মঙ্গলবার

২৬ অক্টোবর ২০২১


১১ কার্তিক ১৪২৮,

১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

দিন বদল বাংলাদেশ

যা খুশি তাই করছেন অধ্যক্ষ ময়েজ, থামানোর যেন কেউ নেই! 

শিক্ষাঙ্গন ডেস্ক || দিনবদলবিডি.কম

প্রকাশিত: ২০:৪৭, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১  
যা খুশি তাই করছেন অধ্যক্ষ ময়েজ, থামানোর যেন কেউ নেই! 

সংগৃহীত ছবি

রাজধানীর মিরপুর ১ নম্বর সেকশনের হযরত শাহ আলী গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ শপিং কমপ্লেক্সের কার পার্কিং এর স্থানে রাজউকের নিয়মবহির্ভূতভাবে ৪৫টি দোকান তৈরির অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় প্রভাবশালী নেতাদের ছত্রছায়ায় টেকনোপল কনস্ট্রাকশন কোম্পানি লিমিটেডের মালিক মুজিবর রহমানের বিরুদ্ধে। চলতি বছরে সিএমএম কোর্টে তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে  জানা যায়, হযরত শাহ আলী গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ শপিং কমপ্লেক্সের কার পার্কিং এর স্থানে দোকান করার জন্য ইট,বালু ও সিমেন্ট এনে রেখেছে টেকনোকল কনস্ট্রাকশন। সেখানে দোকান তৈরির জন্য বিভিন্নভাবে মার্কেট কর্তৃপক্ষের ওপর চাপ সৃষ্টি করছেন প্রতিষ্ঠানটির হর্তাকর্তারা। মার্কেট সভাপতিকে একের পর এক বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের সহযোগিতায়। 

শাহ আলী শপিং কমপ্লেক্স দোকান মালিক সমিতির সভাপতি আলাউদ্দিন আল আজাদ অভিযোগ করে বলেন, মার্কটের জায়গা জবরদখলের জন্য দায়ী করে টেকনোপল কন্সট্রাকশন কোম্পানি লিমিটেডের মালিক মজিবর রহমানসহ তিন জনকে আসামি করে চলতি বছরের ২৫ মে আমি সিএমএম কোর্টে একটি মামলা  করেছি। মামলাটির তদন্তের দ্বায়িত্ব দেওয়া হয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই)।

তিনি আরো বলেন,‌ আমাদের মার্কেটের কার পার্কিং এর স্থানে ডেভলপার দোকান তৈরি করতে চাচ্ছে। দোকান তৈরির জন্য এরই মধ্যে মজিবর (ডেভেলপার কোম্পানির মালিক) ইট,বালু ও সিমেন্ট নিয়ে এসেছে। দলীয় প্রভাবশালী নেতাকর্মীদের নিয়ে মার্কেটের বেজমেন্টে রাজউকের নিয়মবহির্ভূতভাবে দোকান তৈরির পাঁয়তারা করছে।  এরই মধ্যে আমি ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও রাজউকের চেয়ারম্যান বরাবর অভিযোগও দিয়েছি।

শাহ্ আলী মহিলা কলেজ গভর্নিং বডির সভাপতি প্রফেসর ড. মোকাদ্দেস হোসাইন  বলেন, আমি মাত্র দায়িত্ব গ্রহণ করেছি। এ বিষয়ে  ম্যানেজিং কমিটির সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এই সিদ্ধান্তে আইনের কোনো ব্যত্যয় ঘটবে না।

এ বিষয়ে টেকনোপল কন্সট্রাকশন কোম্পানি লিমিটেডের মালিক মজিবর রহমানের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগের জবাব না দিয়ে তালবাহানা করে ফোন বন্ধ করে দেন।

  উল্লেখ্য, এর আগে হযরত শাহ আলী গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ ময়েজ উদ্দিনের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাত, দুর্নীতি, জবরদখল, স্বাক্ষর জালিয়াতি, ছাত্রীর মায়ের সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কে জড়ানোসহ বিভিন্ন অভিযোগের কারণে তার বিরুদ্ধে দুদক, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও শিক্ষামন্ত্রীর কাছে অভিযোগ দেওয়া হয়। তারপর  চলতি বছরের ২৫ মে সিএমএম কোর্টে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে। এরপরও অধ্যক্ষের দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতায় চলছে কলেজ।

সূত্র জানায়, ২০০৮ সালের নারায়ণগঞ্জ সোনারগাঁও জিআর ইনস্টিটিউটে নিয়মবহির্ভূত নিয়োগ ও অর্থ আত্মসাৎসহ বেশকিছু অভিযোগের কারণে অধ্যক্ষ ময়েজকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। তার পর তিনি স্হানীয় প্রভাবশালী নেতাদের মাধ্যমে  ২০১২ সালে হযরত শাহ আলী গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষের দায়িত্ব নেন। ২০১৬ সালে দুর্নীতির দায়ে কলেজ কমিটির সভাপতি তৎকালীন সংসদ সদস্য আসলামুল হক আসলাম তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেন। এতকিছুর পরও এখন পর্যন্ত অধ্যক্ষ পদে বহাল তবিয়তে আছেন ময়েজ উদ্দিন- একের পর এক তার অবৈধ কর্মকান্ড সরকার ও প্রশাসনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে।

ভুক্তভোগী হযরত শাহ আলী গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ সহকারী অধ্যাপক শাহাদাত হোসেন বলেন, আমার কলেজের অধ্যক্ষের অর্থ আত্মসাৎ, দুর্নীতি ও লুচ্চামির বিরুদ্ধে অনেক জায়গায় অভিযোগ করেছি। ময়েজ উদ্দিনের বিরুদ্ধে ২০১৯ সালের ৩ নভেম্বর ডিসি অফিসে, ২০২০ সালে ২৭ অক্টোবর দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), একই বছরের ৯ নভেম্বর শিক্ষামন্ত্রী ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাছে অভিযোগ করেছি। এখন পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। কলেজে তিনি বহাল তবিয়তে আছেন। তার জন্য স্কুল ও কলেজের সুনাম নষ্ট হতে যাচ্ছে। 

অধ্যক্ষের দুর্নীতির বিষয়ে শাহাদাত হোসেন আরো  বলেন, ২০১৯-২০ অর্থবছরের অডিটে ব্যাংকের মাধ্যমে ব্যয় দেখিয়েছেন ২ কোটি ৭৮ লাখ ৬৪০ টাকা। তার ক্যাশবুকে ব্যয় লেখা আছে ২ কোটি ৬৭ লাখ ৬ হাজার ২২০ টাকা। এখানে ১১ লাখ ৪২০ টাকার গরমিল। এই গরমিল কেন ও কী কারণে হয়েছে? তিনি (অধ্যক্ষ) নির্দিষ্ট কোনো কারণ দেখাতে পারেননি।

শিক্ষকদের টাকা আত্মসাতের কথা উল্লেখ করে সহকারী অধ্যাপক বলেন, আমরা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে অনেক পরীক্ষায় ডিউটি করে থাকি। সেই সব পরীক্ষার ডিউটির ফি নিয়ম অনুযায়ী কলেজের ব্যাংক একাউন্টে জমা হওয়ার কথা। সেই টাকা শিক্ষকদের মধ্যে বন্টনের দায়িত্ব অধ্যক্ষের। আমাদের ডিউটির টাকা অধ্যক্ষ তার নিজ ব্যাংক অ্যাকাউন্টে রাখেন। সেখান থেকে টাকা উত্তোলন করে তার ইচ্ছেমতো শিক্ষকদের দিচ্ছেন। যদি আমাদের বিল আসে এক লাখ টাকা, সেখানে মাত্র ৩০ হাজার টাকা শিক্ষকদের দিয়ে বাকি টাকা নিজের অ্যাকাউন্টে রেখে দেন অধ্যক্ষ। তিনি শাহ আলী শপিং কমপ্লেক্স মার্কেট থেকে মাসোহারা নেন। 

শাহ আলী শপিং কমপ্লেক্স দোকান মালিক সমিতির সভাপতি আলাউদ্দিন আল আজাদ বলেন, কলেজের জায়গা জবরদখল ও দুর্নীতির দায়ে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে চলতি বছরের ২৫ মে আমি সিএমএম কোর্টে মামলা করেছি। মামলাটি এখন তদন্তের ভার দেওয়া হয়েছে পুলিশ ব্যুরো ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই)। এছাড়াও কলেজের এক ছাত্রীর মায়ের সঙ্গে অধ্যক্ষের অনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। অধ্যক্ষ ময়েজ বিভিন্নভাবে ওই ছাত্রীকে কলেজ থেকে অন্যায় সুবিধা দিয়ে যাচ্ছেন।


এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমার এখানে ২৪টি দোকান আছে। কিন্তু শপিং কমপ্লেক্সের জায়গার মালিক হচ্ছে কলেজ। এ কারণেই অধ্যক্ষ ময়েজ তার ক্ষমতার অপব্যবহার করে দোকান মালিকদের হয়রানি করে যাচ্ছেন। তিনি আমার চারটি দোকান দখল করতে চেয়েছিলেন। তখন আমি তার নামে শাহআলী থানায় অভিযোগ করি। শাহআলী থানার মাধ্যমে তার সঙ্গে আমার সমঝোতা হলেও তিনি আমার প্রতি আরও ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। হযরত শাহ আলী শপিং কমপ্লেক্সের দোকান মালিকদের কাছ থেকে টাকা ছাড়া কোনো দোকান বুঝিয়ে দেয় না। বিভিন্নভাবে হয়রানি করে যাচ্ছেন দোকান মালিকদের।


কলেজটির গভর্নিং বডির সাবেক সভাপতি ও বর্তমান হিতৈষী প্রতিনিধি জাহাঙ্গীর আলম  বলেন, অধ্যক্ষের দুর্নীতি কার্যক্রমের শেষ নেই। তার নামে অনেক অভিযোগ রয়েছে। অধ্যক্ষ ময়েজ বিগত সময়ের সংসদ সদস্য আসলামুল হক আসলামের সই জাল করেছিলেন। তিনি স্কুল ও কলেজের সুনাম ধূলিসাৎ করে দিচ্ছেন।  খোঁজ নিলে তার সম্পর্কে আরো অনেক তথ্য জানা যাবে।

এসব বিষয়ে অধ্যক্ষ ময়েজ উদ্দিনের সঙ্গে মোবাইল ফোনে  যোগাযোগ করা হলে তিনি এ ব্যাপারে কিছু বলতে রাজি হননি। তবে তিনি বলেন, আমি যা করছি তা সঠিকভাবেই করছি।

দিনবদলবিডি/এইচ

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়