বৃহস্পতিবার

০৩ ডিসেম্বর ২০২০


১৯ অগ্রাহায়ণ ১৪২৭,

১৭ রবিউস সানি ১৪৪২

দিন বদল বাংলাদেশ

করোনার প্রথম ভ্যাকসিন আবিষ্কারক মুসলিম দম্পতি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক || দিনবদলবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৭:৫৬, ২১ নভেম্বর ২০২০   আপডেট: ১৭:৫৮, ২১ নভেম্বর ২০২০
করোনার প্রথম ভ্যাকসিন আবিষ্কারক মুসলিম দম্পতি

করোনার ভ্যাকসিন আবিষ্কার করা মুসলিম দম্পতি

করোনা মহামারিতে বিপর্যস্ত পৃথিবী যখন তাকিয়ে ছিলো একমাত্র সোনার হরিণ ভ্যাকসিনের দিকে, তখন সবাইকে সুখবর দেয় তুরস্ক বংশোদ্ভূত জার্মান দম্পতি উগার শাহিন ও ওজলেম তুরেসি। বিশ্বের প্রথম ভ্যাকসিনের ঘোষণা দেয় ওষুধ কোম্পানি ফাইজার ও জার্মানভিত্তিক বায়োএনটেক। এই ভ্যাকসিন আবিষ্কারের প্রধান ভূমিকা রাখেন এই দম্পতি! 

 এই দুই বিজ্ঞানী দম্পতী মূলত ক্যানসার সেল নিয়ে গবেষণার জন্য বায়োএনটেক প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।

 তুরস্কের ইস্কেন্দেরুন শহরে জন্মগ্রহণ করেন ৫৫ বছর বয়স্ক ড. উগার শাহিন। মাত্র চার বছর বয়সে অভিবাসী হিসেবে পরিবারের সঙ্গে জার্মানিতে আসেন। বাবা ফোর্ড গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানে চাকরি করে সংসার চালাতেন। ছোট থেকেই উগার শাহিন চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন। অবশেষে স্বপ্ন পূরণ শেষেই দ্রুতই যোগ দিতে হয় কাজে। কিন্তু এতে থেমে থাকেননি তিনি। কর্মস্থল থেকেই ১৯৯৩ সালে প্রথম পিএইচডি করেন।

সেখানেই পরিচয় হয় ড. ওজলেম তুরেসির সঙ্গে। তারপর বিয়ে। দুজন মিলে গড়ে তোলেন বায়োএনটেক নামের একটি গবেষণা কেন্দ্র। মূলত ক্যানসার নিয়ে গবেষণার লক্ষ্যেই প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তুললেও তারা যে এমন মহামারিতে স্তব্ধ হয়ে যাওয়া পৃথিবীতে আবার প্রাণ ফিরিয়ে দেবার কাজে জড়িত হবেন তা কখনই ভাবেননি। করোনার ভ্যাকসিন তৈরির কোনো পরিকল্পনা সে সময় ছিল না। সে সময়তো এই রোগের কারণ নতুন করোনাভাইরাসটির সংক্রমণই দেখা দেয়নি। এর অস্তিত্ব সম্পর্কেই কেউ ওয়াকিবহাল ছিল না।

প্রতিষ্ঠানটির প্রধান চিকিৎসা কর্মকর্তা বর্তমানে ৫৩ বছর বয়সী বায়োএনটেকের সহপ্রতিষ্ঠাতা ওজলেম তুরেসি ।তার জন্ম জার্মানিতেই। জন্মের আগেই তার পরিবার জার্মানিতে পাড়ি জমায়। বাবা ছিলেন চিকিৎসক। বাবার পদাঙ্ক অনুসরণ করে তিনিও চিকিৎসক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। উগার শাহিনের সঙ্গে একই প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন। । ইমিউনলজিস্ট হিসেবে তার খ্যাতি রয়েছে।

মাত্র দুই বছর আগে জার্মানির একটি সেমিনারে মানবদেহের কোষে অবস্থিত আরএনএ সেল সম্পর্কে গবেষণামূলক তথ্য উপস্থাপন করেছিলেন উগার শাহিন। সেখানেই পরিচয় হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানি ফাইজারের সিইও আলবার্ট বোরলার সঙ্গে। করোনাভাইরাস মহামারি ছড়িয়ে পরলে বোরলা বায়োএনটেকের সিইও ড. শাহিনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং সেই আলাপের সূত্র ধরেই শুরু হয় কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন আবিষ্কারের গবেষণা।  তাদের প্রতিষ্ঠিত কোম্পানিতে বর্তমানে ১ হাজার ৪০০ গবেষক কর্মরত। 

এদিকে তাদের আবিষ্কৃত করোনা ভ্যাকসিন সম্পর্কে  ড. শাহিন সাংবাদিকদের বলেন, ‘মানবতার জন্য এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় সুখবর হচ্ছে কোভিড-১৯ সংক্রমণ রোধে আমরা একটি ভ্যাকসিনের খোঁজ পেয়েছি।’ মানবতার সেবায় আত্মনিয়োগ করা এই দুই বিজ্ঞানী বিয়ের দিনটিও তাঁরা ক্যানসার গবেষণাতেই কাটিয়েছিলেন।


 

দিনবদল বিডি/এইচ

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়