বৃহস্পতিবার

২২ এপ্রিল ২০২১


৯ বৈশাখ ১৪২৮,

০৯ রমজান ১৪৪২

দিন বদল বাংলাদেশ

কোয়ারেন্টিন, হোম কোয়ারেন্টিন ও আইসোলেশন : কোনটা কখন প্রয়োজন

লাইফস্টাইল ডেস্ক || দিনবদলবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৪:৩৬, ৬ এপ্রিল ২০২১   আপডেট: ১৪:৩৮, ৬ এপ্রিল ২০২১
কোয়ারেন্টিন, হোম কোয়ারেন্টিন ও আইসোলেশন : কোনটা কখন প্রয়োজন

‘কোয়ারেন্টিন, হোম কোয়ারেন্টিন ও আইসোলেশনের মধ্যে বেশ কিছু পার্থক্য রয়েছে। পার্থক্য আছে নিয়ম মানার ক্ষেত্রেও।’

বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) সঙ্গে বর্তমানে সবচেয়ে পরিচিত তিনটি শব্দ হলো- আইসোলেশন, হোম কোয়ারেন্টাইন ও কোয়ারেন্টাইন। কিন্তু এ তিনটির মধ্যে পার্থক্য কোথায়? রোগীর ক্ষেত্রে এই তিন অবস্থায় বিধিনিষেধ কি বদল হয়? কী বলছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা?

‘কোয়ারেন্টিন, হোম কোয়ারেন্টিন ও আইসোলেশনের মধ্যে বেশ কিছু পার্থক্য রয়েছে। পার্থক্য আছে নিয়ম মানার ক্ষেত্রেও।’

চলুন তাহলে জেনে নিই- কোয়ারেন্টিন, হোম কোয়ারেন্টিন ও আইসোলেশন সম্পর্কে এবং কোনটা কখন প্রয়োজন-

কোয়ারেন্টাইন

করোনার জীবাণু শরীরে প্রবেশ করার পরেই এ রোগের উপসর্গ দেখা দেয় না। অন্তত সপ্তাহখানেক সে ঘাপটি মেরে বসে থাকতে জানে। তাই কোনো ব্যক্তি করোনা আক্রান্ত এলাকা থেকে ঘুরে এলে বা রোগীর সংস্পর্শে এলে তার শরীরেও করোনাভাইরাস বাসা বাঁধতে পারে।

বাসা আদৌ বেঁধেছে কি না বা সে আক্রান্ত কি না এটা বুঝে নিতেই কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয় রোগীকে। অন্য রোগীদের কথা ভেবেই কোয়ারেন্টাইন কখনো হাসপাতালে আয়োজন করা হয় না। করোনা হতে পারে এমন ব্যক্তিকে সরকারি কোয়ারেন্টাইন পয়েন্টে রাখাই ভালো।

কমপক্ষে ১৪ দিনের সময়সীমা এখানেও। এই সময় রোগের আশঙ্কা থাকে শুধু, তাই কোনো রকম ওষুধপত্র দেওয়া হয় না। শুধু স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে বলা হয়। বাইরে বের হওয়া বন্ধ করতে পরামর্শ দেওয়া হয়। যেহেতু রোগের জীবাণু ভেতরে থাকতেও পারে, তাই মাস্ক ব্যবহার করতেও বলা হয়। বাড়ির লোকেদেরও এই সময় রোগীর সঙ্গে কম যোগাযোগ রাখতে বলা হয়।

হোম কোয়ারেন্টাইন

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ‘হোম আইসোলেশন বলে কিছু হয় না। আইসোলেশন বাড়িতে রেখে সম্ভবও নয়। বরং হোম কোয়ারেন্টাইন বলাটা অনেক যুক্তিযুক্ত। কোনো ব্যক্তি যখন নিজের বাড়িতেই কোয়রান্টাইনের সব নিয়ম মেনে, বাইরের লোকজনের সঙ্গে ওঠাবসা বন্ধ করে আলাদা থাকেন, তখন তাকে হোম কোয়ারেন্টাইন বলে।

সম্প্রতি আক্রান্ত রোগীর সংস্পর্শে এলে রোগীকে হোম কোয়রান্টাইনে রাখা হয়। এক্ষেত্রেও ন্যূনতম ১৪ দিন ধরে আলাদা থাকার কথা। কোনো ব্যক্তি করোনা আক্রান্ত এলাকা থেকে ঘুরে এলে, বা রোগীর সংস্পর্শে এলে তার শরীরেও বাসা বাঁধতে পারে কোভিড-১৯।

বাসা আদৌ বেঁধেছে কি না বা সে আক্রান্ত কি না এটা বুঝে নিতেই এই ব্যবস্থা নিতে হয়। এক্ষেত্রেও স্বাস্থ্যবিধির বাইরে কোনো আলাদা ওষুধ দেওয়ার প্রশ্নই নেই। পানি, ভালো করে খাওয়া-দাওয়া, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর নানা পথ্য, এসব দিয়েই পর্যবেক্ষণে রাখা হয়।

আইসোলেশন

কারো শরীরে করোনার লক্ষণ প্রকাশ পেলে এবং টেস্টের রিপোর্ট পজিটিভ হলে, মোট কথা করোনা হয়েছে ধরা পড়লে ও হাসপাতালে থেকে চিকিৎসার প্রয়োজন আছে মনে হলে তাকে আইসোলেশনে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়।

আইসোলেশনের সময় চিকিৎসক ও নার্সদের তত্ত্বাবধানে হাসপাতালে থাকতে হবে রোগীকে। অন্য রোগীদের কথা ভেবে হাসপাতালে আলাদা ওয়ার্ড বা কেবিনের ব্যবস্থা করা হয় তাদের জন্য। অন্তত ১৪ দিনের মেয়াদে আইসোলেশন চলে। অসুখের গতিপ্রকৃতি দেখে তা বাড়ানোও হয়।

আইসোলেশনে থাকা রোগীর সঙ্গে বাইরের কারো যোগাযোগ করতে দেওয়া হয় না। তাদের পরিবার-পরিজনের সঙ্গেও এই সময় দেখা করতে দেওয়া হয় না। একান্ত দেখা করতে দেওয়া হলেও অনেক বিধিনিষেধ মেনে।

আক্রান্ত ব্যক্তিকে এই সময় কিছু অ্যান্টি-ভাইরাল ওষুধ দিয়ে, শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো যায় এমন কিছু ওষুধ ও পথ্য দিয়ে সুস্থ করে তোলার চেষ্টা করা হয়। যাদের শরীরে এই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি ও করোনার প্রকোপ অল্প, তারা এই পদ্ধতিতে সুস্থও হন।

তবে যাদের রোগে প্রতিরোধ ক্ষমতা কম বা রোগটি জটিল আকার ধারণ করে তাদের পক্ষে সেরে ওঠাটা কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। তাদের জন্য অক্সিজেন বা কখনো কখনো আইসিইউ লাগতে পারে।

-ডা. এম ইয়াছিন আলী
চীফ- কনসালটেন্ড, ঢাকা সিটি ফিজিওথেরাপি হাসপাতাল
ধানমন্ডি, ঢাকা

দিনবদলবিডি/জিএ

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়