শনিবার

২৪ অক্টোবর ২০২০


৯ কার্তিক ১৪২৭,

০৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

দিন বদল বাংলাদেশ

শীতের পূর্বাভাস নিয়ে দুয়ারে ঋতুরানি হেমন্ত 

ফিচার ডেস্ক || দিনবদল.কম

প্রকাশিত: ১৮:১০, ১৭ অক্টোবর ২০২০   আপডেট: ১৮:১৬, ১৭ অক্টোবর ২০২০
শীতের পূর্বাভাস নিয়ে দুয়ারে ঋতুরানি হেমন্ত 

ছবি: সংগৃহীত

কুয়াশার হালকা চাদর ভেদ করে সূর্য জেগে উঠে এই সময়টায়। ধানের শীষে জমে থাকা শিশিরে হীরের বিচ্ছুরণ নিয়ে ফুটে থাকে বিস্তীর্ণ খোলা সবুজ মাঠ জানান দেয় শীত সমাগত। আর জানান দেয়, 'আমি, হেমন্ত, দুয়ারে দাঁড়ায়ে!' 

হেমন্তকে বলা হয় শীতের পূর্বাভাস। কার্তিক-অগ্রহায়ণ এই দুই মিলে বাংলার ৪র্থ এই ঋতু।  কৃত্তিকা ও আর্দ্রা এ দুটি তারার নাম অনুসারে নাম রাখা হয়েছে কার্তিক ও অগ্রহায়ণ মাসের। 

ঋতুবৈচিত্র্যের বাংলাদেশে হেমন্তের আবেদন একটু অন্যরকম। কৃষকের হাসি আর হেমন্ত সমার্থ এখানে। কৃষকের গোলা ভরে সোনার ফসলে। নবান্ন উৎসব রাঙায় কৃষকের মন। রসনায় মনযোগী হয় বউ-ঝিরা।

 কৃষির সাথে সম্পর্ক রেখে সম্রাট আকবর অগ্রহায়ণ মাসকেই বছরের প্রথম মাস বা খাজনা তোলার মাস ঘোষণা দিয়েছিলেন। 

এখন অবশ্য এসবের নাগরিক রূপ দেখা যায় হেমন্ত উৎসবের। পিঠা উৎসব বা এমন কিছু স্থান নেয় নাগরিক জীবনেও। 

না-শীত না-গরম, এমন স্বাছন্দের আবহাওয়া হেমন্তকে যেন দেয় অন্য মর্যাদা। 

রূপের বিভাও খুলে প্রকৃতি। ছাতিমের উগ্র গন্ধে মাতোয়ালা চারপাশ। ফোটে  গন্ধরাজ, মল্লিকা, শিউলি, কামিনী, হিমঝুরি, দেব কাঞ্চন, রাজ অশোক, বকফুলসহ আরও অনেক ফুল। 

এই রুপে মুগ্ধ হয়েই রূপসী বাংলার কবি জীবনানন্দ দাশ লিখেছিলেন-

"আবার আসিব ফিরে ধানসিঁড়িটি তীরে— এই বাংলায়
হয়তো মানুষ নয়— হয়তো বা শঙ্খচিল শালিখের বেশে,
হয়তো ভোরের কাক হ'য়ে এই কার্তিকের নবান্নের দেশে
কুয়াশার বুকে ভেসে একদিন আসিব কাঁঠাল ছায়ায়..." 

জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে আমাদের থেকে হারিয়ে যাচ্ছে 'নরম ভাবাপন্ন' ঋতুগুলো। এর স্থানে আসছে 'চরম ভাবাপন্ন' ঋতুর প্রকট উপস্থিতি। গরম-শীতের বাইরে খুব সংবেদি চোখে না তাকালে  ঋতুর বৈচিত্র্য অনুভবেই করা যায় না প্রায়। প্রকৃতির প্রতি অত্যাচার বন্ধ না করলে হয়তো আগামী দিনগুলোতে ক্যালেন্ডারের পাতার বাইরে হেমন্তের অস্তিত্বই আর থাকবে না। 

দিনবদল বিডি/এইচ

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়