শুক্রবার

০৬ আগস্ট ২০২১


২২ শ্রাবণ ১৪২৮,

২৫ জ্বিলহজ্জ ১৪৪২

দিন বদল বাংলাদেশ

করোনা-ডেঙ্গু জ্বরের লক্ষণ এক হলেও রয়েছে যেসব পার্থক্য

লাইফস্টাইল ডেস্ক || দিনবদলবিডি.কম

প্রকাশিত: ১২:৩৩, ১৯ জুলাই ২০২১  
করোনা-ডেঙ্গু জ্বরের লক্ষণ এক হলেও রয়েছে যেসব পার্থক্য

করোনা-ডেঙ্গু

দেশে মহামারি করোনাভাইরাসে (কোভিড-১৯) সংক্রমণ এবং মৃত্যু যখন গুরুতর আকার ধারণ করেছে ঠিক তখনই ডেঙ্গু জ্বরের প্রাদুর্ভাব দেখা দিচ্ছে। এই প্রবণতা এখনো পর্যন্ত ঢাকা শহরের মধ্যেই বেশি দেখা যাচ্ছে।

চিকিৎসকরা বলছেন, একজন ব্যক্তি একই সঙ্গে কোভিড-১৯ এবং ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হতে পারেন। মশা নিধনের কার্যক্রম জোরদার করতে না পারলে পরিস্থিতি গুরুতর আকার ধারণ করতে পারে বলে আশংকা করছেন চিকিৎসকরা। দেশে জুন থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত ডেঙ্গুজ্বরের প্রাদুর্ভাব বেশি দেখা যায়।

লক্ষণ এক হলেও পার্থক্য আছে

চিকিৎসকরা বলছেন, কিছু লক্ষণ এবং উপসর্গ আছে যেগুলা শুরুর দিকে ডেঙ্গু জ্বর এবং কোভিড-১৯-এর ক্ষেত্রে একই রকম। সেক্ষেত্রে অনেক রোগীকে ডেঙ্গু জ্বর এবং কোভিড-১৯ – দুটোরই পরীক্ষা একসঙ্গে করা হচ্ছে।

ঢাকার বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক শর্মিলা হুদা বলেন, ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত বেশিরভাগ রোগীর জ্বর, গায়ে ব্যথা, মাথা ব্যথা এবং চোখের পেছনে ব্যথা থাকে।

তিনি বলেন, সাধারণত এ ধরনের লক্ষণ থাকলে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয় না, কারণ হাসপাতালগুলো এখন কোভিড-১৯ রোগীতে পরিপূর্ণ।

তবে পরিস্থিতি যদি জটিলতার ইঙ্গিত দেয় তাহলে হাসপাতালে ভর্তি হতেই হবে। সেক্ষেত্রে অন্য কোনো বিকল্প নেই।

একই রোগী কি কোভিড এবং ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হতে পারেন?

বাংলাদেশের একজন মেডিসিন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক এ বি এম আবদুল্লাহ বলছিলেন, ডেঙ্গু জ্বর এবং কোভিড-১৯- দুটোই ভাইরাসজনিত রোগ হলে দুটোর মধ্যে কিছু পার্থক্য আছে। একই রোগী কোভিড এবং ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হতে পারে বলে উল্লেখ করেন অধ্যাপক আবদুল্লাহ।

‘দুইটার ক্ষেত্রেই জ্বর, গলা ব্যথা, সর্দি, কাশি এবং স্বাদ না থাকা হতে পারে। করোনার ক্ষেত্রে এসব লক্ষণের সঙ্গে নাকে ঘ্রাণ পায় না এবং কারো কারো পাতলা পায়খানা হয়,’ বলেন অধ্যাপক আবদুল্লাহ।

এছাড়া করোনাভাইরাসের ক্ষেত্রে শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা হতে পারে, যেটি ডেঙ্গু জ্বরের ক্ষেত্রে হয় না বলে উল্লেখ করেন অধ্যাপক আবদুল্লাহ।

চিকিৎসকরা বলছেন, ডেঙ্গু জ্বরের ক্ষেত্রে চার-পাঁচ দিন পরে শরীরে লাল অ্যালার্জির মতো র‍্যাশ হতে পারে। তখন রক্তে প্ল্যাটিলেটের মাত্রা কমে যেতে পারে। ডেঙ্গু জ্বরের ক্ষেত্রে ‘শক সিন্ড্রোম’ হতে পারে যেটি রোগীর মৃত্যুর কারণ হয়।

‘কিছু লক্ষণ আছে যেগুলো থাকলে রোগীকে অবশ্যই হাসপাতালে ভর্তি হতে হবে। সেগুলোর মধ্যে যদি দেখা যায় যে রোগীর নাক দিয়ে রক্ত পড়ছে। অথবা তার কালো পায়খানা হচ্ছে।’

শর্মিলা হুদা বলছেন, গুরুতর ডেঙ্গু জ্বরের ক্ষেত্রে নারীদের মাসিকের সময় অতিরিক্ত রক্তচাপ কিংবা হঠাৎ করে মাসিক হতে পারে।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে?

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জমে থাকার বৃষ্টির পানিতে এডিস মশার বংশ বিস্তার হয়, যেটি ডেঙ্গু জ্বরের জন্য দায়ী। ডেঙ্গু জ্বর প্রতিরোধ করার জন্য একমাত্র উপায় হচ্ছে এডিস মশার বংশ বিস্তার রোধ করা।

এটি করতে না পারলে চিকিৎসা দিয়ে কুলানো সম্ভব হবে না বলে সতর্ক করে দিচ্ছেন চিকিৎসকরা। তবে ঢাকা শহরের অনেক বাসিন্দার অভিযোগ হচ্ছে, মশা নিধন করার কোনো কার্যক্রম চোখে পড়ে না। মশা নিধন করার দায়িত্ব হচ্ছে সিটি কর্পোশনগুলোর।

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জোবায়দুর রহমান বিবিসি বাংলাকে বলেন, এডিস মশার লার্ভা ধ্বংস করার জন্য গত বছর যেসব বাড়ি ও স্থাপনায় অভিযান চালিয়ে জরিমানা করা হয়েছিল তাদের একটি তথ্যভাণ্ডার রয়েছে। সেসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে চলতি বছর এপ্রিল মাসে মোবাইল ফোনে বার্তা পাঠিয়ে সতর্ক করে বলা হয়েছে, চলতি বছরও যদি তাদের স্থাপনায় এডিস মশার লার্ভা পাওয়া যায়, তাহলে গতবারের চেয়ে বেশি জরিমানা করা হবে।

এ ধরনের ১ হাজার ৭০০ বার্তা পাঠানো হয়েছে বলে জানান ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা।

তিনি দাবি করেন, তাদের আওতাধীন এলাকায় সপ্তাহে দুই দিন মশার ওষুধ ছিটানো হয় এবং একই সঙ্গে বিভিন্ন এলাকার মানুষের জন্য নানা ধরনের সচেতনতামূলক কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে।

সূত্র : বিবিসি

দিনবদলবিডি/জিএ

পাঠকপ্রিয়