রোববার

১৩ জুন ২০২১


৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮,

০২ জ্বিলকদ ১৪৪২

দিন বদল বাংলাদেশ

ফেরারী

বোরহান মাহমুদ || দিনবদলবিডি.কম

প্রকাশিত: ২১:৫৮, ১৪ মে ২০২১   আপডেট: ২২:৪৮, ১৪ মে ২০২১
ফেরারী

প্রতীকী ছবি

বাবুল সিএনজি হতে নেমে ভাড়াটা দিয়ে পেছন ফিরতেই দেখে শিউলি দাঁড়িয়ে আছে। নীল জামায় শিউলি সম্ভবত পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর মেয়ে। আর এ মেয়েটাই তার ভালবাসার মানুষ– ভাবতেই ভেতরে অদ্ভুত সুখের চেনা অনুভূতিটা চলে এলো। এ সময়টায় বাবুলের মাথাটা ঝিমঝিম লাগে। মাথার দুপাশে ঠাণ্ডা ঠাণ্ডা লাগে। আহ! এত ভাল লাগে শিউলির সঙ্গে দেখা হলেই! আচ্ছা, এ মেয়েটা আমার সঙ্গে যখন সবসময় রইবে, তখন জীবনটাতো আশ্চর্য সুন্দর হয়ে যাবে!

শিউলি বাবুলের ফ্যালফ্যালে চেহারাটায় খুব মজা পায়। সে বলে উঠল, এভাবে দাঁড়িয়ে রইলে যে? চলে যাব আমি?
বাবুল ঘোর হতে বাস্তব পৃথিবীতে চলে এলো।
-হ্যাঁ, চলো। বলেই পাশের চায়নিজ রেস্টুরেন্টের দরজা বরাবর এগোল।
বাবুল এগোতেই শিউলি বলল, -এই যে মশায়, আপনার সাথে তো আমিও আছি। আমায় রেখেই এগোচ্ছেন যে!
-ও হ্যাঁ, স্যরি। আসো।

শিউলি ছুটে এসে পাশে দাঁড়ালো। বাবুল ঘাড় ফিরিয়ে ওর মুখখানা দেখল ফের। আহা, আমার মানুষ!
হাত বাড়িয়ে শিউলির হাত ধরে এগোল সে।

ওরা রেস্টুরেন্টের দরজা পেরিয়ে ভেতরে যেতেই রাস্তার ওপারে দাঁড়ানো মোটাসোটা মানুষটা নিজের মোবাইলটা হাতে তুলে নিয়ে রিং দিল। মাথায় ব্লুটুথ হেডসেট লাগানো। শুধু বলল- টার্গেট রেস্টুরেন্টের ভেতর এখন।
ওপাশ হতে জবাব এল, -জ্বী, স্যার। টিম রেডি, আসছি, মিনিট পনের’র মধ্যেই।
    

বাবুল রেস্টুরেন্টের ভেতরে মেইন ডাইনিং স্পেসে বসলো না। মুখে শুধু বলল, 
-আমার সাথে এসো। বলেই রেস্টুরেন্টের পূর্ব পাশের দরজাটা দিয়ে ভেতরে গিয়ে সিঁড়ি বেয়ে উপরে চলে এল।
শিউলির চোখে বিস্ময়।
-ও মা, এখানে  আবার প্রাইভেট রুমও আছে!
আমার সাথে এসেছ, তোমার ভাইয়েরা বা পরিচিতরা যদি দেখে ফেলে!

শিউলি চুপচাপ ভেতরের টেবিলটায় বসল। এখানে শুধু ছয় জনের বসার আয়োজনের চেয়ার টেবিল। ভালোই লাগল জায়গাটা।

চেয়ারে বসেই শিউলি বলল,
-গত সাতদিন ফোন ধরোনি তুমি!
বাবুল নির্লিপ্ত মুখেই বলল, ব্যস্ত ছিলাম। তাই ফোন ধরিনি।
শিউলি জানে, এখন হাজার অনুরোধেও বাবুল এ প্রশ্নের জবাব দেবে না। নিজে নিজে চুপচাপ দীর্ঘশ্বাস ফেলল সে। বাবুলের চোখ এড়ালো না ব্যাপারটা। পাশের চেয়ারে বসে শিউলির পিঠে ডান হাতটা রেখে বলল,
-আমার জীবনের পথটা ভিন্ন। হঠাৎ এ ধরণের প্রশ্নে আমার অস্বস্তি লাগে।
শিউলি চুপ হয়ে গেল বাবুলের উত্তরটা শুনে।

ওয়েটার আসতেই মেন্যু বইটা শিউলির হাতে ধরিয়ে দিল বাবুল।
-চয়েস তোমার। যা ইচ্ছা অর্ডার দাও।
শিউলি জানে বাবুলের পছন্দের খাবারগুলোর ব্যাপারে। সেভাবেই অর্ডার দিলো।

ওয়েটার অর্ডার নিয়ে গেল। দুজনেই চুপ হয়ে আছে। বোধহয় দুজনেই ভাবছে অন্যজন হয়ত এখনই বলবে। বাবুল মোবাইলটা টেবিলে রেখে নাড়ছিল। টুং শব্দ হতেই সে ডিভাইসটা হাতে নিয়ে দেখল। হঠাৎ "আমি ওয়াশরুম যাচ্ছি"
বলেই রুম হতে বেরিয়ে গেল দ্রুত।
শিউলি চুপচাপ বসে রইল।

তখনই রেস্টুরেন্টের দরজা ঠেলে মানুষগুলো ভেতরে এলো। মোট ছয়জন। তাদের মধ্যে রাস্তার ওপারে দাঁড়ানো মানুষটাও আছে। ভেতরে এসেই তারা বিচ্ছিন্ন হয়ে ডাইনিং এরিয়ায় ছড়িয়ে পড়ল। তিনটা টেবিলে খদ্দেররা খাচ্ছে। রাস্তার ওপারে দাঁড়ানো সেই মানুষটাই বেশি ব্যাস্ত মনে হচ্ছে। চারপাশ দেখতে দেখতে সে শিউলি যে রুমটায় বসে আছে, সেখানে চলে এল। শিউলি থতমত খেয়ে বলল, আপনি?
মানুষটা জবাব না দিয়ে শিউলির মুখোমুখি বসে ঈষৎ হাল ছেড়ে দেয়ার ভঙ্গীতে বলল
-বাবুল আবার ভেগে গেছে?


রেস্টুরেন্ট বিল্ডিংটার ছয়তলায় গোছানো অফিস রুমের ভেতর বসে আছে বাবুল। হাতের সিগারেটটাতে জোরে টান দিয়েই মোবাইলে রিং দিল।
ওপাশ হতে হ্যালো বলতেই ও বলল,
-খবরটা জানাইছে যে, অরে আইজ রাইতে আমার কাছে নিয়া আ আ আইবি। 

রাগে সে রীতিমতো তোতলাচ্ছে।

-জ্বী, বড়ভাই। নিয়া আইমু। বাবুল ফোনটা টেবিলে রেখে সিগারেটে জোরে টান দিয়ে টেবিলের পাশ হতে টিস্যু নিয়ে থুতনির ঘাম মুছল।

সামনে বসা মাঝবয়সী মানুষটা এবার নার্ভাস হয়ে গেলেন। তিনি বাবুলের মতিগতি খুব ভাল চেনেন এবং বুঝেন। বাবুলের চোখের চাহনি বদলে গেছে। বাবুল তোতলাচ্ছিল!  তিনি নিশ্চিত হয়ে গেলেন বাবুলের হাতে আজই বোধহয় খুন হবে মানুষটা।

সামনে বসা মাঝবয়েসী মানুষটা বাবুলের অঙ্গভঙ্গিগুলো গভীরভাবে দেখছে। বাবুলের বয়েসও তেমন না। এখন বোধহয় ২৫/২৬ চলছে। এ বয়সেই এই দূষিত জীবনে ওস্তাদ বনে গেছে। চার বছর আগেও ছেলেটা ভাল ছিল। নিজের মহল্লায় মারামারিতে জড়িয়ে খুনের দায়ে  এ জীবনে পা বাড়িয়েছে। মিথ্যা মামলায় প্রথমে বাড়ি হতে ভেগেছে। একপর্যায়ে রাজধানীর চিহ্নিত অপরাধী গ্রুপগুলোর মধ্যে অন্যতম গ্রুপটার লিডার রহমতের শেল্টারে চলে গেল। সেখানে গুরুর হাত ধরে দিনে দিনে এ লাইনে ঝানু হয়ে গেল। গত বছর রহমত মারা গেলে সে গ্রুপের হাল ধরে। রহমতের ব্যবসাগুলোর সাথে সে নিজে আরো নতুন নতুন ব্যবসা খুলেছে। তবে সবই বেনামে। রহমত যেদিন মগবাজারে গুলি খেলো, সেদিনই রমনা থানার দুইজন পুলিশ গুলি খেয়েছে। আহত অবস্থায় দুজনেই হাসপাতালে ওর নাম বলেছে। এরপর হতেই পুলিশের খাতায় বাবুল বিশেষ চিহ্নিত ফেরারী হিসেবে নিজের নাম উঠিয়েছে। পুলিশের খাতায় এ নামটা আগে ছিল না। রহমতের বিরোধী গ্রুপ হতে পুলিশ নামটির বিষয়ে নিশ্চিত হয়। আহত দুজন যে চেহারার বর্ণণা দিয়েছিল, সে বর্ণনাতেই রহমতের বিরোধী গ্রুপ হতে এ নামটা পেয়েছিল পুলিশ। তবে এখনো বাবুল বিশেষ সুবিধায় আছে। পুলিশ বা ল এনফোর্সিং এজেন্সিগুলো এখনো ওর চেহারা চেনে না।

বাবুল সিগারেটটা এশট্রেতে রেখে বলে উঠল,
-পুলিশ এখনো ঐ চায়নিজ রেস্টুরেন্টে?
মাঝবয়েসী মানুষটা উঠে গেলেন চেয়ার ছেড়ে পাশের রুমে। সেখানে আটটা মনিটর লাগানো আছে। মনিটরগুলো খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখলেন। মনিটরগুলোতে সময় পিছিয়ে দিয়ে টেনে টেনে দেখলেন দুবার। তারপর রুমে এসে বললেন,
-ওরা এখনো আছে।
-বিল্ডিং এর চারপাশের অবস্থা?
-চারপাশে পুলিশ আছে এখনো। ইউনিফর্ম ছাড়াও তের চৌদ্দজন আছে। আর ইউনিফর্মে তো  আছেই।
বাবুল চুপচাপ শুনলো। তার চেহারায় ভাবান্তর ঘটলো না। ফের সিগারেট ধরিয়ে চেয়ারে হেলান দিয়ে বেশ আয়েশি ভঙ্গীতে বসল। ভাবখানা এমন যে, চারপাশের পৃথিবীতে সব সাধারণভাবেই চলছে। ঠোঁটদুটো গোল করে সিগারেটের ধোঁয়ার রিং বানিয়ে বানিয়ে ছাড়ছে সে। সামনের মানুষটা এবার বলল, চা দেই? 
মাথাটা উপর নিচ দুলালো বাবুল। মানুষটা উঠে পাশের রুমে গিয়েই বলল, চা আনো। সেখানে দুজন বসে ছিল। শিমু আর মিজান। মিজান উঠে পাশের রুমে গিয়ে চা বানাতে ব্যস্ত হয়ে গেল। শিমু আর মিজান দুজনেই দেখেছে, বড়ভাই এসেছেন। তারা জানে, আজ অফিসে ব্যবসা বাণিজ্যের যা যা ছিল, সব বন্ধ। বড়ভাই যে রুমে বসেন, সেখানে ওরা দুজন সাধারণত যায় না। যদি বড়ভাই বলেন বা ডাকেন তবেই যায়। মিজান চা নিয়ে এসে ছোট ট্রেটা মাঝবয়েসী মানুষটার হাতে দিল। উনি চা নিয়ে রুমটাতে এসে দেখেন বাবুল ফোন নিয়ে গেম খেলছে। বাবুলের খুব পছন্দের গেম ওটা। ভাগ্যিস গেমটা লোড ছিল মোবাইলে। এ ফোনটা এখানেই রাখা হয়। তিনি নিয়মিত চার্জ দিয়ে রাখেন।

টেবিলে ট্রেটা রাখতেই বাবুল চায়ের জন্য হাত বাড়ালো। চায়ে মুখ লাগাতেই খুশীর দ্যুতি ছড়িয়ে পড়ল মুখে। বলল, মিজান বানিয়েছে?

মাঝবয়েসী মানুষটা মাথা নাড়ালেন।
বাবুলের ঠোঁটের পাশটায় অদ্ভুত হাসিটা দেখে সামনে বসা মানুষটা এবার আশ্বস্ত হলেন। বাবুল নরমাল মুডে চলে এসেছে।

-মিজানরে পাঁচ হাজার দিয়ে দেন। চা-টা খুব ভাল বানিয়েছে। এ ছেলেটা না ইঞ্জিনিয়ার?
-জ্বী।
-এত দারুণ চা বানায়!
-আপনি নিজ হাতে দিয়ে দেন।
-মিজান, মিজান এখানে আসো। মানুষটা মিজানের নাম বলতে না বলতেই মিজান রুমে এলো। এর মধ্যেই মানুষটা খামের মধ্যে পাঁচটা বড় নোট ভরে দিয়েছে। খামটা টেবিলে রাখতে রাখতেই  মিজান এসে পড়লো। বাবুল বলল,
-চা খুব ভাল হয়েছে।
-জ্বী, বড়ভাই। সব আপনার দোয়া।
খামটা এগিয়ে দিতেই মিজান সেটা তুলে নিলো। খামটা হাতে নিয়ে মিজান দাঁড়িয়ে রইল। বাবুল এবার বলল, তোমার আব্বা ভাল আছে? উনার শরীর এখন ভালো তো?
-জ্বী, বড়ভাই। আপনি খরচ না দিলে আব্বার অপারেশনটাও হতো না। আব্বা বাঁচতোও না।
বাবুল আচ্ছা বলে হাত নাড়ালো। এর মানে হলো, এবার যাও।

মিজান বেরিয়ে গেল রুম হতে।
বাবুল চেয়ারে গা এলিয়ে দিয়ে বসে গালভর্তি ধোঁয়া নিয়ে রিং ছাড়ল তিনটা। তারপর বলল,
-সোলায়মান সাহেব, আপনার ব্যবসার অবস্থা বলেন। সব যেভাবে চাচ্ছিলেন, সেভাবে চলছে তো?

৪ 
সোলায়মান বড় ব্যবসায়ী। তার ব্যবসার ধরনের জন্যে মাঝে মাঝেই বড় ঝামেলায় পড়তেন। মূলত জমির ব্যবসা। বাংলাদেশে রিয়েল এস্টেটের ব্যবসায় মাঝে মাঝেই বিরাট ঝুট ঝামেলা বেঁধে যায়। সাভারে তার যে ভাল পরিমাণ জমিজিরাত ছিল সেগুলোর সাথে আশেপাশের আরো জমি নিয়েই ছিল তার রিয়েল এস্টেটের ব্যবসার মূল প্ল্যান। আশেপাশের মানুষজন তার মনমতো সাপোর্ট দিচ্ছিল না। সাপোর্ট বলতে তাদের জমিগুলো নিতে চেয়েছিলেন। তারা যখন দিতে রাজি হচ্ছিল না, সে সময়টায় তার সাথে রহমতের দেখা হয়েছিল। তখন রহমত বলেছিল, আপনেরে আমি বাবুলরে দিয়া দিলাম। এর বিনিময়ে বাবুলরে দিয়া-থুইয়া চইলেন। অরে না দিয়া যাইয়েন না।
তখনই বাবুলের সাথে তার পরিচয় ঘটে। পরের চার মাসের মধ্যে সোলায়মান সাহেবের জমিজিরাত নিয়ে যে স্বপ্ন ছিল, বাবুল মাঠে নামতেই সেটার বিরাট অংশ রেডি হয়ে গিয়েছিল। বিনিময়ে বাবুল সোলায়মান সাহেবের ব্যবসার পার্টনার হয়ে গিয়েছে। বাবুল এখানে আসাতে এ প্রতিষ্ঠান এর মধ্যেই ফুলে ফেঁপে বেশ বড় হয়ে গেছে। সোলায়মান সাহেব নিজেও যে খুব ভাল মানুষ, তা নয়। তবে সমাজে সোলায়মান সাহেবরা ভদ্র ধনী মানুষ। সমাজে বহু ভদ্রবেশী মানুষের পেছনেই  অদৃশ্য এবং দূষিত আঁধার- এটা বাস্তব চেহারা। বাবুল মাঝে মাঝে এ অফিসে আসে। বাবুল অফিসে এলে তিনি ম্রিয়মাণ হয়ে যান। খুন খারাবী বা মাস্তানির লাইনের মানুষ হলেও ছেলেটার মধ্যে আলাদা স্বাতন্ত্র্যবোধ আছে। সেজন্য তিনি বাবুলের প্রতি অন্যধরণের শ্রদ্ধাবোধও  রাখেন।

সোলায়মান সাহেব ঘড়ি দেখলেন। সময় দেখেই বললেন,
-লাঞ্চ আনাই?
লাঞ্চের প্রসঙ্গ আসতেই শিউলির ভাবনাটা আবার মাথায় এলো বাবুলের। শুধু বলল,
-নিয়ে আনান। তারপর বলল,
নিচে চায়নিজের সিসিটিভিতে দেখেন তো। 
-জ্বী, দেখছি।
-মিজান যেন ঐ রুমের ভিউটা দেখে। আমি যে রুমে বসেছিলাম, সেটা আমি এখন নিজে দেখব।
-জ্বী, আমি বলে দিচ্ছি।

সোলায়মান উঠে পাশের রুমে গেলেন। তার পেছনে পেছনে বাবুলও উঠে এল। মিজান চায়নিজ রেস্টুরেন্টের ভিউগুলো মনিটরে নিয়ে এল। বাবুল দেখতে পেল, রুমে শিউলি এখনো বসে আছে। তার সামনে পুলিশ অফিসারটি বসে আছেন। বাবুল বুঝে ফেলল, সামনে বসা মানুষটাই টিম লিডার। মনিটরে দেখে চুপচাপ ফিরে এসে আবার চেয়ারে বসল বাবুল। তার মাথায় চিন্তার ঝড়। সোলায়মান সাহেবও রুমে ফিরলেন।
বাবুল হঠাৎই বলে বসল, লাঞ্চ আনার জন্য যাবার প্রয়োজন নাই। আমি নিজে যাব।
সোলায়মান সাহেব মোটামুটি লাফ দিয়ে দাঁড়িয়ে গেলেন।  বেশী হয়ে যাবে, বিপদ হবে তো – বললেন তিনি।
আপনি টেনশন নিয়েন না। আমি সামলে নেব পরিস্থিতি। বাবুল ঠাণ্ডা গলায় বলল।
ওয়াশ রুমে শেভিং এর আইটেমগুলো আছে না? বাবুল এবার বলল।
-জ্বী, আছে।
-আচ্ছা, বলেই বাবুল ওয়াশরুমে চলে গেল।
সোলায়মান সাহেব হতভম্ব হয়ে বসে রইলেন। সাত আট মিনিট পর বাবুল বেরিয়ে এলো। হঠাৎ দেখে অপরিচিত লাগল। পরমূহুর্তেই বুঝলেন, বাবুল দাঁড়ি গোঁফ পুরো শেভড হয়ে বেরিয়েছে। সোলায়মান সাহেব ভাবলেন, আহা, দেখতে তো পুরোপুরিই বাচ্চাছেলে মনে হচ্ছে। তবে দাঁড়ি গোঁফে ভালই লাগত।
বাবুল আবার নিজের চেয়ারে বসে চা চাইল। বলল, এবার মগে চা দিতে বলেন। বেশী চা খাবো। মিজান যেন বানায়।
সিগারেট ঠোঁটে নিয়ে ম্যাচলাইটটা জ্বালালো। সিগারেটে প্রথম টান দিতেই মনে হলো, চেহারায় পরিবর্তন তো হলো, ড্রেস নিয়ে ভাবতে হচ্ছে। নাহ, বিপদের সম্ভাবনা আছে, তবে হাল ছাড়বেনা সে।
মিজান চা নিয়ে এলো। মিজানের শার্টটা দেখেই মনে হলো,  এ শার্টটা তার গায়ে লাগবে। যেই ভাবা অমনি সিদ্ধান্ত। বাবুল বলল,
-তুমি তো সব পরিস্থিতি জানো। তাইনা?
-জ্বী বড় ভাই।
-তোমার শার্টটা আমি পরে বেরোবো।  বাবুল বলল।
মিজান সাথে সাথেই বলল, বড় ভাই, অসুবিধা নাই। এখনই দিয়ে দিচ্ছি বলে চা রেখে রুমের বাইরে বেরিয়ে গেল।
মিজানের শার্টটা পেট বরাবর ঢিলে হলেও বাবুল আয়নায় দেখে ভাবল, হুম, এতেই চলবে। মিজানের হাইট প্রায় ওর মতোই, মিজান বোধহয় ইঞ্চি দুই লম্বা বাবুলের চেয়ে। এজন্যেই শার্টটা ঢিলে হলো। আয়নায় দাঁড়িয়ে মাথার চুলে চিরুনি চালালো বাবুল। চুলের সবসময়ের স্টাইলটা পাল্টে মাথার পেছনে চিরুণি চালালো। আয়নায় নিজের চেহারার দেখে ঠোঁটের পাশটায় মৃদু হাসি দিল। প্রায় বদলে এসেছে চেহারা। অফিস রুমে এসে টেবিল হতে জেল পেনগুলো হাতে নিয়ে মনোযোগ দিয়ে  দেখল। হুম, যা খুঁজছিল, সেটা পেয়ে গেছে। ভি ফাইভ জেল পেনের সেভেন মিলি  সাইজেরটা হাতে নিয়ে আবার হাসল সে। সেটা নিয়ে আবার ওয়াশ রুমে চলে গেল বাবুল।
ওয়াশ রুম হতে বেরিয়ে আসার পর এবার সোলায়মান সাহেব ভীমড়ি খেলেন। বাবুল নামের মানুষটা পুরোপুরিই অন্য চেহারার হয়ে গেছে। চুলে সিঁথি নাই। সব চুল মাথায় লেপ্টে পেছনে আঁচড়ানো। মুখে গোঁফ দাঁড়ি ছিল। সেও এখন নেই। সবচেয়ে আশ্চর্য হলেন, তার ডান গালের  মাঝামাঝি জায়গায় তিলটা দেখে। নিখুঁত হয়েছে। চেনাই অসম্ভব।

সোলায়মান সাহেবের হতভম্ব চেহারা দেখে বাবুল মনে মনে আশ্বস্ত হলো। হুম, নতুন চেহারাতে মনে হলো, চলবে। তবে তার আরো আয়োজন লাগবে। সে নিজে  নিশ্চিত হতে চাচ্ছে। চেয়ারে বসে টেবিলের এপাশ হতে ওপাশে চোখ বুলালো। হ্যাঁ, পেয়েছি বলে ম্যাটাডোর বলপয়েন্ট পেনটা তুলে নিলো পেন পট হতে। পেন পট হতে নাইফটা নিয়ে বলপয়েন্ট পেনের  পেছনের অংশের সাদা অংশটা তুলে আনল। এবার সেটার মাঝামাঝি জায়গায় নাইফ দিয়ে আস্তে আস্তে কিছুক্ষণ ঘষতেই সেটার মাঝ বরাবর আলাদা হয়ে গেল। এখন সেটা দেখতে আধ ইঞ্চি লম্বা, বডিটা গোল। হুম, জাস্ট এটাই। চলবে, বাবুল বিড়বিড় স্বরে বলল।

সোলায়মান সাহেব বড় বড় চোখ নিয়ে বাবুলের এসব দেখছেন। বাবুল এবার এই আধ ইঞ্চি সাইজের অংশটা নিয়ে মুখে পুরে নিচের মাড়ির সামনে, ঠোঁটের পেছনটায় রাখল। তারপর জিহ্বা দিয়ে ঠেলে সেটা নিয়ে গেল ঈষৎ ডান পাশে। ঠোঁটের ডান পাশ বরাবর মাড়ির সবচেয়ে নিচে রেখে দিল। মুখটার সে পাশটা ফুলে উঠল। এবার সত্যিই  মনে হচ্ছে অন্য মানুষ। বাবুল এবার স্যাটিসফায়েড। চেয়ারে আবার হেলান দিয়ে বসে সিগারেট ধরিয়ে বলল,
-চা খাওয়ান।  চা খেয়েই বের হবো। আমি সাথে মোবাইল রাখব না। আমি বের হলেই সময় দেখবেন। এখন হতে  তিন মিনিট পর মিজান এখান হতে বের হবে। বিল্ডিং হতে বেরিয়ে বামে যাবে দুইশ গজ। সেখানে মোড়ে সে সাদা জীপটা পাবে। ওটার সাথে আছে বশির। মিজান গিয়ে বশিরের সাথে দাঁড়াবে আমার জন্য। বুঝেছেন?
সোলায়মান সাহেবের পেটের ভেতরটা মোচড়াচ্ছে। তার নার্ভাস লাগছে।
বাবুল রুম হতে বেরিয়ে লিফটের সামনে দাঁড়ালো। হাতের সিগারেটটায় জোরে জোরে টান দিচ্ছে।



চায়নিজ রেস্টুরেন্টে শিউলি বসেই আছে। পুলিশ অফিসারটি নিজের মনে চুপচাপ বসে আছেন। মাঝে মাঝে তিনি নিজের মোবাইলটা দেখছেন। হঠাৎ রিং বাজতেই ফোনটা তুলেই বললেন
-হ্যালো।
-জ্বী স্যার।
-মাই গড! জ্বি স্যার। আশ্চর্য তো! আমি এখনই দেখছি স্যার।
শিউলি পুলিশ অফিসারটির সংলাপগুলোই শুনল। অফিসারটি ওয়ারলেস সেটটা নিয়ে তার টিমের সদস্যদের আসতে বললেন।
সবাই রুমে আসতেই রুমটার চেহারা যেন পালটে গেল। সিনেমায় এ ধরনের দৃশ্য দেখেছে শিউলি। প্রথম অফিসারটি সবার উদ্যেশ্যে বললেন
-আমাদের এখানে সিচুয়েশনের সারপ্রাইজিং ডেভেলপমেন্ট আছে। বাবুল এ বিল্ডিংয়েই আছে। এ বিল্ডিংয়ে যত মোবাইল আছে বা এ বিল্ডিং হতে গত দুই ঘণ্টায় যত রিং হয়েছে বা রিং এসেছে সেগুলোর ডিটেইলস সুইপিং রিপোর্ট অনুযায়ী ভয়াবহ নিউজ আছে। আমাদের এখন পুরো বিল্ডিং এ অপারেশন চালাতে হবে। সে যে ফ্লোরে আছে, তার মোটামুটি আইডিয়া পাওয়া গেছে। আমি ফোর্স পাঠাতে বলছি। তোমরা রেডি হও।
ব্রিফিংটা যখন চলছিল, তখনি রেস্টুরেন্টটার দরজা খুলে ঢোলা শার্ট পড়া, গালে তিলওয়ালা ছেলেটা ভেতরে এলো। সে দরজার পাশের টেবিলে বসে মেন্যু বইটা দেখতে লাগলো। নতুন খদ্দের দেখে ওয়েটার এগিয়ে এলেন।
ওয়েটারটি যখন অর্ডার নিচ্ছিল, সেসময় শিউলি যেখানে বসেছিল, সে রুমের দরজা দিয়ে পুলিশের দলটি বেরিয়ে এলো। তারা সবাই নিজেদের মধ্যে এ বিল্ডিং এর মধ্যেই টার্গেট আছে আলোচনায় মগ্ন অবস্থায় রেস্টুরেন্ট হতে বেরিয়ে গেল। গালে তিলওয়ালা ছেলেটা ঘড়ি দেখল। চার মিনিট পেরিয়ে গেছে।
অর্ডার দেয়া খাবারের জন্য বসে আছে গালে তিলওয়ালা। আবার ঘড়ি দেখল সে। এ সময় ধড়াম শব্দে শিউলি যে রুমে আছে, তার দরজাটা  খুলে গেল। অস্থির হয়ে পুলিশ অফিসারটি বেরিয়ে এলেন। ওয়ারলেস সেটে যা যা বলা হচ্ছে, সব শোনা যাচ্ছে।
-ট্যাংগো ফর ট্যাংগো ওয়ান, আবার বলো। টার্গেট নীচে? ওভার।
-ট্যাংগো ফর ট্যাংগো ওয়ান, টার্গেট লিফট হতে বের হয়েছে, ওভার। ওপাশ হতে শোনা গেল।
-ট্যাংগো ওয়ান ফর ট্যাংগো, ডোন্ট ওয়েস্ট টাইম। আর ইউ শিওর? ওভার। অফিসারটি এ সময় তিলওয়ালার সামনে এসে দাঁড়ালেন। দরজার উদ্যেশ্যে যেতে গিয়ে হঠাৎ থেমে গেলেন।
-ট্যাংগো ফর ট্যাংগো ওয়ান, যে ড্রেস বলা হয়েছিল, সে ড্রেসেই আছে। সেইম ম্যান, ওভার।
-ট্যাংগো ফর ট্যাংগো ওয়ান, শ্যুট হিম ডাউন। শ্যুট হিম ডাউন, ওভার। অফিসারটি বললেন।
মেসেজটা বলার পর প্রায় সাথে সাথেই  প্রথমে দুই রাউন্ড গুলির আওয়াজ শোনা গেল। পরক্ষণেই ছয় সাত রাউন্ড। অল্প বিরতি দিয়ে এবার সিঙ্গেল ফায়ারের শব্দ শোনা গেল। তিলওয়ালা বুঝতে পারল, শেষ গুলিটা দিয়ে পুলিশ 'বাবুলের' মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে।
তিলওয়ালা সময় দেখল। পাঁচ মিনিটের মাথায় অপারেশনটা শুরু হয়। আধ মিনিটও সময় নেয়নি পুলিশ। ছোট নিঃশ্বাস ফেলল তিলওয়ালা। আরো আধ ঘণ্টা পুলিশ এখানে ফর্মালিটিজ সারবে। মিজানের জন্য খারাপ লাগছে তিলওয়ালার। তবে এ অবস্থায় আর উপায়ও ছিল না।

টম ইয়াম স্যুপটা খুব পছন্দের বাবুলের। বসে বসে পুরো স্যুপটা পেটে চালান দিল এবার। সে বুঝতে পারল, পুরো ইস্যু নিয়ে সে টেনশনে ছিল। টেনশন লাগলে খাবারের রুচি বেড়ে যায় বাবুলের। 
-ওয়েটার, এই ওয়েটার। বাবুল মোটামুটি জোরেই বলল।
ওয়েটার আসতেই বলল, পুলিশের অপারেশন শেষ হয়েছে?
-জ্বী স্যার। সব শেষ। সবাই চলে গেছে।

বাবুল উঠে দাঁড়ালো চেয়ার ছেড়ে। আস্তে আস্তে পা বাড়ালো শিউলি যেখানে আছে সেখানে। ও রুমে যেতেই শিউলি ভয় পেয়ে উঠে দাঁড়ালো। এ আবার নতুন ঝামেলা এলো দেখি?
বাবুল এবার বলে উঠল, শিউলি খাবারের অর্ডার দিয়েছিলে যে, খাবার দেয় নাই?
চেহারা ভিন্ন, গলা তো বাবুলের। শিউলি ভয় পেতে গিয়ে থেমে গেল মূহুর্তের জন্য। তারপরেই 'বাবুল' বলে ঝাঁপিয়ে পড়ল ওর আলিঙ্গনে। পরমূহুর্তে দেখা গেল, শিউলির দুই হাতে বন্দী হয়ে আছে তিলওয়ালা, মুখে বিচিত্র চাপা হাসি। মাথা নামিয়ে তিলওয়ালা শুধু বলল,
-তোমার চোখে পানি? চোখ মোছ। আমি বলেছিলাম না, আমার জীবনের পথ আলাদা। সাথে চলতে পারবা যদি মনে হয়, আসো। আমিও তোমার জন্য নিজে বলি হতে রাজী। 
-আই লাভ ইউ, বাবুল। আই লাভ... একই কথা বারবার বলতে বলতে চোখের পানিতে সয়লাব শিউলি।

সাত আট মিনিট পেরিয়ে গেছে। শিউলির চোখের পানি থামছেই না। বাবুল শিউলির মোবাইলটা নিয়ে রিং দিল। ওপাশে হ্যালো বলতেই সে বলল,
-সোলায়মান সাহেব, মিজানের বাবার জন্য খাম নেন। আজ আমি যে খামটা দিয়েছিলাম চায়ের জন্য, ঐ খাম পাঁচশটা নেন। আজ রাতের মধ্যে সেগুলো উনার হাতে পৌঁছাবে।
-জ্বি, সময়মত চলে যাবে। ওপাশ হতে সোলায়মান সাহেব বললেন। বাবুল ফোনটা শিউলির হাতে ফেরত দিল।
-চলো, বের হবো। নিচে এখন আমার গাড়ি চলে এসেছে। আজ হতে তুমি আর বাসায় যাচ্ছ না। আমার সাথেই রইবে। আমি তোমার বাবা মায়ের সাথে যা যা বলার, বলে দেব। রাজী?
তখনি শিউলি দুহাতে জড়িয়ে ধরার জন্য সামনে এগিয়ে এল।

পুনশ্চ

পরদিন। পুলিশ সদর দপ্তর। গতদিনের অপারেশনের রিভিউ হলো। সব নিউজ পেপারে আজ নিউজটা এসে গেছে। পুরো অপারেশন টিম হাজৈ ওখানে। সবার মাথা নিচু। সামনে টেবিলের ওপাশে এডিশনাল ডিআইজি মাসুদ বসে আছেন। তার মুখখানা লাল হয়ে আছে রাগে। বসে বসে টেবিলে রাখা পেপার ওয়েটটা ঘুরাচ্ছিলেন। হঠাৎ পেপারওয়েটটা ছেড়ে উঠে দাঁড়ালেন তিনি। তোমরা সবাই সম্মিলিতভাবে ভয়াবহ ভুল টার্গেট এনগেজ নিয়ে এত খুশি হলে, আমি বুঝতেই পারছিনা! সবাই মিলে এত বড় ভুল- আমি জীবনেও শুনি নাই। পেপারে যেভাবে এসেছে, সে অনুযায়ী বাবুল মারা গেছে। বাট তোমরা মেইন টার্গেট পর্যন্ত পৌঁছাওনি। যে মারা গেছে, তার নাম মিজান। আর তোমরা যখন টার্গেটটা নিয়ে ব্যস্ত হলে, তখন মেইন আসামি তোমাদের পাশে বসে স্যুপ খাচ্ছিল। বিল্ডিং এর সিসিটিভি দেখে যা বুঝেছি, তোমাদের টার্গেট যে জামা পরে অফিসে গিয়েছিল, সে জামা পরে মেইন টার্গেট তখন তোমাদের পাশেই ঐ রেস্টুরেন্টে বসা।সিসিটিভিতে দেখা গেছে, তোমরা চলে আসার বিশ মিনিট পর বাবুল শিউলিসহ ঐ বিল্ডিং হতে বেরিয়েছে। পুলিশ এভাবে ব্লাফ্ড হতে পারে! আমার পুলিশি জীবনে চিন্তায়ও আসেনি এটা। এত ইনটেলিজেন্ট আসামি! শেষ লাইনটা স্বগতোক্তির মতো
বলে থামলেন তিনি। মোটামুটি হাঁপাচ্ছেন উত্তেজনায়। 
-স্যার, আমাদের দুই সপ্তাহ সময় দিন। গতদিনের অফিসারটি বলল।
-আরে বাবা, সিম্পল জিনিসটা বুঝতে পারছনা তুমি? ওর ইয়েও তুমি আর ধরতে পারবে না। সে শিউলিসহ তোমাদের অপারেশনের ছয় ঘণ্টা পরেই দুবাই চলে গেছে। আরো সারপ্রাইজ আছে।  ইমিগ্রেশন পুলিশ হতে ভয়াবহ খবর এসেছে। বাবুল ছদ্মনামে ছিল এতদিন। তার আসল নাম জানা গেছে। সে যে পাসপোর্ট নিয়ে চলে গেছে, সেখানে নাম ছিল হেলমেট জামান।

(গল্পকার এই গল্পটি বিশেষ একটি শৈলীতে রচনা করেছেন যার নাম লিপোগ্রাম। বর্ণমালার কোনও একটি বা কয়েকটি বিশেষ বর্ণকে বাদ দিয়ে রচিত পাঠ্যকে লিপোগ্রাম বলা হয়। লিপোগ্রাম গ্রিক শব্দ lipagrammatos থেকে এসেছে, যার অর্থ missing letter । বাংলা পরিষদ পর্যাভিধান অনুসারে লিপোগ্রামের বাংলা পরিভাষা হলো বর্ণবিরান। 
ফেরারী গল্পে লেখক বোরহান মাহমুদ ‘ক’ বর্ণ বাদ দিয়ে লিখেছেন। লেখকের এই শৈলীতে লেখা আরো একটি গল্প দিনবদলবিডি.কমে ছাপা হয়েছিল। আগ্রহী পাঠক ওই গল্পটি পড়তে ক্লিক করুন-  তুমি আমি)

দিনবদলবিডি/এইচ

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়