানা। দুটি ফাস্টফুডের দোকানের কর্মচারীর মাঝো মারামারি করেছে। মারামারি শেষে একজন আবার ঢাকা কলেজের ছাত্রদের ইনভাইট করেছে। পরে একটা রিউমারের ওপরে দুদিন ধরে মারামারি চলেছে।

পুলিশ জানায়, ১৮ এপ্রিল বিকালে ওয়েলকাম ফাস্টফুডের বাপ্পি এবং ক্যাপিটাল ফাস্টফুডের কাওসার ও বাবুর সঙ্গে উভয়ের দোকানের সামনে ইফতারের টেবিলপাতা নিয়ে ঘটনার সূত্রপাত হয় বলে সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়। এর জের ধরে পরদিন ১৯ এপ্রিল সকাল থেকে নিউমার্কেটের ব্যবসায়ী ও দোকান কর্মচারীদের সঙ্গে ঢাকা কলেজ শিক্ষার্থীদের দিনভর সংঘর্ষ হয়।

তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রায় ১৮ ঘণ্টা ধরে চলা সংঘর্ষের সময় একটি কুরিয়ার সার্ভিসের ডেলিভারিম্যান নাহিদকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে জখম করা হয়। ইটের আঘাতে আহত হন মুরসালিন নামের নিউ সুপারমার্কেটের আরেক দোকানকর্মী। পরে দুজনই হাসপাতালে মারা যান।

বিশেষ করে রামদা দিয়ে আহত নাহিদকে নির্মমভাবে কোপানোর রক্ত হিম করা দৃশ্য সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে যা অনেকের স্মৃতিতে দীর্ঘদিনের দুঃস্বপ্ন হয়ে থাকবে।

সংঘর্ষে জড়ানো দুপক্ষ এবং সাংবাদিক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দুই শতাধিক মানুষ এতে আহত হন। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে পাঁচটি যাতে মোট আসামির সংখ্যা ১ হাজার ৭২৪। দুজনের মৃত্যুর ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে দুটি হত্যা মামলা করা হয়েছে।

এ ছাড়া সংঘর্ষ ও বোমাবাজির ঘটনায় আলাদা দুটি মামলা করেছে পুলিশ। আরেকটি মামলা করেছেন সংঘর্ষের দিন ভাঙচুর হওয়া অ্যাম্বুলেন্সের মালিক। এর মধ্যে হত্যা মামলা দুটির তদন্ত করছে গোয়েন্দা পুলিশ। বাকি তিন মামলার তদন্ত করছে নিউমার্কেট থানা পুলিশ।’

দোকান মালিক সমিতি, ঢাকা কলেজ কর্তৃপক্ষ, প্রশাসন সবার সম্মিলিত চেষ্টায় শেষমেষ আরো ভয়াবহ পরিস্থিতিতে মোড় নেওয়ার আগেই ঠেকানো গেছে এই রক্তক্ষয়ী সংঘাত। এখানে অনেক কথিত-অকথিত কথা, তথ্য, বিচার-বিশ্লেষণ, মত  আছে। তবে আমাদের চোখে এখানে একটি জিনিস খুব প্রকট হয়ে ধরা পড়েছে। তা হচ্ছে শয়তানের পুত্রের মতো সেই ‘সূত্রপাতকারী’ ঘটনা।

নিউমার্কেটের ঘটনার সূত্রপাতকারীদের মধ্যে দুইজন পাকড়াও হয়েছে। শুনেছি দোকান কর্মচারী নাহিদের হত্যাকারী ঢাকা কলেজের ছাত্রদেরকেও পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। আশা করছি সরকার-প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট অন্যদের ইতিবাচক তৎপরতায় এই রক্তক্ষয়ী বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীরা সবাই শাস্তির আওতায় আসবে।

আবারো বলছি, সবকিছুই একসময়ে ঠিকঠাক হয়ে যায় বা প্রচলিত কথায় সেটেল হয়ে যায়। যাপিত জীবনের চাহিদায় জীবন এগিয়ে যায় জীবনের মতো। কিন্তু ওই যে ‘সূত্রপাতকারী’কারীদের কারণে হঠাৎ করেই যে ছন্দপতন হয় সুস্থ স্বাভাবিক জীবনে- তাদেরকে ঠেকানো খুবই জরুরি।

প্রায় ক্ষেত্রেই এই ‘সূত্রপাতাকারীরা’ ভয়াবহ ঘটনার সূত্রপাত ঘটানোর মুহূর্তমাত্র আগেও জানেন না তিনি কী ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে যাচ্ছেন তারা। তাদেরও ঘরে কিন্তু থাকে স্ত্রী-সন্তান, বাবা-মা। সেই তারাই কিছুক্ষণের মধ্যে কতগুলো মানুষের জীবন প্রদীপ নিভিয়ে দিতে যাচ্ছেন কোন ধরনের শত্রুতা ছাড়াই !

তাই আমাদের প্রত্যেকেরই উচিৎ শয়তানপুত্রের মতো তুচ্ছাতিতুচ্ছ কোনো কার্যের (অপকর্মের) মাধ্যমে যেন আমরা বড় ধরনের বিস্ফোরণোম্মুখ ঘটনার সূত্রপাত না ঘটাই- যেন শয়তানদের খুশির কারণ না হই।

ঘটনার আকস্মিকতায় আপনি আমি যে কেউ এ ধরনের ঘটনার ‘সূতপাতকারী’ ভিলেন হয়ে যেতেও পারি। শয়তানের তো মানুষের মতো মনস্তাপ নেই, অনুশোচনা নেই। কিন্তু আমি আপনি তো মানুষ। আমাদের বিবেক আছে- মনস্তাপ আছে, আছে বিবেকের দংশন!

সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায় গেছে, ওয়েলকাম ফাস্টফুডের বাপ্পি এবং ক্যাপিটাল ফাস্টফুডের কাওসার ও বাবুর সঙ্গে ইফতারের টেবিলপাতা নিয়ে ঘটনার সূত্রপাত হয়েছে। আমরাও প্রতিদিন ইফতারের টেবিলপাতার মতো অনেক তুচ্ছাতিতুচ্ছ ঘটনায় সীমা অতিক্রম করে ফেলি বিনা কারণেই। অন্যকে হেয় করে, তুচ্ছ করে, নিজে হিরো সাজতে যাই। প্রয়োজনে সাহায্য সহযোগিতার জন্য কাপুরুষের মতো মাসলম্যান ডেকে আনি।

সর্বত্র সিসিটিভি ক্যামেরা থাকে না। তবে আমাদের সবার ভেতরে বিবেক থাকে। আসুন তাকে জাগ্রত করি। আমাদের বিবেক সদা জাগ্রত থাকলে সিসিটিভিতে ধরাপড়া বাপ্পী-কাওসার-বাবুর মতো বিবেকহীন ঘটনা ঘটবে না।

আমরা নিশ্চিত, সেদিন বাপ্পি-কাওসার-বাবুর বিবেক জাগ্রত ছিল না- তাদের বিবেককে সেদিন মরণ ঘুমে ঘুম পাড়িয়ে রেখেছিল তারা তাদের সীমাহীন বেপরোয়া দুর্বুত্তমূলক আচরণের দ্বারা। 

আবারো বলি- আসুন, বিকেককে জাগ্রত করি- আর কতো জীবন নাশ হবে আমাদের বিবেকহীন ‘হিরোগিরি’র শিকার হয়ে! ভাবুন তো একবার...

দিনবদলবিডি/এমআর

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়