বুধবার

২১ অক্টোবর ২০২০


৬ কার্তিক ১৪২৭,

০৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

দিন বদল বাংলাদেশ

হৃদযন্ত্র সুস্থ রাখতে পরামর্শ

লাইস্টাইল ডেস্ক || দিনবদল.কম

প্রকাশিত: ২০:৫৮, ১ অক্টোবর ২০২০   আপডেট: ২১:০০, ১ অক্টোবর ২০২০
হৃদযন্ত্র সুস্থ রাখতে পরামর্শ

ছবি- সংগৃহীত

বর্তমান সময়ে অকাল মৃত্যুর অন্যতম কারণ হৃদ‌রোগ। ইদানীং ৩০-৪০ বছর বয়সেও অনেকের হৃদরোগে আক্রান্ত হতে দেখা যাচ্ছে। এ সমস্যা প্রতিরোধে আমাদের জীবনাচরণ হতে হবে হৃদ‌বান্ধব। সাত পরামর্শ ঠিকভাবে মেনে চললে সহজেই হৃদ্‌রোগ প্রতিরোধ সম্ভব।

খাদ্যাভ্যাস: হৃদ্‌বান্ধব স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। চর্বিযুক্ত খাবার যেমন রেড মিট (গরু-খাসির মাংস), কলিজা, মগজ, বড় চিংড়ির মাথা, ঘি-মাখন, ডালডা এবং এগুলো দিয়ে তৈরি খাবার এড়িয়ে চলতে হবে। ট্রান্স-ফ্যাট হলো ক্ষতিকর চর্বি। উচ্চ তাপে ভোজ্যতেল থেকে ক্ষতিকর ট্রান্স-ফ্যাট তৈরি হয়। এ কারণে বেকারির খাবার ও ফাস্ট ফুডে এই ক্ষতিকর উপাদানের হার তুলনামূলক বেশি থাকে। বাড়িতেও একই তেল বারবার ব্যবহার করলে তা ট্রান্স-ফ্যাটে পরিণত হয়।

ওমেগা-৩ ফ্যাটসমৃদ্ধ উপকারী চর্বিজাতীয় খাবার হৃদ্‌বান্ধব। এসব খাবার হলো মাছ ও মাছের তেল, বাদাম ও বীজজাতীয় খাবার, বাদাম তেল, অলিভ অয়েল। আঁশযুক্ত খাবারও প্রচুর পরিমাণে খেতে হবে। যব, ভুট্টা, লাল আটার রুটি, টাটকা শাকসবজি, ফলমূল ও সালাদ হলো আঁশযুক্ত খাবার।

অন্যের তৈরি করা কোনো ডায়েট চার্ট নয়, বরং নিজের জন্য জুতসই একটি খাদ্যতালিকা বানিয়ে নিন।

লবণ সীমিত: সারা দিনে একজন মানুষের ৬ গ্রাম, অর্থাৎ প্রায় ১ চা–চামচের বেশি লবণ খাওয়া উচিত নয়। তাই বাড়তি লবণ বাদ দিন। অতিরিক্ত লবণযুক্ত খাবার যেমন প্রক্রিয়াজাত মাংস, আচার, পনির, সস, সয়া সস, লবণ মাখানো চানাচুর বা বাদাম ইত্যাদিও কম খেতে হবে।

 ধূমপান ও মদপানকে না: ধূমপান এবং যেকোনো তামাক যেমন জর্দা, গুল ইত্যাদি চিরতরে ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিন। পরোক্ষ ধূমপানও ক্ষতিকর। মদপানও ত্যাগ করতে হবে।

বাড়তি ওজন ঝেড়ে ফেলুন: উচ্চতা অনুযায়ী নিজের ওজন ঠিক রাখুন। ভুঁড়ি যেন না বাড়ে, সেদিকে খেয়াল রাখুন।

কর্মক্ষম থাকুন: কিছুটা সময় বের করে প্রতিদিন ব্যায়াম করুন। রোজ ৩০ মিনিটই যথেষ্ট। হাঁটা ছাড়াও সাইকেল চালানো, সাঁতার, খেলাধুলা করতে পারেন। এতে মন সতেজ হওয়ার পাশাপাশি শরীরও ঠিক থাকবে।

 নিজেকে জানুন: বয়স চল্লিশের কোঠা ছুঁলে নিয়মিত কিছু পরীক্ষা করা উচিত। এর মধ্যে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, রক্তের কোলেস্টেরলের মাত্রা নির্ণয় অন্যতম। উচ্চ রক্তচাপ হলো নীরব ঘাতক। কাজেই একে অবহেলা করবেন না। নিয়মিত ওষুধ সেবন করে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখুন।রক্তের শর্করা পরীক্ষা করুন প্রতিবছর। ডায়াবেটিস ধরা পড়লে তা নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা নিতে হবে। রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা পরীক্ষা করে দেখুন। ‘খারাপ’ কলেস্টেরল বা এলডিএলের মাত্রা বেশি থাকলে তা কমিয়ে ‘ভালো’ কোলেস্টেরল বা এইচডিএলের মাত্রা বাড়ানোর চেষ্টা করতে হবে। খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন, নিয়মিত ব্যায়াম ও প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শমতো ওষুধ সেবনে রক্তের চর্বি নিয়ন্ত্রণে থাকে।

চাই পর্যাপ্ত ঘুম: হৃদ্‌রোগ এড়াতে একজন সুস্থ মানুষের চাই দৈনিক সাত-আট ঘণ্টার নির্বিঘ্ন ঘুম। তাই রাত জাগার অভ্যাস ছাড়ুন। রাতের খাওয়া নয়টার মধ্যে সেরে ফেলার চেষ্টা করুন।

প্রশান্তিতে থাকুন: অতিরিক্ত মানসিক চাপ ও দুশ্চিন্তা হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। মানসিক চাপ কমাতে শখের কাজগুলো করতে পারেন। মাঝেমধ্যে কাজে বিরতি নিন। কোথাও বেড়াতে গেলে মন প্রফুল্ল হয়। এ ছাড়া মেডিটেশন বা যোগব্যায়াম, বই পড়া, গান শোনা, সিনেমা দেখায়ও মন সতেজ হয়।

দিনবদল বিডি/এইচ 

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়