বৃহস্পতিবার

২২ এপ্রিল ২০২১


৯ বৈশাখ ১৪২৮,

০৯ রমজান ১৪৪২

দিন বদল বাংলাদেশ

পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তের বর্ণিল উৎসব

ফিচার ডেস্ক || দিনবদলবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৩:১২, ৭ এপ্রিল ২০২১   আপডেট: ১৩:১৬, ৭ এপ্রিল ২০২১
পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তের বর্ণিল উৎসব

পৃথিবীতে হাজারো বর্ণিল উৎসব উদযাপিত হয় প্রতি বছর

উৎসব এখন আর ধর্ম, সম্প্রদায় কিংবা জাতীয় সীমার মধ্যে আবদ্ধ নেই। পৃথিবীতে হাজারো বর্ণিল উৎসব উদযাপিত হয় প্রতি বছর। সেগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় উৎসবগুলোই আমাদের চোখে পড়ে।

কিন্তু অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম হলেও কিছু উৎসবে আমরা আকৃষ্ট না হয়ে পারি না। আজ থাকছে এমনই কিছু বর্ণিল উৎসব সম্পর্কে তথ্য-

নাকি সুমো, জাপান

এই উৎসবে যার কোলের শিশুটি পরে কাঁদবে সেই হবে বিজয়ী

প্রতি বছর এপ্রিল মাসে জাপানের টোকিওতে ‘নাকি সুমো’ নামের অদ্ভুত এক খেলার উৎসব হয়। ‘সুমো’ শব্দটি দেখেই ভাববেন না এটি দৈত্যাকার সুমো পালোয়ানদের কোনো কুস্তি খেলা। কারণ, নাকি সুমোতে প্রত্যেক সুমো পালোয়ানের কোলে থাকে অনূর্ধ্ব দুই বছরের এক শিশু। 

খেলার ময়দানে উভয় সুমো তাদের কোলের শিশুকে আরামদায়কভাবে ধরে দোল দিতে থাকে আর রেফারি পালাক্রমে উভয় শিশুর দিকে চেয়ে ‘নাকি নাকি’ (কাঁদো কাঁদো) বলে চিৎকার করতে থাকেন। যার কোলের শিশুটি পরে কাঁদবে সেই হবে বিজয়ী!

ওয়ার্ম চার্মিং, ইংল্যান্ড

এই উৎসবে ব্যক্তিগতভাবে নয়, দলগতভাবে যোগ দিতে হয়

ইংরেজি ‘স্নেক চার্মার’ এর বাংলা প্রতিশব্দ যদি হয় সাপুড়ে, তাহলে ‘ওর্ম চার্মার’ এর প্রতিশব্দ কি ‘কেঁচুড়ে’ হওয়া সম্ভব? প্রতিশব্দটি সঠিক হোক আর না হোক, ইংল্যান্ডের ডেভনের ব্ল্যাকঅটন গ্রামে প্রতিবছর মে মাসে অনুষ্ঠিত হয় এক বিচিত্র উৎসব, যার নাম ‘ব্ল্যাকঅটনস ইন্টারন্যাশনাল ফেস্টিভ্যাল অব ওর্ম চার্মিং’।

এই উৎসবে ব্যক্তিগতভাবে নয়, দলগতভাবে যোগ দিতে হয়। প্রতিটি দলকে কোনো আবাদযোগ্য জমিতে এক বর্গ মিটার জমি এবং ১৫ মিনিট সময় দেয়া হয়। এই ১৫ মিনিটে তারা পৃথিবীর তাবৎ কৌশল প্রয়োগ করতে পারবেন, কেবল খুঁড়তে পারবেন না। ১৫ মিনিটে যে দল সবচেয়ে বেশি কেঁচো মাটির উপর নিয়ে আসতে পারবে, তারাই বিজয়ী।

ইউকোনকান্তো, ফিনল্যান্ড

এ উৎসবে প্রতিযোগীদের আড়াই শ মিটারে কিছু বেশি পথ অতিক্রম করতে হয়, যে পথে তাদের জন্য অপেক্ষা করে বিভিন্ন হেঁয়ালিপূর্ণ বাধা

ফিনল্যান্ডের সংকাজার্ভিতে প্রতি বছর অক্টোবর মাসে উদযাপিত হয় ‘ইউকোনকান্তো’ বা ‘ওয়াইফ ক্যারিং কম্পিটিশন’। নাম থেকে ধারণা করা যায় এই উৎসবের ধরন। ১৯৯২ সাল থেকেই ফিনল্যান্ডে এটি উৎসব হিসেবে উদযাপিত হয়ে আসছে।

প্রতিযোগীদের আড়াই শ মিটারে কিছু বেশি পথ অতিক্রম করতে হয়, যে পথে তাদের জন্য অপেক্ষা করে বিভিন্ন হেঁয়ালিপূর্ণ বাধা। এসব বাধা পেরিয়ে যিনি সবার আগে গন্তব্যে পৌঁছুবেন, তিনিই বিজয়ী। ও হ্যাঁ, এই পথটুকু কিন্তু অবশ্যই নিজের স্ত্রীকে কাঁধে নিয়ে পাড়ি দিতে হবে! সবার আগে স্ত্রীকে বয়ে নিতে পারলে বিজয়ী প্রতিযোগী পুরস্কার হিসেবে তার স্ত্রীর সমান ওজনের বিয়ার পান!

লা টমাটিনা, স্পেন

এ উৎসবে কোনো জয়-পরাজয় নেই, কেবল আনন্দ করাই এর মুখ্য উদ্দেশ্য

২০১১ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত বলিউডের সিনেমা ‘জিন্দেগি না মিলেগি দোবারা’র কল্যাণে ‘লা টমাটিনা’ বা টমেটো উৎসবের সঙ্গে আমরা অনেকেই পরিচিত। প্রতিবছর আগস্ট মাসের শেষ বুধবার স্পেনের বুনোল শহরে মহাসমারোহে উদযাপিত হয় এই উৎসব। উৎসবের স্থায়িত্বকাল হয় মাত্র ঘণ্টা দুয়েক। তবে এই ছোট্ট সময়ের জন্য সাগ্রহে অপেক্ষারত থাকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের হাজারো মানুষ।

এখানে কোনো জয়-পরাজয় নেই, কেবল আনন্দ করাই এর মুখ্য উদ্দেশ্য। এজন্য এর নিয়মও বেশ সহজ। নির্ধারিত স্থানে ট্রাকের পর ট্রাক ভর্তি পাকা টসটসে টমেটো আসবে। আপনার কাজ কেবল সেগুলো হাতে নিয়ে চাপ দিয়ে ফাটিয়ে আপনার বন্ধু কিংবা সঙ্গীদের গায়ে ছুঁড়ে মারা।

উৎসব শুরুর কয়েক মিনিটের মাঝেই অংশগ্রহণকারীরা আপাদমস্তক লাল হয়ে যান আর বুনুলের রাস্তায় হয় টমেটো সসের বন্যা! উৎসবটি এতটাই জনপ্রিয়তা পেয়েছে যে এখানে যোগ দিতে হলে অন্তত ৩/৪ মাস আগেই আবেদন করতে হয়। কারণ, বুনোল শহরটি ছোট হওয়ায় অধিক মানুষের জায়গা সংকুলান সম্ভব হয় না। কর্তৃপক্ষ তাই আবেদনপত্রের ভিত্তিতে দেশি এবং বিদেশি পর্যটকদের উৎসবে অংশগ্রহণ করার সুযোগ দিয়ে থাকে।

চেং চাউ বান ফেস্টিভ্যাল, হংকং

এ উৎসবের পূর্বে শতাধিক বাঁশকে বান দিয়ে ঢেকে দিয়ে ৬০ ফুট উচ্চতার টাওয়ার সদৃশ করে তোলা হয়

তৈলাক্ত লম্বা বাঁশে চড়ার ব্যর্থতার গল্প আমরা ছোটবেলা থেকেই শুনে আসছি। তবে, বান (একপ্রকার ছোট গোলাকার পাউরুটি) দিয়ে ঢাকা বাঁশে আরোহণ করাও কিন্তু কোনো অংশেই সহজ কাজ নয়। আর সহজ নয় বলেই তো এটি একটি উৎসব, যেখানে বারবার ব্যর্থ হয়েও সর্বোচ্চ চূড়ায় পৌঁছতে পারলে প্রতিযোগী পেয়ে যাবেন ভাগ্যের সন্ধান!

হ্যাঁ, অষ্টাদশ শতক থেকে হংকংয়ে উদযাপিত হওয়া এই ঐতিহ্যবাহী উৎসবে অংশগ্রহণকারীদের বিশ্বাস, যত উপর থেকে তারা একটি বান সংগ্রহ করতে পারবেন, তাদের সৌভাগ্য তত প্রসারিত হবে। উৎসবের পূর্বে শতাধিক বাঁশকে বান দিয়ে ঢেকে দিয়ে ৬০ ফুট উচ্চতার টাওয়ার সদৃশ করে তোলা হয়।

পরে, প্রতিবার তিনটি করে বানের টাওয়ার উৎসব কেন্দ্রে রাখা হয় এবং নির্দিষ্ট সংখ্যক প্রতিযোগী তাতে অংশগ্রহণ করে সেগুলো বেয়ে উপরে ওঠার চেষ্টা করেন। আর তখন ঝরে পড়তে থাকে বানগুলো। একসময় বাঁশগুলো সম্পূর্ণ উন্মুক্ত হয়ে গেলে নতুন করে তিনটি টাওয়ার এনে রাখা হয়। এভাবেই চলতে থাকে চেং চাউ বান ফেস্টিভ্যাল।

দিনবদলবিডি/জিএ

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়