শনিবার

০৪ ডিসেম্বর ২০২১


২১ অগ্রাহায়ণ ১৪২৮,

২৬ রবিউস সানি ১৪৪৩

দিন বদল বাংলাদেশ

অনন্য অর্জনে গ্রামে খুশির বন্যা

কাবাঘরের বাংলাদেশি ক্যালিগ্রাফারকে নাগরিকত্ব দিলো সৌদি 

প্রবাস ডেস্ক || দিনবদলবিডি.কম

প্রকাশিত: ২২:১৮, ১৭ নভেম্বর ২০২১   আপডেট: ১২:৪১, ১৮ নভেম্বর ২০২১
কাবাঘরের বাংলাদেশি ক্যালিগ্রাফারকে নাগরিকত্ব দিলো সৌদি 

মুখতার আলম

পবিত্র কাবাঘরের গিলাফ (কিসওয়াহ) প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের প্রধান ক্যালিগ্রাফার চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার সন্তান মুখতার আলম। সম্প্রতি সৌদি সরকার তাকে সে দেশের নাগরিকত্ব দিয়ে অনন্য সম্মানে ভূষিত করেছে। এ নিয়ে তার গ্রামের বাড়িতে খুশির আমেজ বিরাজ করছে। তিনি উপজেলার আধুনগর ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের রশিদেরঘোনা কবির মোহাম্মদ সিকদারপাড়ার মৃত মফিজুর রহমানের ছেলে

জানা যায়, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ঘোষিত ‘ভিশন-২০৩০’-এর অংশ হিসাবে সম্প্রতি বিভিন্ন পেশায় দক্ষ বিদেশিদের নাগরিকত্ব দেওয়ার রাজকীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার অপর বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে মুখতার আলম সৌদি নাগরিকত্ব লাভ করেন।

সোমবার সকালে মুখতারের গ্রামের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, চারদিকে দেওয়াল তোলা একটি বাড়ি। গেটে তালা ঝুলছে। স্থানীয়রা জানান, মুখতার স্ত্রী ও চার কন্যাসন্তান নিয়ে সৌদি আরবের মক্কায় থাকেন। তারা চার ভাই, এক বোন। মুখতার সবার বড়। পরিবারের অন্যরা থাকেন চট্টগ্রাম শহরের বাসায়। বছরখানেক আগে তার বাবা মারা গেছেন। মা শিরিন আক্তার বর্তমানে শারীরিকভাবে অসুস্থ। মাঝে মধ্যে মুখতারসহ পরিবারের অন্যরা গ্রামের বাড়িতে আসেন। মুখতারের মামাতো ভাই খালেদ ও ইব্রাহিম বলেন, মুখতার আলম ছোটবেলা থেকে খুব মেধাবী ছিলেন। তার এ অর্জনে আমরা সবাই আনন্দিত। তিনি লোহাগাড়া উপজেলাসহ সারা দেশের মুখ উজ্জ্বল করেছেন। 

তারা জানান, মুখতার আলমের বাবা চুনতি হাকিমিয়া কামিল মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করতেন। দেশ স্বাধীনের আগে তিনি সপরিবারে সৌদি আরব চলে যান। সেখানে তিনি দীর্ঘসময় সৌদি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে ফার্মাসিস্ট হিসেবে বিভিন্ন হাসপাতালে দায়িত্ব পালন করেছেন। বাবার চাকরির সুবাধে পরিবারের অন্যদের সঙ্গে ছোটবেলা থেকেই সৌদিতে বসবাস করে আসছেন মুখতার।

স্থানীয় ইউপি সদস্য ফরিদ আহমদ জানান, এলাকার ছেলে সৌদি আরবের নাগরিকত্ব পাওয়ায় আমরা খুবই খুশি, গর্বিত। আশা করি তিনি তার কাজের মাধ্যমে সৌদিসহ বহির্বিশ্বে দেশের সুনাম আরও বৃদ্ধি করবেন।

সৌদি গেজেটের এক প্রতিবেদনে জানা যায়, মুখতার আলম বর্তমানে মক্কার কিসওয়া কারখানায় কাজ করছেন। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী ও ফোরামে তার প্রধান ক্যালিগ্রাফিগুলো প্রদর্শিত হয়। ক্যালিগ্রাফি দক্ষতাবিষয়ক প্রশিক্ষণেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ পাঠদান করেন। মক্কার দ্য ইনস্টিটিউট অব হলি মসকো তথা পবিত্র মসজিদুল হারাম পরিচালিত প্রতিষ্ঠানে ক্যালিগ্রাফিবিষয়ক তার পাঠ শেখানো হচ্ছে।

জানা যায়, মুখতারের জন্ম আনুমানিক ১৯৬৩ সালে গ্রামের বাড়িতে। সৌদি যাওয়ার পর প্রথমে পবিত্র কুরআন হিফজ সম্পন্ন করেন তিনি। ১৯৯২ সালে মক্কার বিখ্যাত উম্মুল কোরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শিল্পকলা বিষয়ে স্নাতক ও ২০০১ সালে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। বর্তমানে পিএইচডি করছেন তিনি। ১৯৯৫ সাল থেকে তিনি একই বিশ্ববিদ্যালয়ে শিল্পকলা বিষয়ে শিক্ষকতা শুরু করেন। ২০০২ সাল থেকে পবিত্র কাবাঘরের গিলাফ (কিসওয়াহ) প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানে কাজ করছেন। ৪০ বছর ধরে আরবি ক্যালিগ্রাফি পেশায় কাজ করছেন তিনি। বিভিন্ন সংস্থা থেকে বহু পুরস্কার ও প্রশংসা সনদ পেয়েছেন মুখতার আলম।

দিনবদলবিডি/এইচ

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়